প্রচ্ছদ » ধর্ম » বিস্তারিত

হজের ধর্মতাত্ত্বিক ও দার্শনিক বিশ্লেষণ-১

২০১৫ সেপ্টেম্বর ১১ ১৬:৩২:৩৭
হজের ধর্মতাত্ত্বিক ও দার্শনিক বিশ্লেষণ-১

ড. এম এ মতিন

[হজ অত্যাসন্ন। লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক লা শারিকা লাকা লাব্বাইক- কদিন বাদেই এই ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠবে আরাফা ময়দান। আল্লাহর ডাকে সাড়া দিতে সামর্থ্যবান মুসলমানরা এখন পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মক্কায় হাজির হচ্ছেন। এই হজের বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয়ে পাঠকের জানার অনেক কৌতূহল। পাশাপাশি যারা হজ করতে মক্কায় সমবেত হচ্ছেন তাদেরও গবেষণাধর্মী এই লেখাটি বিশেষ উপকারে আসবে মনে করেই এটি ধারাবাহিকভাবে পত্রস্থ করা হল। বি.স.]

আল্লাহ তা’য়ালা বলেন-

إِنَّ أَوَّلَ بَيْتٍ وُضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِي بِبَكَّةَ مُبَارَكًا وَهُدًى لِّلْعَالَمِينَ فِيهِ آيَاتٌ بَيِّـنَاتٌ مَّقَامُ إِبْرَاهِيمَ وَمَن دَخَلَهُ كَانَ آمِنًا وَلِلّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلاً وَمَن كَفَرَ فَإِنَّ الله غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ

‘মানবজাতির জন্য সর্বপ্রথম যে গৃহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তা তো বাক্কায়,[১] উহা বরকতময় ও বিশ্বজগতের দিশারী। এতে অনেক সুস্পষ্ট নিদর্শন আছে। যেমন— মাকামে ইবরাহীম [২]। আর যে কেউ সেখানে প্রবেশ করে সে নিরাপদ। মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ গৃহের হজ করা তার অবশ্য কর্তব্য। এবং কেউ প্রত্যাখ্যান করলে সে জেনে রাখুক, নিশ্চয়ই আল্লাহ বিশ্বজগতের মুখাপেক্ষী নন’।[৩] মুসলিম বিশ্বের মহা পবিত্র স্থান বায়তুল্লাহ।[৪] হজের সময় বিশ্বের সকল স্থানের মুসলিম কা‘বার প্রান্তরে সমবেত হয়ে একই স্থানে, একই পোশাকে, একই সময়ে, একমাত্র প্রতিপালকের ‘ইবাদত করে, যেখানে থাকে না কোনো শাসক-শাসিতের, ধনী-দরিদ্রের, সাদা-কালোর ব্যবধান; প্রত্যেকেই আল্লাহর সৃষ্টি ও তাঁর গোলাম। হজের মাধ্যমে মুসলিম বিশ্ব পরস্পরের পরিচিতি ও সাহায্য অর্জন করে এবং তারা পুনরুত্থান দিবসকে স্মরণ করে, যে দিন একই ময়দানে হিসাব দেওয়ার জন্য সকলকে উপস্থিত হতে হবে।[৫]

হাজ (ْحَجّ) শব্দটি ‘হা’ (ح) বর্ণে ‘যবর’ (فَتْحِ) যোগে একটি ‘মাসদার’ (الْمَصْدَر)। ‘হা’ বর্ণে ‘যবর’ (فَتْحِ) যোগে অথবা ‘জের’ (كَسْر) যোগে শব্দটি ‘ইসম’ (ِاسْم) বা বিশেষ্যও হয়।[৬] ইব্ন হাজার আল-‘আসকালানী (র.) বলেন, ‘নযদের লোকেরা হাজ (حَجّ) শব্দটি ‘যের’ (كَسْر) যোগে ‘হিজ্জ’ উচ্চারণ করে, আরবের অন্যান্য অঞ্চলের লোকেরা এ শব্দটি ‘যবর’ (فَتْحِ) যোগে ‘হাজ’ উচ্চারণ করে। [৭] হুসাইন আল-যা‘ফীর মতে, ‘হাজ’ (ْحَجّ) শব্দটি ‘হা’ (ح) বর্ণে ‘জের’ (كَسْر) যোগে ‘ইসম’ (ِاسْم) বা বিশেষ্য ও ‘যবর’ (فَتْحِ) যোগে এটি একটি ‘মাসদার’ (الْمَصْدَر)। অন্য সকল ‘আলিম এক্ষেত্রে এর বিপরীত মতও পোষণ করেন।’[৮]

হজ (حَجّ) শব্দের অর্থ যেকোনো ধরনের ইচ্ছা করা, সংকল্প করা বা অভিপ্রায়।[৯] এ শব্দটি ইচ্ছা করা অর্থে নিম্নরূপভাবে ব্যবহৃত হয়- حَجَّهُ يَحُجُّه حَجّا।[১০] কোনো ব্যক্তির আগমনের কামনা করা বুঝাতে হজ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। যেমন— কোনো ব্যক্তি বলল, حَجَجْتُ فُلاناً বা اعْتَمَدْتُه ‘আশা করি অমুক ব্যক্তি আসবে। অনুরূপভাবে رجلٌ مَحْجُوجٌ বাক্য দ্বারা ‘কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিকে’ বোঝানো হয়।[১১] ইব্ন মানযূর বলেন, ‘হজ হলো, শরী‘য়াত নির্ধারিত ফরয ও সুন্নাত কার্যাবলী প্রতিপালনের উদ্দেশ্যে বায়তুল্লাহ শরীফে গমন করার ইচ্ছা করা। যেমন বলা হয়, حَجَجْتُ البيتَ أَحُجُّه حَجًّا ‘আমি আল্লাহর ঘরের প্রতি ইচ্ছা পোষণ করেছি, যথাযথভাবে আমি উহার হজ পালন করব।’[১২]

একদল অভিধান বেত্তার মতে হজ (حَجّ) শব্দ দ্বারা বিশেষ বা মহৎ কোনো ইচ্ছাকে বোঝায়।[১৩] কেউ কেউ বলেন, হজ শব্দ দ্বারা মহৎ কোনো উদ্দেশ্যের প্রবল ইচ্ছাকে বোঝানো হয়।[১৪] হজ শব্দটি ‘আগমন করা’ (القُدُومُ) অর্থেও ব্যবহৃত হয়। যেমন বলা হয়-حَجَّ علينا فلانٌ أَي قَدِمَ. ‘অমুক ব্যক্তি আমাদের কাছে আগমন করেছে’।[১৫] আরবি ভাষায় এ শব্দটি আরও কিছু অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যেমন— কোথাও উপস্থিত হওয়া, ভ্রমণ করা, দলিল প্রমাণে জয়লাভ করা, কিছুতে মনোনিবেশ করা ইত্যাদি।[১৬] ইব্ন হাজার আল-‘আসকালানী (র.) বলেন, ‘হজ শব্দের অর্থ ইচ্ছা করা, এটি কাজের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, যা একটির পর অপরটি আসে।’[১৭] প্রথমে হজের নিয়ত করতে হয়। এরপর তার কার্যাবলী সম্পাদন করতে হয়। সামগ্রিকভাবে এ দুটির সমন্বয়কেই হজ বলে।

পরিভাষায় হজ হল, নির্ধারিত সময়ে পবিত্র গৃহে নির্দিষ্ট কার্যাবলী সম্পাদনের ইচ্ছা করা।[১৮] আল-জুরজানীর মতে, ‘আল্লাহর ঘর পবিত্র কা‘বায় নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট শর্তাবলী পূর্ণ করে বিশেষ কিছু কার্যাবলী সম্পাদন করার ইচ্ছা পোষণ করাকে হজ বলে।[১৯] অন্য কথায় হজ হচ্ছে, আল্লাহর সন্তষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তাওয়াফ, সা‘য়ী, ‘আরাফাহ ময়দানে অবস্থানসহ হজের সকল আহকাম পালন করার জন্য মক্কায় গমন করার ইচ্ছা করা।[২০] কারো মতে, বিশেষ কিছু কাজ করার নাম হজ, যা বিশেষ সময়ে বিশেষ স্থানে পালন করা হয়।[২১] ইব্ন হাজার আল-‘আসকালানী (র.) উল্লেখ করেছেন, ‘কোনো ব্যক্তির জীবনে ‘মানত’-এর মতো বিশেষ কোনো অবস্থা ব্যতীত দ্বিতীয়বার হজ করা অপরিহার্য হয় না।[২২]

হজ ফরয হওয়ার সময়ের ব্যাপারে ‘আালিমগণের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। কারো কারো মতে, হিজরতের পূর্বে হজ ফরয হয়েছে। ইব্ন হাজার আল-‘আসকালানী (র.) এ মতটিকে ‘শাজ’[২৩] হিসেবে উল্লেখ করেছেন।[২৪] কারো কারো মতে হিজরতের পরে হজ ফরয হয়েছে। জমহুর ওলামার মতে, ষষ্ঠ হিজরিতে হজ ফরয হয়েছে।”[২৫] তারা যুক্তি হিসেবে নিম্নের আয়াতটি উপস্থাপন করে বলেন যে, এ আয়াতটি ষষ্ঠ হিজরিতে অবতীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে হজ ফরয হয়েছে। আল্লাহ তা‘য়ালা বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ ও ‘উমরাহ পূর্ণ কর। কিন্তু তোমরা যদি বাধাপ্রাপ্ত হও তবে সহজলভ্য কোরবানি করবে। যে পর্যন্ত কোরবানির পশুর স্থানে না পৌঁছে তোমরা মস্তক মুণ্ডন করবে না। তোমাদের মধ্যে যদি কেউ পীড়িত হয় কিংবা মাথায় কেশ থাকে তবে সিয়াম কিংবা সাদাকা অথবা কোরবানির দ্বারা তার ফিদয়া দিবে। যখন তোমরা নিরাপদ হবে তখন তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি হজের প্রাক্কালে ‘উমরা দ্বারা লাভবান হতে চায় সে সহজলভ্য কোরবানি করবে। কিন্তু যদি কেহ তা না পায় তবে তাকে হজের সময় তিন দিন এবং গৃহে প্রত্যাবর্তনের পর সাত দিন—এই মোট দশ দিন সিয়াম পালন করতে হবে। এটা তাদের জন্য, যাদের পরিজনবর্গ মসজিদুল হারামের বাসিন্দা নয়। আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রাখ যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ শাস্তি দানে কঠোর’।[২৬]

কারো কারো মতে, নবম হিজরিতে হজ ফরয হয়েছে। তাদের যুক্তি হল যে, নিম্নবর্ণিত আয়াত দ্বারা হজ ফরয হয়েছে এবং এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয় নবম হিজরিতে। আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, ‘আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের প্রতি অপরিহার্য করে দেওয়া হল তাঁর ঘরে হজ করা, যাদের সামর্থ্য আছে, আর যারা তা করতে অস্বীকার করবে তাদের জেনে রাখা উচিত আল্লাহ সমগ্র সৃষ্টিজগতের ঊর্ধ্বে’।[২৭] কেউ যদি আল্লাহর এ নির্দেশ অমান্য করে ও তিনি যে হজ ফরয করেছেন তা পালন না করে বা করতে অস্বীকার করে তবে তার জেনে রাখা উচিত যে আল্লাহ তার সম্পদের ও তার হজের চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে। শুধু তাই নয়, তিনি মানব ও জিন এমনকি সমস্ত সৃষ্টিকূলের চেয়েও অনেক ঊর্ধ্বে।[২৮]

প্রাপ্তবয়স্ক, স্বাধীন, সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য জীবনে একবার হজ আদায় করা ফরয। [২৯] ইমাম গাযালী (র.) হজের পাঁচটি শর্ত উল্লেখ করেছেন। যথা— মুসলিম, প্রাপ্তবয়স্ক, স্বাধীন, জ্ঞানী বা বুদ্ধিমান ও সামর্থ্যবান হওয়া। সুতরাং যদি কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক বা গোলাম ব্যক্তি ইহরাম বাঁধে এবং ‘আরাফার দিন নাবালেগ বালেগ ও গোলাম আযাদ হয়ে যায় অথবা মুযদালিফায় এরূপ হয় আর সুবহে সাদিকের পূর্বে ‘আরাফায় চলে যায় তবে তাদের সে হজ দ্বারাই ফরয আদায় হয়ে যাবে।[৩০] তবে হজ শুদ্ধ ও জায়েয হওয়ার জন্য শর্ত মাত্র দু’টি। যথা— হজের ওয়াক্ত হওয়া ও মুসলমান হওয়া। সুতরাং কোনো শিশু হজ করলে তা শুদ্ধ ও জায়েয হবে যদি সে ভালো-মন্দ কিছু বুঝতে পারে, তবে নিজের ইহরাম নিজেই বাঁধবে। আর যদি তা না বুঝতে পারে তবে তার পক্ষ থেকে অলী তার ইহরাম বাঁধবে এবং হজের কাজগুলো যেমন তাওয়াফ, সায়ী ইত্যাদি করিয়ে দিবে।[৩১]

হজের সামর্থ্য থাকার অর্থ হল, প্রথমত, হজ আদায়কারীকে সুস্থ ও নীরোগ হতে হবে। দ্বিতীয়ত, পথিমধ্যে যে সমস্ত প্রয়োজনীয় জিনিস সঙ্গে থাকা চাই তার ব্যবস্থা থাকতে হবে। জলপথে, আকাশপথে বা স্থলপথে কোনোরূপ আশঙ্কা বা ভয়-ভীতি থাকবে না।[৩২] তৃতীয়ত, হজে গমন করা ও হজ সমাধা করে দেশে প্রত্যাবর্তন করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ মজুদ থাকতে হবে। সে যাদের ভরণ-পোষণের জিম্মাদার তাদের খরচপত্র তার ফিরে আসার সময় পর্যন্ত মজুদ রাখতে হবে। কোনো বিকলাঙ্গ ব্যক্তির জন্য সামর্থ্যের অর্থ, এ পরিমাণ অর্থ থাকা যা দ্বারা সে নিজের পক্ষ থেকে অন্য কোনো ব্যক্তিকে হজ করতে পাঠাতে পারে। তবে যাকে পাঠাবে সে প্রথমে তার নিজের ফরয হজ আদায় করবে। তারপরের বছর সে বিকলাঙ্গের পক্ষ থেকে হজ করতে যাবে।

উল্লিখিত শর্তানুযায়ী যার যার হজের সামর্থ্য উপস্থিত হয়ে যায়, সাথে সাথে তার ওপর হজ করা ওয়াজিব হয়। হজ তাৎক্ষণিক না বিলম্বে আদায়ের অবকাশ সাপেক্ষ ফরয— এ ব্যাপারে আলিমগণের মতভেদ রয়েছে। ইমাম আবূ হানীফা, মালিক, আহমদ ও আবু ইউসূফ (র.)-এর মতে হজ বিলম্বে আদায়ের সুযোগ সাপেক্ষে ফরয নয় বরং তাৎক্ষণিক আদায় করা ফরয। অবশ্য ইমাম আবূ হানীফা (র.)-এর সর্বশেষ উক্তিতে হজ বিলম্বে সময়-সুযোগ সাপেক্ষে ফরয বলে উল্লেখ আছে। ইমাম শাফে’য়ী, মুহাম্মদ, সুফিয়ান সাওরী ও আওযায়ী (র.)-এর মতে হজ তাৎক্ষণিক নয় বরং বিলম্বে সুযোগ সাপেক্ষে ফরয। কাজী ‘আয়াজ (৫৪৪ হিজরি) বলেন, ‘একদল ‘ইরাকি ‘আলেমের মতে হজ বিলম্বে সময়-সুযোগ সাপেক্ষে ফরয। ইমাম আবূ ইউসূফ ও আল-মাযানী এ মতের পক্ষে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ইমাম মুহাম্মদ ও হাসান (র.) বলেন, হজ তাৎক্ষণিক নয় বরং বিলম্বে সুযোগ সাপেক্ষে ফরয।’[৩৩] অবশ্য বিলম্বেও হজ করা জায়েয হবে। কিন্তু তাতে হজ আদায় করতে না পারার আশঙ্কা থেকে যায়। হজ ফরয হয়ে গেলে জীবনের শেষ মুহূর্তেও যদি হজ আদায় করে তবে তার হজ আদায় হবে। যদি হজ ফরয হওয়ার পর আদায়ের পূর্বে কারো মৃত্যু হয়ে যায়, তবে সে হজের জিম্মা মাথায় নিয়ে আল্লাহর দরবারে হাজির হবে। তার ত্যাজ্য সম্পত্তি থেকে হজ করানো প্রয়োজন হবে। যদিও সে এ জন্য কাউকে অসীয়ত না করে যায়। ইমাম গাযালী (র.) বলেন, ‘যদি কারো ওপর কোনো বছর সমস্ত শর্তাদির দৃষ্টিতে হজ ফরয হয়ে যায়। কিন্তু সে বছর হজ আদায় না করে, তারপর হজের সময় আসার পূর্বেই যদি তার ধন-সম্পদ হাত থেকে চলে যায় এবং অন্যান্য শর্তাদিও বর্তমান না থাকে, আর এমনি অবস্থায় সে মৃত্যুবরণ করে তবে তাকে হজের জন্য পাকড়াও হতে হবে না। ইমাম গাযালী (র.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি হজের যাবতীয় শর্তাদি বলবৎ এবং আর্থিক সামর্থ্য বজায় থাকা সত্ত্বেও হজ আদায় না করে মারা যায় সে ব্যক্তি গুরুতর পরিণতির সম্মুখীন হবে।’ [৩৪]

হজের প্রথম কাজ ইহরাম বাঁধা, যা মীকাত থেকে সম্পন্ন করতে হয়। সুতরাং মীকাত হজের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
‘মীকাত’ একটি আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ নির্দিষ্ট সময় বা স্থান। হারাম সীমায় প্রবেশে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য ইহরাম ছাড়া যে স্থান অতিক্রম করা জায়িয নয়, শরী‌’আতের পরিভাষায় সে স্থানকে মীকাত বলে। মীকাত তিন প্রকার। যথা—

১. আফাকী লোকদের মীকাত
২. হিলী লোকদের মীকাত ও
৩. হরমী লোকদের মীকাত

হিলী অর্থাৎ মীকাতের ভেতরে তবে হরমের এলাকার বাইরে বসবাসকারী লোকদের মীকাত ভিন্ন এবং হরমী অর্থাৎ হরমের চৌহদ্দিতে বসবাসকারী লোকদের মীকাত ভিন্ন। যারা মীকাতের ভেতরে এবং হরমের এলাকার বাইরে বসবাস করে তাদের মীকাত সমগ্র হিলী এলাকা। অর্থাৎ হরমের চৌহদ্দির বাইরের এলাকা। কাজেই হজ ও ‘উমরার জন্য তারা হিলী হতে ইহরাম বাঁধবে। তবে তাদের নিজ নিজ বাড়ি হতে ইহরাম বাঁধা সবচেয়ে উত্তম। আর যারা হরম এলাকার ভেতরে বসবাস করে তাদের হজের মীকাত সমগ্র হরম এলাকা এবং ‘উমরার ইহরামের মীকাত সমগ্র হিলী এলাকা। যদি মক্কার কোনো অধিবাসী মীকাতের বাইরে গমন করে তাহলে প্রত্যাবর্তনকালে বহির্বিশ্বের লোকদের ন্যায় তাদের জন্যও মীকাত হতে ইহরাম বাঁধা ওয়াজিব।[৩৫]

আফাকী অর্থাৎ মীকাতের বাইরে বসবাসকারী লোকদের মীকাত পাঁচটি।[৩৬] যথা—

ক. যুল-হুলায়ফা বা বীরে ‘আলী- এ স্থানটি মদীনাবাসী এবং এ পথে মক্কা শরীফে আগমনকারী লোকদের মীকাত।
খ. যাতু ইরাক- এ স্থানটি ‘ইরাকবাসী এবং এ পথে আগমনকারী লোকদের মীকাত।
গ. জুহফা- এ স্থানটি সিরিয়াবাসী এবং এ পথে আগমনকারী লোকদের মীকাত।
ঘ. কার্ন- এ স্থানটি নজদবাসী এবং এ পথে আগমনকারী লোকদের মীকাত।
ঙ. ইয়ালামলাম- এ স্থানটি ইয়ামনবাসী এবং বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারতীয় উপমহাদেশসহ প্রাচ্য ও দূর প্রাচ্য হতে যারা এ পথে হজ করতে যায় তাদের মীকাত। (চলবে)


লেখক : সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজ।

পাদ টীকা:

১. বাক্কা : মক্কার অপর নাম বাক্কা। ইব্ন খালদুন বালেন, هذا شأن مكة وخبرها وتسمى أم القرى، وتسمى الكعبة لعلوها من اسم الكعب، ويقال لها أيضاً بكة: لأن الناس يبك بعضهم بعضاً إليها أي يدفع. وقال مجاهد: إنما هي باء بكة أبدلوها ميماً وقال ا لنخعي: بالباء للبيت - وبالميم للبلد. وقال الزهري: بالباء للمسجد كله وبالميم للحرم ‘মক্কাকে ‘উম্মুল-কূরা’ নামকরণ করা হয়, আর মর্যাদার দিক থেকে কাবার অবস্থান সুউচ্চে হওয়ার কারণে এ ঘরটিকে
কা’বা বলা হয়। এ নগরীকে ‘বাক্কা’ও বলা হয়। যেহেতু মানুষেরা দলে দলে এর দিকে আসত তাই এটাকে ‘বাক্কা’ বলা হয়। মুজাহিদ (র.) বলেন, ‘এ স্থানটির নাম প্রথমে ‘বাক্কা’ ছিল পরবর্তীতে এর ‘বা’ বর্ণটি পরিবর্তিত হয়ে ‘মীম’ হয়ে গেলে এর নামকরণ হয় ‘মক্কা’।’ নখ’য়ী (র.) বলেন, ‘বাক্কা’ শব্দ দ্বারা বায়তুল্লাহকে বোঝানো হয় আর ‘মক্কা’ শব্দ দ্বারা মক্কানগরীকে বোঝানো হয়। ইমাম যুহরী (র.) বলেন, ‘বাক্কা’ শব্দ দ্বারা সামগ্রিকভাবে সিজদার স্থানসমূহকে বোঝানো হয়, কিন্তু ‘মক্কা’ শব্দ দ্বারা শুধু ‘হেরেম শরীফ’কে বোঝানো হয়।” [দ্র. ইবন খালদুন, মুকাদ্দামাতু ইব্ন খালদুন, ১ম খণ্ড, (কায়রো : দারু’ল ‘উলূম, তা: বি:), পৃ. ১৯৭।]; ইবনুল জাওযী বলেন, تسمى: الباسة، وتسمى: بكة، তার নামকরণ করা হয় ‘আল-বাছা’ অতঃপর ‘বাক্কা’। [দ্র. ইবনুল জাওযী, আল-মুনতাযাম, ১ম খণ্ড (লেবানন : দারু কিতাবু’ল ‘এলমিয়্যাহ, ১৯৯২ খ্রি.), পৃ. ২৩৪]। আত-তাবারী বলেন, تسمى الناسة، وتسمى بكة ‘এ ঘরটির নামকরণ করা হয় ‘আন-নাছা’ অতঃপর ‘বাক্কা’। [দ্র. মুহাম্মদ ইব্ন জারীর ইব্ন ইয়াযীদ ইব্ন কাছীর ইব্ন গালিব আল-আমালী আবূ জা‘ফর আত-তাবারী, তারীখু রুসূল ওয়াল মুলূক, ১ম খণ্ড (কায়রো: দারুল মা’য়ারিফ, ১৯৬০ খ্রি.), পৃ. ৩৮৪]।

২. মাকামে ইবরাহীম : ‘আব্দুর রহমান আস-সা‘ঈদী বলেন, { مقام إبراهيم } يحتمل أن المراد به المقام المعروف وهو الحجر الذي كان يقوم عليه الخليل لبنيان الكعبة لما ارتفع البنيان، وكان ملصقا في جدار الكعبة ‘মাকামে ইবরাহীম বলতে দণ্ডায়মান হওয়ার ঐ পরিচিত পাথরকে বোঝানো হয়, যে পাথরের উপর দাঁড়িয়ে হযরত ইবরাহীম (আ.) কা‘বা শরীফের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছিলেন যখন উহা উঁচুস্তরে পৌঁছেছিল। দ্র. ‘আব্দুর রহমান আস-সা‘ঈদী, আত-তাফসীরুস সা‘ঈদী, ১ম খণ্ড, পৃ. ১৩৮।

৩. আল-কুরআন, সূরা আলে ‘ইমরান ৩ : ৯৬-৯৭।

৪. মানবজাতির জন্য প্রতিষ্ঠিত প্রথম গৃহ কা’বা ঘর (বায়তুল্লাহ্‌)। ‘আব্দুর রহমান ইবন নাসের ইবন সা’ঈদী বলেন-يخبر تعالى عن شرف هذا البيت الحرام، وأنه أول بيت وضعه الله للناس، يتعبدون فيه لربهم فتغفر أوزارهم، وتقال عثارهم، ويحصل لهم به من الطاعات والقربات ما ينالون به رضى ربهم والفوز بثوابه والنجاة من عقابه، ‘আয়াতে আল্লাহ্‌ তা‘য়ালা পবিত্র এ ঘরের মর্যাদা সম্পর্কে এরশাদ করেছেন। তিনি মানুষের জন্য প্রথম এ ঘরটিই সৃষ্টি করেন, যাতে তারা এখানে তাদের প্রতিপালকের নিকট প্রার্থনা করে স্বীয় পাপসমূহ হতে মুক্ত হতে পারে এবং তাদের প্রয়োজনীয় সবকিছু চাইতে পারে। মানুষেরা যেন এর মাধ্যমে আল্লাহ্‌র আনুগত্য প্রকাশের মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য লাভ করতে পারে, যার মাধ্যমে তাদের প্রতিপালকের সন্তুষ্টি ও বিজয় অর্জিত হয় ও শাস্তি থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব হয়’। (দ্র. ‘আব্দুর রহমান ইব্ন নাসের ইব্ন সা‘ঈদী, তাইসীরুল-কারিম আর-রহমান ফী তাফসীরি কালামিল মানার, ১ম খণ্ড (মিসর : আল-মাতবা‘য়াতুস সালফীয়্যহ, প্রথম প্রকাশ-১৩৭৫হি.) পৃ. ১৩৮; কাজী ‘আয়াজ ইব্ন মূসা, কিতাবুস সিফা বি তা‘রিফি হুকুমিল মুজতাবা, ২য় খণ্ড (দারু’ল ফিকর, লেবানন, প্রথম প্রকাশ-২০০৪খ্রি.), পৃ.১৬৪।

৫. أن فيه اجتماع المسلمين من كل مكان ، يلتقون في مكان واحد ، ويلبسون زيًّا واحدا ، ويعبدون ربًّا واحدا في وقت واحد ، لا فرق بين رئيس ومرؤوس ، وغني وفقير ، وأبيض وأسود ، الكل خلق الله وعباده ، فيحصل للمسلمين التعارف والتعاون ، ويتذكرون يوم يبعثهم الله جميعا ويحشرهم في صعيد واحد للحساب দ্র. ‘আব্দুর রহমান ইব্ন হাম্মাদ, দ্বীইনু’ল-হাক, ১ম খণ্ড (সৌদি আরব : অযারাতুস সু’য়ুনুল ইসলামীয়্যাহ, আল-মামালাকাতুল ‘আরাবিয়্যা আস সা’উদীয়্যাহ, ১৪২০ হি.), পৃ. ৭২।

৬. الْحَجّ : بِفَتْحِ الْحَاء هُوَ الْمَصْدَر ، وَبِالْفَتْحِ وَالْكَسْر جَمِيعًا هُوَ الِاسْم مِنْهُ দ্র. ইমাম নববী (র.), শারহু ‘আলা মুসলিম, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ২১২।

৭ . أن الكسر لغة أهل نجد والفتح لغيرهم দ্র. ইবন হাজার আল-‘আসকালানী, ফতহুল বারী, ৩য় খণ্ড পৃ. ৩৭৮।

৮. ونقل عن حسين الجعفي أن الفتح الاسم والكسر المصدر، وعن غيره عكسه দ্র. প্রাগুক্ত।

৯. বদরুদ্দীন আবূ মুহাম্মদ আহমদ ইব্ন আহমদ আল-‘আইনী, ‘উমদাতু’ল কারী শারহু সহীহুল বুখারী, ৪র্থ খণ্ড (মাকতাবাতুস শামেলা, দ্বিতীয় সংস্করণ, ২০০০ খ্রি.), পৃ. ১৭১; ‘আব্দুর রহমান ইব্ন হাম্মাদ, দ্বীন‘উল-হাক, ১ম খণ্ড (সৌদি আরব: এযারাতু সু‘য়ুনু’ল-ইসলামীয়্যাহ, আল-মামালাকাতু’ল ‘আরাবীয়্যাতুস সা‘উদীয়্যাহ, ষষ্ঠ সংস্করণ- ১৪২০ হি.), পৃ. ৭২; ‘আলাউদ্দীন আস-সমরকন্দী, তুহফাতু’ল-ফুকাহা, ১ম খণ্ড (লেবানন: দারু’ল-কিতাবিল ‘এলমীয়্যাহ, বৈরুত, দ্বিতীয় সংস্করণ-১৪১৪হি./ ১৯৯৪ খ্রি.), পৃ.৩৭৯।

১০. الحَجُّ : القَصْدُ " مُطْلَقاً . حَجَّهُ يَحُجُّه حَجّاً দ্র. মুহাম্মদ ইব্ন মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুর রাজ্জাক আল-হুসাইনী, আবুল-ফাইয, তাজুল-‘আরুস, ১ম খণ্ড (লেবানন : দারু এহইয়াউ তুরাছ আল ‘আরাবী, বইরুত, ১৯৮৪ খ্রি.), পৃ. ১৩৫০।

১১. আবুল-ফাইয, তাজুল-‘আরুস, ১ম খণ্ড, পৃ. ১৩৫০।

১২. الحجُّ قَصْدُ التَّوَجُّه إِلى البيت بالأَعمال المشروعة فرضاً وسنَّة تقول حَجَجْتُ البيتَ أَحُجُّه حَجًّا إِذا قصدته দ্র. ইব্ন মানযূর, লিসানুল ‘আরব, ২য় খণ্ড, পৃ. ২২৬।

১৩. আবুল-ফাইয, তাজুল-‘আরুস, ১ম খণ্ড, পৃ. ১৩৫০।

১৪. هو كَثْرَةُ القَصْدِ لمُعَظَّمٍ দ্র. প্রাগুক্ত।

১৫. প্রাগুক্ত।

১৬. সাইয়্যেদ সাবিক, ফিকহুস-সুন্নাহ, ১ম খণ্ড (জেদ্দা : মাকতাবাতু খিদমাতি হাদিয়া, তা.বি.), পৃ. ৫৫৩ ; কাওয়া‘য়িদুল ফিকহ, ১ম খণ্ড, পৃ. ২০৯ ; মওসু‘য়াতু ‘আরাবীয়া, ১ম খণ্ড, পৃ. ৬৮৯।

১৭. وَأَصْله : الْقَصْد ، وَيُطْلَق عَلَى الْعَمَل أَيْضًا ، وَعَلَى الْإِتْيَان مَرَّة بَعْد أُخْرَى দ্র. ইব্ন হাজার আল-‘আসকালানী, ফতহুল বারী, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৩৭৮।

১৮. وفي الشرع القصد إلى البيت الحرام بأعمال مخصوصة দ্র. প্রাগুক্ত।

১৯. قصدٌ لبيت الله تعالى بصفة مخصوصة، في وقت مخصوص، بشرائط مخصوصة. দ্র. আল-জুরজানী, আত-তা‘আরীফাত, ১ম খণ্ড (আল-মাকতাবাতুস শামেলা, দ্বিতীয় সংস্করণ, ২০০০ খ্রি.), পৃ. ২২৬।

২০. ‘আব্দুদ্দাইয়্যান মুহাম্মদ ইউনুস, ইসলামে হজ ও ‘উমরা (ঢাকা : বাইতুল হিকমাহ প্রকাশন, ডিসেম্বর -২০০৪ খ্রি.), পৃ. ৫৯।

২১. J M Cowan, The hands where dictionary of modern written Arabic (third edition 1976, Spoken Language Service Inc), p.166.

২২ وأجمعوا على أنه لا يتكرر إلا لعارض كالنذر দ্র. ইবন হাজার আল-‘আসকালানী, ফতহুল বারী, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৩৭৮।

২৩. সাজ : এটি উসূলে হাদীসর একটি পরিভাষা যা, উসূলে ফিকহের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। এটা সবসময় কিয়াসের বিপরীতে ব্যবহৃত হয়। সাজ দুই প্রকার যথা— সাজে-মাকবুল ও সাজে মারদূদ। আল-জুরজানী বলেন-ما يكون مخالفاً للقياس، من غير نظر إلى قلة وجوده وكثرته. وهو على نوعين: شاذ مقبول، وشاذ مردود، أما الشاذ المقبول، فهو الذي يجيء على خلاف القياس، ويقبل عند الفصحاء، والبلغاء، وأما الشاذ المردود، فهو الذي يجيء على خلاف القياس، ولا يقبل عند الفصحاء، والبلغاء । (দ্র. আল-জুরজানী, আত-তা‘রীফাত, ১ম খণ্ড, পৃ. ৪০ )

২৪. في وقت ابتداء فرضه فقيل: قبل الهجرة وهو شاذ দ্র. ইবন হাজার আল-‘আসকালানী, ফতহুল বারী, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৩৭৮।

২৫. فالجمهور على أنها سنة ست لأنها نزل فيها قوله تعالى: {وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلَّهِ} দ্র. প্রাগুক্ত।

২৬. وَأَتِمُّواْ الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلّهِ فَإِنْ أُحْصِرْتُمْ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْيِ وَلاَ تَحْلِقُواْ رُؤُوسَكُمْ حَتَّى يَبْلُغَ الْهَدْيُ مَحِلَّهُ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضاً أَوْ بِهِ أَذًى مِّن رَّأْسِهِ فَفِدْيَةٌ مِّن صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍ فَإِذَا أَمِنتُمْ فَمَن تَمَتَّعَ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْيِ فَمَن لَّمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلاثَةِ أَيَّامٍ فِي الْحَجِّ وَسَبْعَةٍ إِذَا رَجَعْتُمْ تِلْكَ عَشَرَةٌ كَامِلَةٌ ذَلِكَ لِمَن لَّمْ يَكُنْ أَهْلُهُ حَاضِرِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَاتَّقُواْ اللّهَ وَاعْلَمُواْ أَنَّ اللّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ দ্র. আল-কুরআন, সূরা বাকারা ২ : ১৯৬।

২৭. وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا وَمَنْ كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ দ্র. আল-কুরআন, সূরা আলে ‘ইমরান ৩ : ৯৭।

২৮. ومن جَحد ما ألزمه الله من فرض حَجّ بيته، فأنكره وكفر به، فإن الله غنيّ عنه وعن حجه وعمله، وعن سائر خَلقه من الجن والإنس، দ্র. মুহাম্মদ ইব্ন জারীর ইব্ন ইয়াযীদ ইব্ন কাছীর ইব্ন গালিব আল-‘আমালী আবূ জা‘ফর আত-তাবারী, জামি‘উল বাইয়ান ফী তা’বিলিল-কুরআন, ৬ষ্ঠ খণ্ড (সৌদি‘আরব : মুয়া’সসাসাতুর রিসালাহ, প্রথম প্রকাশ- ১৪২০ হি./ ২০০০ খ্রি.), পৃ. ৪৭।

২৯. والحجَ فريضة على الأعيان الأحرار المستطيعن مرة فى العمر ، هذا ما أجمع المسلمون عليه দ্র. আল-‘আল্লামাহ কাজী আবূল ফযল ‘আয়ায, ইকমালু’ল মু‘য়াল্লিম শারহু সহীহুল মুসলিম, ৪র্থ খণ্ড (তিউনিসীয়া : আল-মাকতাবাতু’ল ‘আতীকাহ, তিউনিস, ৫৪৪ হি.), পৃ. ৮৪। (বি. দ্র. এ সূত্রটি পরবর্তীতে, “কাজী ‘আয়াজ, কামালু’ল মু‘য়ালি¬ম শারহু সহীহু’ল-মুসলিম” হিসেবে ব্যবহৃত হবে।)

৩০. وأما شروط وقوعه عن حجة الإسلام فخمسة: الإسلام والحرية والبلوغ والعقل والوقت. فإن أحرم الصبي أو العبد ولكن عتق العبد وبلغ الصبي بعرفة أو بمزدلفة وعاد إلى عرفة قبل طلوع الفجر أجزأهما عن حجة الإسلام لأن الحج عرفة দ্র. আবু হামেদ আল-গাযালী, এহইয়াউ ‘উলূমিদ্দীন, ১ম খণ্ড (লেবানন: দারুন নাহজাতুল-‘আরাবিয়্যাহ, বৈরুত, ১৯৯৮ খ্রি.), পৃ. ২৫৫;شرالْط وجوب الحج عندنا : الاسلام ، والحرية ، والعقل ، والبلوغ ، والاستطاعة ، وشرحها القدرة على أداء الحج بنفسه إما راجلا أو راكبا ، والزاد لمن ليس له عادة بالسوال ، وتخليهّ الطريق حتى يمكن فيه - السير على العادة দ্র. কাজী ‘আয়াজ, কামালু’ল মু‘য়াল্লিম শারহু সহীহুল মুসলিম, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৮৪।

৩১. فشرط صحة الحج اثنان: الوقت والإسلام. فيصح حج الصبي ويحرم بنفسه إن كان مميزاً ويحرم عنه وليه إن كان صغيراً ويفعل في الحج من الطواف والسعي وغيره দ্র.আল-গাযালী, এহইয়াউ ‘উলূমিদ্দীন, ১ম খণ্ড, পৃ. ২৫৫।

৩২. أحدهما المباشرة وذلك له أسباب أما في نفسه فبالصحة، وأما في الطريق فبأن تكون خصبة آمنة بلا بحر مخطر ولا عدو قاهر দ্র. প্রাগুক্ত।

৩৩. فالذى يحكى العراقيون عن المذهب أنه على الفور ، وهو قول أبى يوسف والمزنى ، وقال ابن خويز منداد : تحصيل مذهبنا أنه على التراخى ، وهو قول محمد بن الحسن দ্র. কাযী ‘আয়ায ইকমালু’ল মু‘য়াল্লিম শারহু সহীহুল মুসলিম, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৮৪।

৩৪. ومن مات ولم يحج مع اليسار فأمره شديد عند الله تعالى. দ্র. আল-গাযালী, এহইয়াউ ‘উলূমিদ্দীন, ১ম খণ্ড, পৃ. ২৫৫।

৩৫. সম্পাদনা পরিষদ, ফাতাওয়া ও মাসাইল, ৪র্থ খণ্ড (ঢাকা : ইসলামিক ফাউন্ডেশন, আগারগাঁও; প্রথম প্রকাশ জুন ১৯৯৯ খ্রি.), পৃ. ১৭৪।

৩৬. الْمَوَاقِيتُ الَّتِي لَا يَتَجَاوَزُهَا الْإِنْسَانُ إلَّا مُحْرِمًا لِأَهْلِ الْمَدِينَةِ ذُو الْحُلَيْفَةِ وَلِأَهْلِ الْعِرَاقِ ذَاتُ عِرْقٍ وَلِأَهْلِ الشَّامِ الْجُحْفَةُ وَلِأَهْلِ نَجْدٍ قَرْنٌ وَلِأَهْلِ الْيَمَنِ يَلَمْلَمُ وَكُلُّ وَاحِدٍ مِنْ هَذِهِ الْمَوَاقِيتِ وَقْتٌ لِأَهْلِهَا দ্র. তাবইনু হাকা’য়িকু শারহু কানযুদ দাকা’য়িক, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ২৪৯।