প্রচ্ছদ » জাতীয় » বিস্তারিত

বইয়ের ফুটপাত, ফুটপাতের বই

২০১৫ সেপ্টেম্বর ১৯ ১৩:১০:১৭
বইয়ের ফুটপাত, ফুটপাতের বই

লুৎফর রহমান সোহাগ, দ্য রিপোর্ট : পথচারীদের যাতায়াতের জন্য ফুটপাত তৈরী হলেও ঢাকার রাস্তা দেখে তা বুঝার উপায় নেই। রাজধানীজুড়েই ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠেছে অবৈধ দোকান। কাপড়, জুতা, ইলিক্ট্রনিক সামগ্রী, ফল— মোটকথা প্রয়োজনীয় সব জিনিসের দেখা মেলে ফুটপাতে। তবে ঢাকায় স্থায়ী রূপ নিয়েছে বইয়ের ফুটপাত। স্থান অনুযায়ী ফুটপাতের বইয়ে রয়েছে ভিন্নতা।

রাজধানীর বাংলাবাজার, পল্টন মোড়, নীলক্ষেত ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ সংলগ্ন ফুটপাতে স্থায়ী আসন নিয়েছেন বই বিক্রেতারা। সারাবছরই এ সব ফুটপাতে বইয়ের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানীরা। এ ছাড়া রাজধানীর অন্যান্য ফুটপাতেও বই-বিক্রেতাদের দেখা মেলে।

তবে ফুটপাতে সবচেয়ে বেশী বই-বিক্রেতাদের দেখা মেলে প্রতিবছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলা একাডেমির সামনে। বাঙালীর বই উৎসবের একটি বড় অংশ হয়ে ওঠে একাডেমি সংলগ্ন ফুটপাত। অস্থায়ী হলেও মাসব্যাপী ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায় এসব দোকানে। মেলার তুলনায় ফুটপাতে দাম কম হওয়ায় এসব বইয়ের বিক্রিও ভাল হয়।

রাজধানীর বিভিন্ন ফুটপাতে অবস্থিত বইয়ের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে সাহিত্য ও চাকরির বইয়ের চাহিদা সবচেয়ে বেশী। আগে ফুটপাতের বই বলতে সাধারণত পুরাতন ও সস্তা বই মনে করা হলেও বর্তমানে ফুটপাতে নতুন বইয়ের বিক্রিও হচ্ছে প্রচুর।

স্থানভেদে ফুটপাতের বইয়ের ভিন্নতা রয়েছে। বাংলাবাজারের পুরো ফুটপাতে দু’টি দোকানে বিক্রি হয় সাহিত্যের পুরনো বই। বাকী দোকানগুলোতে পাঠ্যবই ও পাঠ্যসহায়ক পুরনো বই বিক্রি চলত। তবে বর্তমানে সরকারিভাবে বই প্রদান বেড়ে যাওয়া ও প্রতিবছরই পাঠ্যসূচিতে পরিবর্তন আসায় বদলে গেছে এ ফুটপাতের বইয়ের ধরন।

এখানকার অনেক বিক্রেতা পাঠ্যসহায়ক বই বাদ দিয়ে পুরনো ধর্মীয়, বিজ্ঞান, ব্যাকরণ ও ভাষাশিক্ষার বই বিক্রি করছেন। আবার এখানকার বিক্রেতাদের বড় অংশ পুরনো বই বিক্রি ছেড়ে নতুন পাঠ্যসহায়ক বই বিক্রি করছেন।

এখানকার ফুটপাতের বই বিক্রেতা সাব্বির আহমেদ দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘ফুটপাতে আমাদের তেমন কোনো খরচ নেই। তাই কিছুটা কম দামে বিক্রি করতে পারি, এতে ক্রেতাদেরই লাভ।’

এদিকে, পল্টন মোড়ের ফুটপাতে দেখা মেলে ৫-৬টি বইয়ের দোকানের। এ সব দোকানে সাহিত্য, ফিকশন, আত্মজীবনী ও গণমাধ্যম সংক্রান্ত বই পাওয়া যায়। এখানকার দোকানগুলোর সব বই-ই পুরনো।

পল্টনের এক হোটেল শ্রমিক তন্ময় জানালেন, এখান থেকে তিনি মাসুদ রানা সিরিজের বই কেনেন।

‘সব জায়গায় সব পর্বের বই পাওয়া যায় না। এখানে পাই, একটি পড়ে আরেকটি কিনতে আসি’ বলেন তিনি।

এদিকে, চারুকলা সংলগ্ন ফুটপাতের সিংহভাগ বই-ই নতুন। তবে বাছাই করা লেখকদের সাহিত্য ও দর্শনের বই বেশী হওয়ায় এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বই কিনতে দেখা যায়। ২০ শতাংশ কমিশনে নতুন বই বিক্রি হয় এখানে। এ ছাড়া দেখা মেলে ভিনদেশী লেখকদের বইয়েরও।

এখানে বই কিনতে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইদুল ইসলাম দ্য রিপোর্টকে জানান, এখানে বইয়ের সংগ্রহ ভাল। একসঙ্গে অনেক পছন্দের বই পাওয়া যায়।

এদিকে, নীলক্ষেতেও ফুটপাতে নতুন-পুরনো বইয়ের কেনা-বেচা চলে। একদিকে সাহিত্য, টিপস, রান্নার বই, অন্যদিকে চাকরির বইয়ের কারণে এখানে ক্রেতাদের ভিড় সারা বছরই লেগে থাকে।

(দ্য রিপোর্ট/এলআরএস/কেএন/আইজেকে/শাহ/সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৫)