প্রচ্ছদ » নারী » বিস্তারিত

নারীর প্রতি বৈষম্য বিলোপে মতবিনিময়

২০১৫ সেপ্টেম্বর ১৫ ১৬:৩৫:৩১
নারীর প্রতি বৈষম্য বিলোপে মতবিনিময়

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূরীকরণ বিষয়ক কনভেনশন বা সিডও বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।

মহিলা সমিতির সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে মঙ্গলবার দুপুরে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় মুখ্য আলোচক ছিলেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আয়শা খানম। পরিষদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম এবং পরিষদের প্রচার ও গণমাধ্যম সম্পাদক দিল মনোয়ারা মনু বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সীমা মোসলেম।

শুরুতেই আয়শা খানম নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণের প্রত্যয়ে সরকারের প্রতি ১৩টি সুপারিশ উপস্থাপন করেন। এগুলো হল- নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ (সিডও) সনদের ২ এবং ১৬.১-এর গ ধারা থেকে বাংলাদেশ সরকারের সংরক্ষণ প্রত্যাহার করে সনদে পূর্ণ অনুমোদন দিতে হবে।

সরকার যে সব ধারার অনুমোদন দিয়েছে সে সব ধারার পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। সিডও সনদের সঙ্গে বিদ্যমান দেশীয় আইনের বৈষম্যমূলক ধারাসমূহ চিহ্নিত করে সে সব আইন সংস্কার করতে হবে এবং প্রয়োজনে নতুন আইন প্রণয়ন করে সিডও সনদ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সকল প্রকার সহিংসতা বন্ধ করতে হবে।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের সংবেদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নিতে হবে। শিশুদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন করে তাদের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।

সিডও সনদের আলোকে দেশীয় নীতিমালা প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।

নারীর প্রতি প্রচলিত নেতিবাচক প্রথা, রীতিনীতি ও অভ্যাস পরিবর্তনের জন্য গণমাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে।

পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ এবং প্রচার-প্রচারণা পরিচালনা করতে হবে।

নারীর রাজনীতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। সম্পদ-সম্পত্তিতে নারী-পুরুষের সমতা বিধানের জন্য উপযুক্ত নীতিমালা, আইন ও কর্মসূচি প্রণয়ন করতে হবে এবং বাংলাদেশের সকল নাগরিকের জন্য অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

আলোচনা ও প্রস্তাবনা শেষে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাব দেন পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম।

প্রসঙ্গত, যুগ যুগ ধরে নারীর প্রতি যে বৈষম্য চলে আসছে তা দূর করার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই জাতিসংঘ চেষ্টা করে যাচ্ছে৷ নারীর অধিকার সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সকলকে সজাগ করে তুলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্র প্রস্তুতের প্রচেষ্টায় জাতিসংঘ ১৯৭৫ সালকে ‘বিশ্ব নারী বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করে৷ এর পর নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করার জন্য আরও কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়৷ এরই প্রেক্ষাপটে ১৯৭৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয় নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূরীকরণ বিষয়ক সনদ বা কনভেনশন৷ ইংরেজিতে একে বলা হয়েছে ‘Convention on the Elimination of All Forms of Discrimination Against Women বা সংক্ষেপে CEDAW (সিডও)৷ বলা যায়, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সিডও নামের এই সনদ বা কনভেনশন গৃহীত হওয়ার মধ্য দিয়ে নারীর জন্য সমান অধিকারের লক্ষ্য অর্জনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে৷

(দ্য রিপোর্ট/এমএ/এমএআর/এজেড/সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৫)