প্রচ্ছদ » মুক্তমত » বিস্তারিত

শাহনেওয়াজ খান

সৈকতে শিশুর লাশ : তবুও জাগবে না ইউরোপ?

২০১৫ সেপ্টেম্বর ০৩ ১৪:১৪:৪৪
সৈকতে শিশুর লাশ : তবুও জাগবে না ইউরোপ?

বয়স মাত্র ৩। তার ধারণা নেই এই পৃথিবীর নির্মম কাঁটাতারের রাজনীতি সম্পর্কে। জানে না নিষ্ঠুর যুদ্ধের কারণ। তারপরও এই সীমানার বেড়াজাল ও যুদ্ধের বিভীষিকার শিকার হয়ে নির্মম মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে তাকে।

সমবয়সী অন্য ৮-১০টা শিশু যেমন নির্মল হাসি-আনন্দে মেতে থাকে সিরিয়ার আইলান কুর্দিও ঠিক তেমনি। দেশান্তরী হওয়ার সময়ও শিশুটি বুঝতে পারেনি সে কোথায় যাচ্ছে। এমনকি অন্য দেশের সাগরে ভাসার সময়েও হয়ত তার মধ্যে ছিল না নির্মম পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ার ভীতি। অথচ সেই পরিণতিই বরণ করতে হয়েছে তাকে।

সম্প্রতি সিরিয়া থেকে ইউরোপে পাড়ি দিতে গিয়ে সমুদ্রপথে নৌকাডুবিতে মারা যাওয়া ১২ জনের মধ্যে আইলানও রয়েছে। রয়েছে আইলানের ভাই ৫ বছর বয়সী গালিপও। তাদের লাশ গ্রিসের কোস সৈকতে পাওয়া গেছে।

ওই নৌকাডুবির ঘটনায় মৃতদের মধ্যে পাঁচ শিশু ও এক নারী রয়েছে। গত বুধবার নৌকাডুবির পর তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।

মানবতার জয়গান গাওয়া ইউরোপ সংঘর্ষ ও অভাবের শিকার লোকজনকে জায়গা দিতে কার্পণ্য দেখাচ্ছে। এমনকি সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়াজাল নির্মাণ ও শরণার্থীদের ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও নিয়মিত ঘটছে। এমন অবস্থায় গ্রিসের সৈকতে পড়ে থাকা শিশুর লাশের ছবি নিয়ে বিশ্বব্যাপী সমালোচনা হচ্ছে।

লাল টি-শার্ট ও নীল ট্রাউজার পরিহিত আইলানের লাশের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর অভিবাসী বিরোধী নীতির কঠোর সমালোচনা করছেন সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে মানবাধিকারকর্মীরা।

সমালোচনায় পিছিয়ে নেই গণমাধ্যমগুলোও। ব্রিটিশ বিখ্যাত পত্রিকা ইন্ডিপেন্ডেন্ট লিখেছে, ‘সৈকতে পড়ে থাকা মৃত সিরীয় শিশুর লাশও যদি শরণার্থীদের সম্পর্কে ইউরোপের মনোভাব পরিবর্তন করতে না পারে, তাহলে আর কী পারবে?’ প্রায় একই শিরোনামে খবর প্রকাশ করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাও।

হাফিংটন পোস্ট তো ছবিটি ছাপিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বর্তমানে সবচেয়ে মারাত্মক শরণার্থী সঙ্কট মোকাবেলা করছে বিশ্ব। সঙ্কট মোকাবেলায় ইউরোপ তেমন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে বেশ কয়েকবার অভিযোগ করেছে জাতিসংঘ ও এর অঙ্গ সংস্থাগুলোও।

এমতাবস্থায় শরণার্থী ইস্যু নিয়ে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর জরুরি বৈঠকে বসছেন ইউরোপের নেতারা। তাদের কানে কি পৌঁছাবে আইলানসহ হাজারো শিশুর মৃত্যুর আর্তনাদ?

লেখক : সাংবাদিক