প্রচ্ছদ » বিশ্ব » বিস্তারিত

চুল দিয়ে যায় চেনা

২০১৫ সেপ্টেম্বর ১৮ ১০:৫১:৪২
চুল দিয়ে যায় চেনা

কামরুননাহার, দ্য রিপোর্ট : সুকুমার রায় গোঁফচুরি কবিতায় লিখেছিলেন— ‘গোঁফ কী কারও কেনা? গোঁফের আমি গোঁফের তুমি, তাই দিয়ে যায় চেনা।’

গোঁফ দিয়ে নয়, আফ্রিকার দেশ নামিবিয়ার একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের হিমবা আদিবাসী গোষ্ঠীর বাসিন্দাদের চেনা যায় চুল দেখে।

বিয়ের জন্য পাত্র কিংবা পাত্রী খুঁজছেন? হিমবা সম্প্রদায়ের পাত্র-পাত্রী খুঁজতে গিয়ে কিন্তু কে বিবাহযোগ্য তা জনে জনে জিজ্ঞাসা করার দরকার নেই। চুল দেখেই বলে দেওয়া যাবে যে বিবাহযোগ্য।

আবার বিবাহিত পুরুষ কিংবা নারীদের চিনতে চান? তাদেরও আছে আলাদা হেয়ারস্টাইল।

চুল সাজানো থেকে বাদ পড়েনি শিশু-কিশোররাও। তাদের জন্যও রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন চুলের সাজ।

চলুন দেখে নেওয়া যাক কীভাবে লিঙ্গ, বয়স ও অবস্থাভেদে চুল সাজায় হিমবারা।

কিশোরী

হিমবা কিশোরীদের চুলের সাজ এমনভাবে করা হয় যেন বেণীতে তার মুখ ঢেকে থাকে। পুরুষদের দৃষ্টি থেকে বাঁচতেই অবশ্য কিশোরীদের চুলের এমন সাজ দেওয়া হয়।

বিবাহযোগ্য তরুণী

কোনো হিমবা তরুণী বিবাহযোগ্য হলে তার বেণীগুলো মুখ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

বিবাহিত নারী

বিবাহিত হিমবা নারীরা পশুর চামড়ার তৈরি একটি পাগড়ি বেণীর ওপর চাপায়।

মেয়ে শিশু

হিমবা শিশুদের চুলে সাধারণত দুটি বেণী করে দেওয়া হয়। ওজোনদাতো নামে বেণী দুটি শিশুটির বংশের প্রতীকও।

অবিবাহিত পুরুষ

চুলে ছোট্ট একটি বেণী অবিবাহিত পুরুষদের চিহ্ন। কাজেই কোনো পুরুষের মাথায় একটা বেণী থাকলে ধরে নেওয়া যাবে সে অবিবাহিত।

ছেলে শিশু

হিমবা ছেলে শিশুদেরও অবিবাহিত পুরুষদের মতো একটি বেণী থাকে। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেণীটিও বড় হয়।

বিবাহিত পুরুষ

বিয়ের পর একজন হিমবা পুরুষ তাদের চুল পাগড়ি দিয়ে ঢেকে ফেলেন এবং আর কখনই সেটা খোলেন না। তবে গ্রামের কেউ মারা গেলে শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় তাদের পাগড়ি খোলা হয়। আর কোনো বিবাহিত হিমবা পুরুষ মারা যাওয়ার পর মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়।

বিপত্নীক

স্ত্রী মারা গেলে হিমবা পুরুষদের চুলে বেণী কিংবা মাথায় পাগড়ি কোনোটাই থাকে না।

হিমবাদের চুলের বাহার সম্পর্কে তো জানা গেল। কিন্তু এই বাহারি চুল সাজাতে হিমবারা কী ব্যবহার করে নিশ্চয়ই জানতে ইচ্ছা করছে। চুলের স্টাইল ঠিক করতেও কিন্তু কম মেহেনত হয় না তাদের। মাখন ও বিশেষ ধরনের মাটি মিশিয়ে মণ্ড তৈরি করে চুলে মাখে তারা। কখনো কখনো ব্যবহার করে খড় কিংবা ছাগলের লোম। চুল সাজাতে ব্যয় করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

(দ্য রিপোর্ট/কেএন/এজেড/সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৫)