প্রচ্ছদ » লাইফস্টাইল » বিস্তারিত

কোরবানির পশু জবাই ও মাংস রান্নার কিছু টিপস

২০১৫ সেপ্টেম্বর ২১ ০০:০৭:৪০
কোরবানির পশু জবাই ও মাংস রান্নার কিছু টিপস

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর পালিত হবে ঈদুল আজহা। মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের এই উৎসব ঘিরে কয়েক দিনের ছুটি মেলে ব্যস্ত মানুষের জীবনে। প্রিয়জনদের সঙ্গে এ সময় আনন্দে মেতে উঠেন সবাই। ছুটির মুহূর্তকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতে চাই কিছু টিপস। কোরবানির পশুর মাংস খাওয়া থেকে শুরু করে চলাফেরাতেও রাখতে হবে সর্বোচ্চ সতর্কতা। কিছু জরুরি বিষয় জেনে রাখুন—

কোরবানির পশু জবাই পশুর চামড়া ছাড়াতে করণীয়

১. প্রাণী কোরবানির জন্য দক্ষ লোক নিয়োগ করুন। নইলে অর্ধ জবাইকৃত গরু ঝাড়া দৌড় দিয়ে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে।

২. প্রাণী জবাইয়ের ক্ষেত্রে জোরে আল্লাহর নাম নিতে হবে।

৩. প্রাণীর ধমনী যাতে পুরোপুরি কাটা যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। প্রাণী জবাইয়ের পর পুরোপুরি ব্লিডিং হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তাড়াহুড়ো করে জবাইয়ের সাথে সাথে মাংস কাটা শুরু করা হলে মাংসের ভেতর রক্ত থেকে যাবে। এ ধরনের মাংস মোটেও স্বাস্থ্য সম্মত নয়, কারণ রক্তে অনেক ধরনের জীবাণু থাকতে পারে।

৪. চামড়ার মানরক্ষা : সাধারণত ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে চামড়ার ক্ষতি ও গুণগত মান নষ্ট হয়ে থাকে৷ ব্যাকটেরিয়ার হাত থেকে পশুর চামড়াকে রক্ষা করতে বর্তমান বিশ্বে সাধারণত ড্রাই ট্রিটমেন্ট, সল্ট ট্রিটমেন্ট ও ফ্রিজিং করে চামড়া সংরক্ষণ করা হয়৷ উন্নত দেশগুলোতে চামড়া সংরক্ষণে ড্রাই ট্রিটমেন্ট ও ফ্রিজিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হলেও তা ব্যয় ও সময়সাপেক্ষ। তাই আমাদের দেশে সল্ট ট্রিটমেন্ট বা লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণ করা হয়৷ কোরবানির আগে ও পরে কিছু বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখলেই অতি সহজে চামড়ার গুণগত মান রক্ষা করতে পারবেন৷

৫. পশু কেনার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে, আগে থেকেই গরুর চামড়ায় কোনো গভীর ক্ষত চিহ্ন বা দাগ যেন না থাকে৷

৬. ঈদের দিন সকাল থেকেই পশুকে শক্ত খাবার (খড়, ভুসি, কাঁচা ঘাস প্রভৃতি) দেওয়া থেকে বিরত থাকুন৷ বেশি করে পরিষ্কার পানি, ভাতের মাড় ইত্যাদি তরল খাবার খাওয়াতে পারেন৷ এতে কোরবানির পর পশুর চামড়া ছাড়ানো অনেক সহজ হবে৷

৭. কোরবানির কাজে অপেক্ষাকৃত দক্ষ লোক ঠিক করতে হবে৷ আনাড়ি লোক দিয়ে চামড়া ছাড়াতে গেলে চামড়া কেটে যেতে পারে৷

৮. কোরবানির জন্য শোয়ানো অবস্থায় পশুটিকে যেন টানাহেঁচড়া না করা হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে৷

৯. কোরবানির পশু জবাই করার কাজে বড় ও চামড়া ছাড়ানোর কাজে ধারালো মাথা ভোঁতা ছুরি ব্যবহার করতে হবে৷

১০. সঠিক নিয়মে কোরবানির পশু শোয়ানো হলে সাধারণত চামড়া অক্ষত থাকে৷

কোরবানির পরে : কোরবানির চামড়ার গ্রেডিং ঠিক রাখতে হলে কোরবানির পর চামড়া ছাড়ানোর জন্য কিছু নির্দিষ্ট দিকে লক্ষ্য রাখা উচিত৷ এ ছাড়া চামড়া ছাড়ানোর পরে হাতেগোনা কিছু আনুষঙ্গিক কাজ করলে চামড়ার মান অক্ষুণ্ন থাকে৷

কোরবানির পশুর উচ্ছিষ্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

কোরবানির বর্জ্য অব্যবস্থাপনার কারণে পরিবেশ দূষিত হতে পারে৷ তাতে ফিকে হবে আপনার ঈদের আনন্দ৷ আর কোরবানির বর্জ্য দূষিত হয়ে তা থেকে ছড়াতে পারে রোগবালাই৷ তবে একটু সময় নিয়ে আর কিছু নিয়ম মেনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করলেই এ সব সমস্যা এড়ানো যাবে৷ সামান্য অসচেতনতায় একজনের কারণে অনেকের কষ্ট হতে পারে৷ অথচ একটু খেয়াল রাখলে সমস্যা এড়ানো সম্ভব৷

১. কোনো এলাকার লোকজন বিচ্ছিন্ন স্থানে কোরবানি না দিয়ে বেশ কয়েকজন মিলে একস্থানে কোরবানি করা ভালো৷
২. কোরবানির জায়গাটি যেন খোলামেলা হয়৷ আর জায়গাটি রাস্তার কাছাকাছি হলে বর্জ্যের গাড়ি পৌঁছানো সহজ হবে৷
৩. কোরবানির পর পশুর রক্ত ও তরল বর্জ্য খোলা স্থানে রাখা যাবে না৷ এগুলো গর্তের ভেতরে পুঁতে মাটিচাপা দিতে হবে৷ কারণ, রক্ত আর নাড়িভুঁড়ি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুর্গন্ধ ছড়ায়৷ আর যদি রক্ত মাটি থেকে সরানো সম্ভব না হয়, তা হলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে৷

৪. কোরবানির বর্জ্য পলিথিনে করে রেখে দিতে হবে, যাতে ময়লা পরিবহন দ্রুততার সঙ্গে করা যায়৷ যারা পলিথিন পাবেন না, তারা এ রকম পলিথিন কিনে ময়লা রাখতে পারেন৷

৫. যে সব এলাকায় গাড়ি পৌঁছানো সম্ভব নয় বা দেরি হবে, সেসব স্থানে বর্জ্য পলিথিনের ব্যাগে ভরে ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে৷ পশুর হাড়সহ শক্ত বর্জ্যগুলোও পলিথিনে দিয়ে দেওয়া ভালো৷

৬. নাড়িভুঁড়ি বা এ জাতীয় বর্জ্য কোনোভাবেই পয়ঃনিষ্কাশন নালায় ফেলা যাবে না৷

৭. যারা চামড়া কিনবেন, তারা কোনো বদ্ধ পরিবেশে চামড়া পরিষ্কার না করে এমন খোলামেলা স্থানে করতে পারেন, যেখানে ময়লা জমে দুর্গন্ধ হবে না৷ আর চামড়ার বর্জ্য অপসারণের জন্য জমিয়ে রাখতে হবে৷

৯. সবশেষে কোরবানির পশুর বর্জ্য নিজের উদ্যোগে পরিষ্কার করাই ভালো৷

কোরবানি মাংস সংরক্ষণ রান্নাবিষয় কটিপস
পশুর মাংস সংরক্ষণের কিছু নিয়ম আছে। তা মেনে চললে মাংসের অপচয় রোধ করা সম্ভব হয়৷ নিম্নে তা উল্লেখ করা হল—


মাংসের সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতি
কোরবানির ঈদে মাংসের সরবরাহ থাকে প্রচুর৷ তৈরি করা যায় বিভিন্ন স্বাদের ও বিভিন্ন ঢঙের মাংসের আইটেম৷ মাংস প্রাণিজ প্রোটিনের খুব ভালো উৎস৷ কাজেই সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে পারলে কোরবানির ঈদের পর্যাপ্ত মাংস দিয়ে কাটিয়ে দেওয়া যাবে নির্দ্বিধায় দুই মাস৷


১. হালকা লবণ ও হলুদ দিয়ে মাংসগুলোকে তাপ দিলে তা অনেক দিন সাধারণ তাপমাত্রায় রাখা যায়৷
২. আবার ভিনেগার দিয়েও মাংস সংরক্ষণ করা যায়৷ কোনো টিন বা বোতলে ভিনেগারে মাংস সম্পূর্ণভাবে ডুবিয়ে রাখলে মাংস ভালো থাকে অনেক দিন৷
৩. আর ভিনেগার যদি না পাওয়া যায়, তাহলে লেবুর রস ব্যবহার করা যেতে পারে৷ মাংসের টুকরোগুলোকে লেবুর রস দিয়ে মাখিয়ে ক্যানড করলে মাংস ভালো থাকে অনেক দিন৷
৪. ভিনেগার বা লেবুর রস ব্যবহার করলে মাংস সংরক্ষণের পাত্রটি ডিপ ফ্রিজে না রেখে রেফ্রিজারেটরে সাধারণ তাপমাত্রায় রাখতে হবে৷
৫. মাংস সংরক্ষণের সবচেয়ে আদি পদ্ধতি হল মাংস রোদে শুকিয়ে নেওয়া৷ হালকা লবণ দিয়ে মেখে নিয়ে রোদে ভালোভাবে শুকালে এই মাংস ভালো থাকে অনেক দিন৷ তবে শুকানোর পর অবশ্যই মাংসগুলো টিনে ভালো করে এঁটে রাখতে হবে, নয়তো পোকামাকড়ের আক্রমণে তার আবার পুষ্টি অপচয় হবে৷


চর্বি ছাড়া মাংস খান
সাধারণত মাংস কাটা হয় কিউব আকারে৷ এভাবে কাটলে মাংসের মধ্যে চর্বির স্তরগুলো থেকেই যায়৷ এ জন্য মাংসের টুকরাগুলো স্তরে স্তরে কেটে চর্বির অংশটুকু বাদ দিন৷ সিনা, রান যেকোনো অংশ থেকেই এভাবে চর্বি বাদ দিয়ে শুধু লাল মাংসটুকু রাখা যেতে পারে৷
যাদের কোলেস্টেরলে সমস্যা রয়েছে, তারা মাংস প্রথমে সিদ্ধ করে পানিটুকু ফেলে দিন৷ এরপর ইচ্ছামাফিক রান্না করুন৷ এতেও চলে যাবে অনেকখানি চর্বি৷
গ্রিল করা মাংসে চর্বি প্রায় থাকেই না বলা যায়৷ রোস্ট বা অন্য কোনোভাবে রান্না না করে তাই গ্রিল খাওয়া অনেক স্বাস্থ্যকর৷
সাদা সিরকা, লেবুর রস ও লবণ মাখিয়ে কাঁচা মাংস ভিজিয়ে রাখুন সারা রাত৷ এভাবে রাখলে মাংসের প্রায় ৮০ শতাংশই চর্বিই চলে যায়৷ এরপর তা সংরক্ষণ করা যেতে পারে অথবা রান্না করতে পারেন আপনার পছন্দমতো৷

কোন অংশের মাংস দিয়ে কী রান্না করবেন?
সব মাংস দিয়ে সব ধরনের আইটেম তৈরি করা যায় না৷ তাই রান্নার আগে তাকে ওই মাংস সম্পর্কে সচেতন হয়ে রান্না শুরু করতে হবে৷ এবার জেনে নিন কোন অংশের মাংস দিয়ে কি কি তৈরি করা যাবে৷
রানের মাংস : কোরমা, টিকিয়া, বিফ বার্গার, কোপতা, বিরিয়ানি ইত্যাদি তৈরি করা যাবে৷
পেটের দুই পাশের মাংস :শিক কাবাব, হাঁড়ি কাবাব, কিমা, কোপ্তা, শামি কাবাব তৈরি করা যায়৷
হাঁটু থেকে পায়ের অংশ পর্যন্ত : স্যুপ ও কারির জন্য ভালো৷
সিনার মাংস : তেহারি, কারি, রোস্ট ও কোমরের মাংস দিয়ে রোস্ট, কোরমা, বিরিয়ানি তৈরি করা যাবে৷
মাংস তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হতে পেঁপে দিতে পারেন অথবা ব্যবহার করতে পারেন সামান্য চিনি৷
মাংসের স্বাদ এটি কষানোর ওপর নির্ভর করে৷ কষানোর পর পানি দিয়ে ফুটিয়ে ঢেকে আঁচ মধ্যম করে দিন৷ আস্তে আস্তে মাংস সিদ্ধ হয়ে আসবে৷

রান্নার সময় ঢেকে রান্না করবেন এতে খাবারের মান ভালো থাকে৷ এ ছাড়া মাংসও তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয়ে যায়৷

তথ্যসূত্র : ইন্টারনেট।

(দ্য রিপোর্ট/এসও/এইচএসএম/সা/সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৫)