প্রচ্ছদ » ধর্ম » বিস্তারিত

হজের ধর্মতাত্ত্বিক ও দার্শনিক বিশ্লেষণ-২

২০১৫ সেপ্টেম্বর ১৮ ১৭:৪৯:৩৬
হজের ধর্মতাত্ত্বিক ও দার্শনিক বিশ্লেষণ-২

. এমমতিন

(পূর্ব প্রকাশের পর)

যারা মীকাতের বাইরে বসবাস করে তারা যদি মক্কা ও হরম শরীফে হজ ও ‘উমরার উদ্দেশ্যে অথবা ব্যবসা বা পর্যটনের উদ্দেশ্যে গমন করে তবে সর্বাবস্থায়ই মীকাত অতিক্রমের পূর্বে তাদের জন্য ইহরাম বাঁধা ওয়াজিব।[৩৭] ইমাম শা‘ফী (র.)-এর মতে হজ ও ‘উমরা আদায় করার নিয়তকারী ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে আগমনকারী ব্যক্তিদের জন্য ইহরাম না বেঁধেই মীকাত অতিক্রম করার বৈধতা রয়েছে।[৩৮] দলিল হিসেবে তিনি এ হাদীসটি উপস্থাপন করেন। ইমাম মুসলিম (র.) ইয়াহইয়ার মাধ্যমে হযরত যাবের (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) মক্কায় প্রবেশ করেন। কুতায়বা বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ (সা.) মক্কায় প্রবেশ করেন, আর তাঁর সাথে হযরত সাওদা (রা.) বিনা ইহরামে মক্কায় প্রবেশ করেন।[৩৯] তাঁর মতে ইহরাম যেহেতু হজের একটি শর্ত সুতরাং হজের নিয়ত ব্যতীত মক্কায় প্রবেশের ক্ষেত্রে এর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।[৪০] ইমাম আবূ হানিফা (র.)-এর যুক্তি হলো, যেহেতু আল্লাহ তা‘য়ালা কা‘বাকে (বায়তুল্লাহ) সম্মানিত করেছেন এবং এর সীমা হিসেবে মাসজিদুল হারামকে সীমা নির্ধারণ করেছেন আর মীকাতসমূহকে মক্কার সীমা নির্ধারণ করেছেন। আর এটি করেছেন কা‘বার সম্মানার্থে এ জন্য মীকাত হতে ইহরাম বাঁধার বিশেষ উদ্দেশ্য রয়েছে। সুতরাং এটি প্রত্যাখ্যান করা বৈধ হবে না।[৪১] ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ এমন কোনো কাজে লিপ্ত হওয়ার আশংকা না থাকলে মীকাতের পূর্বে নিজ বাসস্থান হতে ইহরাম বেঁধে নেয়া উত্তম।

স্থলপথে অথবা সমুদ্রপথে মক্কা শরীফে আগমনকারী ব্যক্তির সম্মুখে যদি উল্লেখিত মীকাতসমূহের কোনো একটিও না পড়ে তবে বর্ণিত মীকাতসমূহের যেকোনো মীকাতের সমরেখা বা বরাবর স্থান হতে ইহরাম বাঁধা ওয়াজিব। যদি কারও পথে দু’টি মীকাত পড়ে তবে প্রথম মীকাত হতে ইহরাম বাঁধা উত্তম। অবশ্য দ্বিতীয় মীকাত পর্যন্ত ইহরামকে বিলম্বিত করাও জা’য়িয। এতে দম ওয়াজিব হবে না। যদি পথে দুই মীকাতের সমরেখা সামনে পড়ে তবে প্রথম মীকাতের সমরেখা হতে ইহরাম বাঁধা উত্তম। যদি যাত্রা পথে একটি মীকাত এবং অন্য একটি মীকাতের সমরেখা অতিক্রম করতে হয় তাহলে প্রথম মীকাত হতে ইহরাম বাঁধা ওয়াজিব। এ ক্ষেত্রে দ্বিতীয় মীকাতের সমরেখা ধর্তব্য হবে না।[৪২]কেউ যদি এমন পথে সফর করে যে পথে নির্ধারিত কোনো মীকাত সামনে পড়ে না, তাহলে তাকে মীকাতের সমরেখা জেনে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। যদি তা জানতে সক্ষম না হয় তবে নিজে এর সমরেখা জানার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করবে। যখন প্রবল ধারণা হবে যে, অমুক স্থান হতেই সমরেখা আরম্ভ হয়েছে তখন সে স্থান হতেই ইহরাম বাঁধা ওয়াজিব। চিন্তাভাবনা তখনই গ্রহণযোগ্য হবে যখন এ সম্বন্ধে জ্ঞাত কোনো মানুষ না পাওয়া যায়। যদি জিজ্ঞাসা করার মতো কোনো লোক পাওয়া যায় তবে তাকে জিজ্ঞাসা করে নেওয়া ওয়াজিব। যদি কেউ মীকাতের সমরেখার ব্যাপারে অবগত না থাকে এবং জিজ্ঞাসা করার মতো কোনো লোকও না পায় তবে মক্কা শরীফের দুই মঞ্জিল দূর হতে ইহরাম বাঁধা তার উপর ওয়াজিব। যদি মক্কার বাইরের কোনো লোক মক্কায় পৌঁছে ‘উমরা সমাপ্ত করে হালাল হয়ে যায় তবে তার মীকাত মক্কাবাসীদের অনুরূপ হবে। অর্থাৎ হজের জন্য হরম এলাকা এবং ‘উমরার জন্য হিল্ল এলাকা। এ অবস্থায় তান‘য়ীম হতে ইহরাম বাঁধা উত্তম।

হজ আদায়ের তিনটি রীতি রয়েছে। প্রথমত : হজ আদায়ের তিন প্রকার রীতির মধ্যে প্রথম প্রকার হলো ‘ইফরাদ’। মীকাত (ইহরাম বাঁধার স্থান) হতে শুধু হজের নিয়তে ইহরাম বেঁধে উক্ত সফরে কেবল হজ আদায় করাকে হজে ‘ইফরাদ’ বলে।[৪৩] ইফরাদ হজ পালনকারীর ‘উমরাহ করার ইচ্ছা থাকলে তাকে হজের আবশ্যকীয় কাজগুলো সমাধা করে হেরেম শরীফের বাইরে গিয়ে পুনরায় ওমরাহ-এর জন্য ইহরাম বাঁধতে হয়। ওমরাহ-এর ইহরাম বাঁধার জন্য সর্বোত্তম মীকাত হলো, জায়ারানাহ, তারপর তান‘য়ীম, তারপর হুদায়বীয়্যাহ। এভাবে ইফরাদ হজ আদায়কারীদের জন্য কুরবানি ওয়াজিব নয়। তবে নফল কুরবানি করতে পারে।

দ্বিতীয়ত: হজ আদায়ের তিন প্রকার রীতির মধ্যে দ্বিতীয় প্রকার হলো ‘কিরান’। ‘মীকাত’ হতে হজ ও ‘উমরাহ’-এর ইহরাম একসঙ্গে বেঁধে একই সঙ্গে উভয় ‘ইবাদত আদায় করাকে হজে ‘কিরান’ বলে।[৪৪] এরূপ ব্যক্তির হজের ক্রিয়াকর্ম দ্বারাই ‘উমরাহ’-এর কাজকর্ম আদায় হয়ে যায়। যেমন গোসলের দ্বারা ওজুও আদায় হয়ে যায়। গোসল করার পর আর অজু’ না করলেও চলে। তবে যদি তাওয়াফ এবং সা‘য়ী ‘আরাফাতে অবস্থানের পূর্বে করা হয়, তাহলে সা‘য়ী হজ ও ‘উমরাহ দু’টোরই হয়ে যায়; কিন্তু হজের তাওয়াফ আদায় হবে না। কেননা হজের মধ্যে তাওয়াফের জন্য শর্ত হলো অকুফে ‘আরাফার পরে আদায় করা। কিরান হজ আদায়কারীর জন্য একটি বকরি কুরবানি করা ওয়াজিব। তবে হজ আদায়কারী মক্কাবাসী হলে কুরবানি করা ওয়াজিব নয়। কারণ সে মীকাত অতিক্রম করেনি, তার মীকাত মক্কা মু‘য়ায্যামা।

তৃতীয়ত: হজ আদায়ের তিন প্রকার রীতির মধ্যে তৃতীয় প্রকার হলো তামাত্তু‘। এ হজের রীতি হলো, প্রথমে মীকাত হতে ‘উমরাহ’-এর ইহরাম বাঁধতে হয়। অতঃপর ‘উমরাহ’ সম্পন্ন করে মক্কা হতে পুনরায় হজের ইহরাম বেঁধে একই সফরে উভয় ‘ইবাদত আদায় করাকে ‘তামাত্তু’ (লাভবান হওয়া অর্থাৎ এক সঙ্গে দুই পুণ্য অর্জন) বলে। [৪৫] ইমাম মালেক (র.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি হজের মাসসমূহের পূর্বে ‘উমরাহ করার জন্য ইহরাম বেঁধে হজের মাস পর্যন্ত সে ইহরাম না ভাঙে তাকে তামাত্তু‘ হজকারী বলা হয়।’ [৪৬]

তামাত্তু‘ হজের জন্য পাঁচটি [৪৭] শর্ত রয়েছে। যথাঃ

১. তামাত্তু‘ আদায়কারীর বাসস্থান এবং মসজিদে হারামের মধ্যে শরী‘য়াত সম্মত সফরের দূরত্ব না থাকা।

২. হজের পূর্বে ‘উমরাহ করা।

৩. হজের মাসসমূহের মধ্যেই ‘উমরাহ করা।

৪. হজের ইহরাম বাঁধার জন্য মীকাত পরিমাণ দূরে ফিরে না যাওয়া।

৫. একই ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজ ও ‘উমরাহ হওয়া।

তামাত্তু‘ হজ আদায়কারীর পক্ষ থেকে একটি বকরি কুরবানি করা ওয়াজিব। এতে কোনো কারণবশত অসামর্থ্য হলে দশই যিলহজের পূর্ব পর্যন্ত সে তিনটি সাওম পালন করবে। হজের সময়ে ঐ তিনটি সাওম পালন না করলে দেশে ফিরে এসে দশটি সাওম পালন করবে। ইমাম গাযালী (র.) বলেন, উল্লিখিত তিন প্রকার হজের মধ্যে সর্বোত্তম ইফরাদ, তারপর তামাত্তু‘ তারপর কিরান।’ [৪৮]

ইমাম আবু হানীফা (র.)-এর মতে ইফরাদ হজ উত্তম কেননা তামাত্তু‘ হজের সফর হয় ‘উমরার উদ্দেশ্যে, পক্ষান্তরে ইফরাদ হজের সফর হয় হজের উদ্দেশ্যে। [৪৯] ইমাম আবু হানীফা (র.)-এর একটি বর্ণনায় তামাত্তু অপেক্ষা ইফরাদ হজকে উত্তম বলা হয়েছে। [৫০] ইমাম শা‘ফী (র.)-এর মতে কিরানের চেয়ে ইফরাদ হজ উত্তম।[৫১] ইমাম মালেক (র.)-এর মতে তামাত্তু‘ কিরান হজ অপেক্ষা উত্তম।[৫২] ইমাম শাফী‘ (র.) তার মতের স্বপক্ষে যুক্তি হিসেবে হযরত যাবের (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদীস পেশ করেন। যথা: হযরত যাবের (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন-‘রাসূলুল্লাহ (সা.) ইফরাদ হজ পালন করেছিলেন এবং আমিও তাঁর সঙ্গে ইফরাদ হজই পালন করেছিলাম’।[৫৩]আস-সারাখসী বলেন, ‘কিরান হলো অতিরিক্ত (رُخْصَةٌ) পক্ষান্তরে ইফরাদ হলো মৌলিক (عَزِيمَةٌ)। আর হজের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বিষয় অপেক্ষা মৌলিক বিষয়ই উত্তম। ইফরাদ হজ-এ ইহরাম, সা‘য়ী ও হলক অধিক এবং কিরান হজ আদায়কারী একই সফরে দুটি হজ আদায় করে যাতে একটি মাত্র তালবীয়াহ পাঠ করা হয়। এ ক্ষতির কারণে একটি অতিরিক্ত কুরবানি করা বাধ্যতামূলক কিন্তু হজে ইফরাদ আদায়কারী প্রত্যেকটি কাজ পূর্ণাঙ্গভাবে শুধু হজের জন্যই আদায় করে সুতরাং বাধ্য-বাধকতা ও ক্ষতি অপেক্ষা পূর্ণ গুণাবলিসহ হজের কার্যাবলি পালন করাই উত্তম।’[৫৪]

হজ আদায়ের সময় নয়টি স্থানে গোসল করা সুন্নাত। যথাঃ মীকাতে ইহরামের জন্য, মক্কায় প্রবেশের জন্য, তাওয়াফে কুদুমের জন্য, ‘আরাফাতে অবস্থানের জন্য, মুযদালিফায় অবস্থানের জন্য, তাওয়াফে যিয়ারাতের জন্য, দু’ জমরায় কংকর নিক্ষেপ করার জন্য, বিদায়ী তাওয়াফের জন্য।[৫৫] সুতরাং হজ আদায় করতে আগ্রহী ব্যক্তিকে প্রথমে গোসল করে সুগন্ধী মেখে হজের পোশাক পরিধান করে ইহরাম বাঁধতে হবে। ইমাম মুসলিম (র.) আবু কুরাইমের মাধ্যমে হযরত ‘আয়শা (র.) থেকে বর্ণনা করেন তিনি (‘আয়শা (রা.) বলেন,

كُنْتُ أُطَيِّبُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِأَطْيَبِ مَا أَقْدِرُ عَلَيْهِ قَبْلَ أَنْ يُحْرِمَ ثُمَّ يُحْرِمُ

‘রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ইহরাম বাঁধার প্রাককালে আমি তাঁকে সুগন্ধি মাখিয়ে দিতাম অতঃপর তিনি ইহরাম বাঁধতেন’।[৫৬] ইমাম মুহাম্মদ (র.)-এর মতে ইহরাম বাঁধার সময় সুগন্ধি ব্যবহার করা ‘মাকরূহ’ কেননা মুহরিম হয়ে যাওয়ার পরও উহার সুগন্ধি অবশিষ্ট থাকে। ইমাম মালিক ও সাফি‘ঈ (র.) ও এমতের সমর্থন করেন। [৫৭] ‘ইহরাম’ (الْإِحْرَامُ) শব্দটির মাসদার ‘আহরামা’ (أَحْرَمَ) অর্থ : যখন হারামের মধ্যে প্রবেশ করে। যেমন শীতকালে প্রবেশ করলে ঠান্ডা অনুভূত হয়। [৫৮] ইসলামী শরি‘য়াতের পরিভাষায় হজ পালনের উদ্দেশ্যে কিছু বৈধ বিষয়কে নিজের প্রতি হারাম করে নেয়াকে ইহরাম বলে।[৫৯]

হজ ও ‘উমরাহ পালন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি যখন ইহরাম বেঁধে হজ অথবা ‘উমরাহ পালন করার নিয়তে তালবিয়া পাঠ করেন তখন তাদের উপর কিছু হালাল এবং মুবাহ কাজও ইহরামের কারণে হারাম হয়ে যায়। এ কারণে একে ‘ইহরাম’ বলা হয়। রূপক অর্থে ঐ চাদর দুটিকেও ইহরাম বলা হয় যা ইহরাম অবস্থায় ব্যবহার করা অপরিহার্য। ইহরামের পূর্বে হাত ও পায়ের নখ কাটতে হয়। গোফ ছোট, বগলের ও নাভীর নিচের পশম মুণ্ডন করতে হয়। অভ্যাস থাকলে মাথার চুল কামিয়ে ফেলবে অন্যথা চুল ছোট করবে। অতঃপর সাবান দিয়ে উত্তমরূপে গোসল করতে হয়। কোনো কারণে গোসল করতে না পারলে ওযু করে নিতে হবে। হায়িয ও নিফাসওয়ালী মহিলা ও বালক নাবালিকের জন্যও গোসল করা মুস্তাহাব। এরপর সেলাইবিহীন একখানা চাদর পরিধান করবে এবং একখানা গায়ে দিতে হবে। কাপড় সাদা হওয়া ভালো। নতুন কাপড়ের ব্যবস্থা করতে না পারলে পুরাতন কাপড় ধুয়ে তা পরিধান করলে ও সুগন্ধী থাকলে তা ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু কাপড়ে এমন কোনো সুগন্ধী লাগানো যাবে না যার রং কাপড়ে স্পষ্টভাবে অবশিষ্ট থাকে। এরপর ইহরামের নিয়তে দু’রাকা‘আত নফল সালাত আদায় করতে হবে। সালাত শেষ হলে কিবলামুখী অবস্থায় বসে বসেই মাথা উন্মুক্ত করে নিয়্যত করতে হবে। নিয়ত করার পর তিনবার উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ করতে হবে। ইমাম বুখারী (র.) আব্দুল্লাহ ইবন ইউসূফ এর মাধ্যমে হযরত আব্দুল্লাহ ইবন ‘উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর তালবিয়্যাহ হলো-

‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক লাব্বাইক লাশারীকা লাকা লাব্বাইক ইন্নাল হামদা ওয়ান নি‘য়মাতা লাকা ওয়াল মূলক লাশারীকা লাকা’।[৬০] ‘আমি উপস্থিত হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত আমি উপস্থিত। তোমার কোনো শরীক নেই আমি উপস্থিত। নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা ও নি‘য়ামত তোমার এবং রাজত্বও তোমারই। তোমার কোনো শরীক নেই’। ‘আল্লামা আস সারাখসী (র.) বলেন, তালবীয়্যাহ পাঠের ক্ষেত্রে এর চেয়ে অতিরিক্ত কিছু বলা আমাদের কাছে হাসান এবং শা‘ফী মতাবলম্বীদের এক দলের মতে এরূপ করা মুবাহ তাদের অন্য দলের মতে মাকরূহ।[৬১] এরপর রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি অনুচ্চস্বরে দরূদ শরীফ পাঠ করবে এবং আল্লাহ তা‘য়ালার দরবারে দু‘য়া করবে। অতঃপর এ দু‘য়াটি পাঠ করবে-‘হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট তোমার সন্তুষ্টি ও জান্নাত চাই এবং তোমার ক্রোধ ও জাহান্নাম হতে পানাহ চাই’। এভাবে নিয়ত ও তালবিয়া পাঠ করার পর ইহরাম বাঁধার কাজ সমাপ্ত হয়ে যায়। এর পর হতে ইহরাম অবস্থায় যে সব কাজ নিষিদ্ধ তা বর্জন করে চলতে হয়।

পবিত্র কা‘বা তাওয়াফ করা হজের অন্যতম কর্তব্য। ফরয, ওয়াজীব, সুন্নাত বা নফল যে প্রকারের তাওয়াফই হোক না কেন উহা গুরুত্ব সহকারে আদায় করা একজন হাজির জন্য অন্যতম কর্তব্য। তাওয়াফ করার সময় সালাতের শর্তসমূহ আদায় করা প্রয়োজন। অর্থাৎ ওযু প্রয়োজনে গোসল করে শরীর পবিত্র করতে হয়। সতর ঢাকা ও তাওয়াফের স্থান পবিত্র হওয়া প্রয়োজন। ইমাম গাযালী (র.) বলেন, ‘তাওয়াফও সালাতের অনুরূপ। পার্থক্য কেবল এতটুকু যে, সালাতের মধ্যে কথা বলার অনুমতি নেই কিন্তু তাওয়াফের মধ্যে তা আছে।’

[৬২] কা‘বাগৃহ বাম দিকে রেখে কালো পাথরের কাছে দাঁড়িয়ে তাওয়াফ শুরু করতে হবে যাতে সমস্ত শরীর কালো পাথরের বিপরীত দিকে চলে যায়। ইমাম গাযালী (র.) বলেন, ‘তাওয়াফ শুরুকালীন কালো পাথর অতিক্রম করার পূর্বেই এ দু‘য়া পাঠ করতে হয়-

بسم الله والله أكبر اللهم إيماناً بك وتصديقاً بكتابك ووفاء بعهدك واتباعاً لسنة نبيك محمد صلى الله عليه وسلم

‘আল্লাহর নামে, আল্লাহ মহান। হে মা‘বুদ! আমি এ তাওয়াফ করছি তোমার প্রতি আস্থা স্থাপনপূর্বক, তোমার কিতাবের সত্যতায় বিশ্বাস স্থাপনপূর্বক। তোমার নিকট প্রদত্ত ও‘য়াদা রক্ষাপূর্বক এবং তোমার নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রীতি অনুসরণপূর্বক। [৬৩] অতঃপর রুকনে ইয়ামানী ও কালো পাথরের মধ্যবর্তী স্থানে পৌঁছে পাঠ করবে- اللهم ربنا آتنا في الدنيا حسنة وفي الآخرة حسنة وقنا برحمتك فتنة القبر وعذاب النار ‘হে মা‘বুদ! হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদেরকে দুনিয়াতে ও আখিরাতে কল্যাণ দান করো। তুমি নিজ রহমত গুণে আমাদেরকে কবরের মুসীবত ও দোযখের আগুনের আযাব থেকে নিরাপদ রাখ। প্রথম দিন চক্করে রমল [৬৪] করতে হয় ও শেষ চার চক্করে মধ্যমাবস্থায় হাঁটতে হয়। কেহ যদি প্রত্যেক তাওয়াফেই ‘রামল’ করে তাতে কোনো সমস্যা নেই কারণ এ স্থানে হাঁটা একটি আদব আর আদবের খেলাফ হলে কোনো কিছু অপরিহার্য হয় না। [৬৫] ইমাম গাযালী (র.) বলেন, ‘প্রথমত কাফিরদের ব্যঙ্গাত্মক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে রমল করার প্রচলন হলেও পরবর্তীতে উহা হজের একটি সুন্নাতে পরিণত হয়।’ [৬৬]

পবিত্র কা‘বার চারপার্শে সাতবার প্রদক্ষিণ করলে এক তাওয়াফ হয়।’[৬৭]

প্রশংসা তাঁর জন্যই। তিনি জীবিত করেন, মৃত্যু ঘটান, তিনি চিরঞ্জীব, তাঁর মৃত্যু নেই।

(চলবে) 

………………………………..

পাদটিকা:

৩৭ الْآفَاقِيُّ إذْ انْتَهَى إلَى الْمِيقَاتِ عَلَى قَصْدِ دُخُولِ مَكَّةَ عَلَيْهِ أَنْ يُحْرِمَ قَصَدَ الْحَجَّ أَوْ الْعُمْرَةَ أَوْ لَمْ يَقْصِدْ দ্র. প্রাগুক্ত।

৩৮ قَالَ الشَّافِعِيُّ لَا يَجِبُ إلَّا عَلَى مَنْ أَرَادَ الْحَجَّ أَوْ الْعُمْرَةَ ، وَإِذَا أَرَادَ غَيْرَهُمَا جَازَ لَهُ أَنْ يَدْخُلَهَا بِغَيْرِ إحْرَامٍ দ্র. প্রাগুক্ত।

৩৯.لِأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى جَعَلَ الْبَيْتَ مُعَظَّمًا وَجَعَلَ الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ فِنَاءً لَهُ وَجَعَلَ مَكَّةَ فِنَاءً لِلْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَجَعَلَ الْمِيقَاتَ فِنَاءً لِلْمُحْرِمِ وَالشَّرْعُ وَرَدَ بِكَيْفِيَّةِ تَعْظِيمِهِ ، وَهُوَ الْإِحْرَامُ مِنْ الْمِيقَاتِ عَلَى هَيْئَةٍ مَخْصُوصَةٍ فَلَا يَجُوزُ تَرْكُهُ দ্র. প্রাগুক্ত।

৪০. حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى التَّمِيمِيُّ وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ الثَّقَفِيُّ و قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا و قَالَ قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمَّارٍ الدُّهْنِيُّ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْأَنْصَارِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ مَكَّةَ وَقَالَ قُتَيْبَةُ دَخَلَ يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ وَعَلَيْهِ عِمَامَةٌ سَوْدَاءُ بِغَيْرِ إِحْرَامٍ দ্র. আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আল-কুশাইরী, সহীহু লি-মুসলিম, কিতাবুল হাজ, বাবু যাওয়াযু দুখুলু মক্কাতা বি গাইরি ইহরাম, হাদীস নং ২৪১৮, ৭ম খণ্ড, পৃ. ৯১।

৪১. وَلِأَنَّ الْإِحْرَامَ شُرِعَ لِأَدَاءِ النُّسُكِ فَإِذَا نَوَاهُ لَزِمَهُ وَإِلَّا فَلَا দ্র. তাবইনু হাকা’য়িকু শারহু কানযুদ দাকা’য়িক, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ২৫০।

৪২.لِأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى جَعَلَ الْبَيْتَ مُعَظَّمًا وَجَعَلَ الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ فِنَاءً لَهُ وَجَعَلَ مَكَّةَ فِنَاءً لِلْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَجَعَلَ الْمِيقَاتَ فِنَاءً لِلْمُحْرِمِ وَالشَّرْعُ وَرَدَ بِكَيْفِيَّةِ تَعْظِيمِهِ ، وَهُوَ الْإِحْرَامُ مِنْ الْمِيقَاتِ عَلَى هَيْئَةٍ مَخْصُوصَةٍ فَلَا يَجُوزُ تَرْكُهُ দ্র. প্রাগুক্ত।

৪৩. ফাতাওয়া ও মাসাইল, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ১৭৫।

৪৪. وَالْإِفْرَادُ بِالْحَجِّ أَنْ يَحُجَّ أَوَّلًا ، ثُمَّ يَعْتَمِرُ بَعْدَ الْفَرَاغِ مِنْ الْحَجِّ أَوْ يُؤَدِّي كُلَّ نُسُكٍ فِي السَّفَرِ عَلَى حِدَةٍ أَوْ يَكُونُ أَدَاءُ الْعُمْرَةِ فِي غَيْرِ أَشْهُرِ الْحَجِّ দ্র. আবূ বকর মুহাম্মাদ ইবন আবি সাহল আস-সারাখসী, আল-মাবসূত ফী শারহিল কাফী, ৪র্থ খণ্ড (কায়রো : মাতবা‘য়াতুস সা‘য়াদাহ, ১৩২৪ হি.), পৃ. ৪৭৩।

৪৫. فَالْقِرَانُ هُوَ الْجَمْعُ بَيْنَ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ بِأَنْ يُحْرِمَ بِهِمَا أَوْ يُحْرِمَ بِالْحَجِّ بَعْدَ إحْرَامِ الْعُمْرَةِ قَبْلَ أَدَاءِ الْأَعْمَالِ مِنْ قَوْلِهِمْ قَرَنَ الشَّيْءَ إذَا جَمَعَ بَيْنَهُمَا দ্র. প্রাগুক্ত।

৪৬. وَهُوَ أَنْ يَعْتَمِرَ فِي أَشْهُرِ الْحَجِّ ، وَيَحُجَّ مِنْ عَامِهِ ذَلِكَ مِنْ غَيْرِ أَنْ يُلِمَّ بِأَهْلِهِ بَيْنَ النُّسُكَيْنِ إلْمَامًا صَحِيحًا দ্র. প্রাগুক্ত, পৃ. ৪৮৫।

৪৭. وَكَانَ مَالِكٌ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى يَقُولُ إنْ أَتَى بِالْعُمْرَةِ قَبْلَ أَشْهُرِ الْحَجِّ ، وَلَمْ يَتَحَلَّلْ مِنْ إحْرَامِ الْعُمْرَةِ حَتَّى دَخَلَتْ أَشْهُرُ الْحَجِّ فَهُوَ مُتَمَتِّعٌ দ্র. প্রাগুক্ত।

৪৮. لا يكون متمتعاً إلا بخمس شرائط. أحدها أن لا يكون من حاضري المسجد الحرام وحاضره من كان منه على مسافة لا تقصر فيها الصلاة. الثاني. أن يقدم العمرة على الحج. الثالث. أن تكون عمرته في أشهر الحج. الرابع: أن لا يرجع إلى ميقات الحج ولا إلى مثل مسافته لإحرام الحج. الخامس: أن يكون حجه وعمرته عن شخص واحد দ্র. আল-গাযালী, এহইয়াউ ‘উলূমিদ্দীন, ১ম খণ্ড, পৃ. ২৫৬।

৪৯. والأفضل الإفراد ثم التمتع ثم القران দ্র. প্রাগুক্ত।

وَعَنْ أَبِي حَنِيفَةَ رَحِمَهُ اللَّهُ أَنَّ الْإِفْرَادَ أَفْضَلُ ؛ لِأَنَّ الْمُتَمَتِّعَ سَفَرُهُ وَاقِعٌ لِعُمْرَتِهِ وَالْمُفْرِدَ سَفَرُهُ وَاقِعٌ لِحَجَّتِهِ . দ্র. ফতহুল কাদীর, ৫ম খণ্ড, পৃ. ৩২৩ ।

৫০. ، وَعَلَى رِوَايَةِ ابْنِ شُجَاعٍ عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ رَحِمَهُمَا اللَّهُ تَعَالَى الْإِفْرَادُ أَفْضَلُ مِنْ التَّمَتُّعِ দ্র. আস-সারাখসী, কিতাবুল-মাবসূত, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৪৭৪।

৫১. قَوْلِ الشَّافِعِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى الْإِفْرَادُ أَفْضَلُ مِنْ الْقِرَانِ দ্র. প্রাগুক্ত।

৫২. ، وَعَلَى قَوْلِ مَالِكٍ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى التَّمَتُّعُ أَفْضَلُ مِنْ الْقِرَانِ দ্র. প্রাগুক্ত।

৫৩. فَالشَّافِعِيُّ اسْتَدَلَّ بِحَدِيثِ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ { أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ مُفْرِدًا بِالْحَجِّ ، وَأَنَا مِمَّنْ كُنْت أُفْرِدُ } দ্র. প্রাগুক্ত।

৫৪. وَإِنَّمَا الْقِرَانُ رُخْصَةٌ ، وَالْإِفْرَادُ عَزِيمَةٌ ، وَالتَّمَسُّكُ بِالْعَزِيمَةِ خَيْرٌ مِنْ التَّمَسُّكِ بِالرُّخْصَةِ ، وَلِأَنَّ فِي الْإِفْرَادِ زِيَادَةَ الْإِحْرَامِ ، وَالسَّعْيِ وَالْحَلْقِ فَإِنَّ الْقَارِنَ يُؤَدِّي النُّسُكَيْنِ بِسَفَرٍ وَاحِدٍ ، وَيُلَبِّي لَهُمَا تَلْبِيَةً وَاحِدَةً ، وَيَحْلِقُ لَهُمَا حَلْقًا وَاحِدًا ، وَلِأَجْلِ هَذَا النُّقْصَانِ يَجِبُ عَلَيْهِ الدَّمُ جَبْرًا ، وَالْمُفْرِدُ يُؤَدِّي كُلَّ نُسُكٍ بِصِفَةِ الْكَمَالِ ، وَأَدَاءُ النُّسُكِ بِصِفَةِ الْكَمَالِ يَكُونُ أَفْضَلَ مِنْ إدْخَالِ النُّقْصَانِ وَالْجَبْرِ فِيهَ দ্র. প্রাগুক্ত।

৫৫. الاغتسالات المستحبة المسنونة في الحج تسعة. الأول: للإحرام من الميقات ثم لدخول مكة ثم لطواف القدوم ثم للوقوف بعرفة ثم للوقوف بمزدلفة ثم ثلاثة أغسال لرمي الجمار الثلاث দ্র. আল-গাযালী, এহইয়াউ ‘উলূমিদ্দীন, ১ম খণ্ড, পৃ. ২৬০।

৫৬. আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আল-কুশাইরী, সহীহু লি-মুসলিম, বাবু আত তইয়্যেবু লিল-মুহরিম এনদাল-ইহরাম, হাদীস নং-২০৪৬, ৬ষ্ঠ খণ্ড পৃ. ১৪২। 

৫৭. عَنْ مُحَمَّدٍ رَحِمَهُ اللَّهُ : أَنَّهُ يُكْرَهُ إذَا تَطَيَّبَ بِمَا تَبْقَى عَيْنُهُ بَعْدَ الْإِحْرَامِ ، وَهُوَ قَوْلُ مَالِكٍ وَالشَّافِعِيِّ رَحِمَهُمَا اللَّهُ ، لِأَنَّهُ مُنْتَفِعٌ بِالطِّيبِ بَعْدَ الْإِحْرَامِ দ্র. ফতহুল কাদীর, ৫ম খণ্ড পৃ. ৫৮।

৫৮. وَالْإِحْرَامُ لُغَةً مَصْدَرُ أَحْرَمَ إذَا دَخَلَ فِي الْحَرَمِ كَأَشْتَى إذَا دَخَلَ فِي الشِّتَاءِ দ্র. মুহাম্মদ ইব্ন আহমদ আল-হানাফী, আল-‘এনায়া শারহুল হেদায়া, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৪০৯।

৫৯. وَفِي عُرْفِ الْفُقَهَاءِ تَحْرِيمُ الْمُبَاحَاتِ عَلَى نَفْسِهِ لِأَدَاءِ هَذِهِ الْعِبَادَةِ দ্র. মুহাম্মদ ইবন আহমদ আল-হানাফী, আল-‘এনায়া শারহুল হেদায়া, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৪০৯।

৬০. حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا

أَنَّ تَلْبِيَةَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ

দ্র. সহীহুল বুখারী, কিতাবুল মানাসিক, বাবু আত-তালবীয়্যাহ, হাদীস নং ১৪৪৮, ৫ম খণ্ড, পৃ. ৪৪৫ ।

৬১. وَإِنْ زَادَ عَلَى هَذَا فَحَسَنٌ أَيْضًا عِنْدَنَا ، وَبَعْضُ أَصْحَابِ الشَّافِعِيِّ - رَحِمَهُمْ اللَّهُ تَعَالَى - يَقُولُونَ : يُبَاحُ لَهُ الزِّيَادَةُ وَأَكْثَرُهُمْ عَلَى أَنَّ ذَلِكَ مَكْرُوهٌ দ্র. আস সারাখসী, কিতাবুল মাবসূত, ৫ম খণ্ড, পৃ. ৪৩৫।

৬২. فالطواف بالبيت صلاة ولكن الله سبحانه أباح فيه الكلام দ্র.আল-গাযালী, এহইয়াউ ‘উলূমিদ্দীন, ১ম খণ্ড, পৃ. ২৬১।

৬৩. প্রাগুক্ত।

৬৪. রামল অর্থ হলো, অঙ্গ হেলিয়ে-দুলিয়ে দ্রুত গতিতে পদচারণা করা। وهو دون العدو وفوق المشي المعتاد. والمقصود منه ومن الاضطباع إظهار الشطارة والجلادة والقوة ‘একেবারে দৌড়াবে না এবং হাটবেও না বরং মধ্যম গতিতে চলবে। এরূপ করার উদ্দেশ্য হলো সৌর্য-বীর্য তথা শক্তিমত্তা প্রদর্শন করা। (দ্র. আল-গাযালী, এহইয়াউ ‘উলূমিদ্দীন, ১ম খণ্ড, পৃ. ২৬১)।

৬৫. وَإِنْ رَمَلَ فِي طَوَافِهِ كُلِّهِ لَمْ يَكُنْ عَلَيْهِ شَيْءٌ ؛ لِأَنَّ الْمَشْيَ عَلَى هَيْئَتِهِ فِي الْأَشْوَاطِ الْأَرْبَعَةِ مِنْ الْآدَابِ ، وَبِتَرْكِ الْآدَابِ لَا يَلْزَمُهُ شَيْءٌ দ্র. আস সারাখসী, কিতাবুল মাবসূত, ৫ম খণ্ড, পৃ. ৩৩।

৬৬. هكذا كان القصد أولاً قطعاً لطمع الكفار وبقيت تلك السنة দ্র. আল-গাযালী, এহইয়াউ ‘উলূমিদ্দীন, ১ম খণ্ড, পৃ. ২৬১।

৬৭. وإن قرن بين أسابيع وصلى ركعتين جاز فعل ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم وكل أسبوع طواف দ্র. প্রাগুক্ত, পৃ. ২৬২।


লেখক : সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজ।

(দ্য রিপোর্ট/একেএমএম/এনআই/সেপ্টেবম্বর ১৮, ২০১৫)