প্রচ্ছদ » মুক্তমত » বিস্তারিত

আবু সাঈদ মো. শায়খুল ইসলাম এফসিএমএ

রাজস্ব বৃদ্ধি ও জাতীয় প্রবৃদ্ধি অর্জনে পরিকল্পনা জরুরি

২০১৫ সেপ্টেম্বর ২২ ২১:৩২:৫৫
রাজস্ব বৃদ্ধি ও জাতীয় প্রবৃদ্ধি অর্জনে পরিকল্পনা জরুরি

সম্প্রতি চীনের শেয়ারবাজারে ধস বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। ২০০৮ সালের বিশ্বমন্দার পর এটি বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা। আমেরিকার অর্থনীতির সংকটের কারণে ২০০৮ সালে বিশ্বমন্দা তৈরি হয়েছিল। এবারের সংকটের উৎস হচ্ছে চীন। অপরদিকে ২০০৯ সালের পর গত ৬ বছরের মধ্যে বাণিজ্যে বড় ধরনের পতনের কারণে চলতি বছরের প্রথমার্ধ অর্থনীতির জন্য একটি দুঃসময় অতিবাহিত হয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক রফতানি বাজার থেকে সুবিধা আদায়ে চীন, ভারতসহ বেশ কযেকটি দেশ তাদের মুদ্রার মান কমিয়েছে।

অবশ্য চীনের শেয়ারবাজার ধস ও মুদ্রার মান কমানোর ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে কি ধরনের প্রভাব পড়বে এ নিয়ে এখনই স্পষ্ট করে কোন কিছু বলা সমীচীন হবে না। তবে পরিস্থিতির যেভাবে মোড় নিচ্ছে তা অর্থনীতির জন্য হতাশাজনক।

বিশ্ব অর্থনীতিতে ১৯৩০ সালের মতো আরও একটি মন্দা ধেয়ে আসছে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার গভর্নর ড. রগুরাম গোবিন্দ রাজন। চলতি বছরের ২৫ জুন লন্ডন বিজনেস স্কুলে এক বক্তৃতায় তিনি এ আশংকার কথা প্রকাশ করেন। তার এ আশংকার বিষয়টি বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতিবিদদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। কারণ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি এক দশক আগেই ২০০৮ সালে বিশ্বমন্দার বিষয়ে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। তখন তার বক্তব্যকে কেউ পাত্তা দেয়নি বরং নানা ধরনের তির্যক মন্তব্য হজম করতে হয়েছিল তাকে। কিন্তু ২০০৮ সালে মন্দা শুরুর পর তার সে পূর্বাভাসের সত্যতার প্রমাণ পেয়েছে বিশ্ববাসী।

ড. রাজন বলেছেন, ১৯৩০ সালের মতোই অর্থনীতিতে সংকট তৈরি হতে যাচ্ছে। এবার শুধু শিল্পোন্নত বা উদীয়মান দেশগুলোই নয়, এ সংকট হবে বিশ্বব্যাপী। তার এ বক্তব্যের দুই মাস না যেতেই চীনের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস নামে। চীনের শেয়ারবাজারে ধসের প্রেক্ষিতে ২৪ আগস্ট সোমবার ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্যসহ এশিয়ার শীর্ষ শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস নামে। শেয়ারবাজারে এ ধরনের ধসের কারণে এটিকে ‘কালো সোমবার’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

ড. রগুরাম একটি সাক্ষাতকারে অভিযোগ করে বলেন, ১৯৩০ সালের মন্দা থেকে যে শিক্ষা নেওয়া দরকার ছিল বিশ্বের অনেক ম্যাক্রো ইকোনমিস্ট তা গ্রহণ করেননি। তবে তিনি এও বলেছেন, অতীতের মতো অর্থনীতিতে যাতে কোন সংকট তৈরি না হয় সেজন্য বিশ্ব অর্থনীতিবিদ ও বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে আর্থিক খাতে সুনিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার বিষয়টির ওপর জোর দিয়েছেন।

বিশ্বের তুলনায় বাংলাদেশের শেয়ারবাজার খুবই ছোট এবং তাৎপর্যহীন বলে বিবেচনা করা হয়। এ কারণে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে কোন ধরনের সংকট তৈরি হলেও আমাদের শেয়ারবাজার বা অর্থনীতির ক্ষেত্রে তার তেমন কোন প্রভাব পড়বে না। তারপরও আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, এখন বিশ্বায়নের যুগে আমরা গ্লোবাল ভিলেজের নাগরিক। চীন বা চীনের মতো বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতি, রফতানি বা মুদ্রার মান বা শেয়ারবাজারে বড় ধরনের কোন পরিবর্তন ঘটে তার প্রভাব বিশ্বের অন্যান্য দেশেও পড়বে। চীনের সংকটের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কি ধরনের বিরূপ প্রভাব পড়বে এটি এখন স্পষ্ট না হলেও আমাদের জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা বটে।

চীনের অর্থনীতির ভিত্তি অনেক মজবুত বলে ধারণা করা হয়। তারপরও পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য নতুন করে অর্থ যোগান দেওয়াসহ বেশ কিছু আর্থিক উপায় বেছে নেওয়া হয়েছে। কমানো হয়েছে দেশটির মুদ্রার মান। তবে চীনের মুদ্রার মান কমানোর বিষয়টি অনৈতিক বলে আখ্যা দিয়েছে আমেরিকা। তবে আমেরিকাও সুদের হার বাড়ানার বিষয়টি বিবেচনা করছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে এটি বাড়ানোর কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা থেকে সরে এসেছে ফেডারেল রিজার্ভ। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে সুদের হার বাড়তে পারে। সুদের হার বাড়লে বিশ্বের অন্যান্য দেশের প্রবৃদ্ধিতে তার প্রভাব পড়বে।

এখন চীন তার অর্থনৈতিক সংকট থেকে কিভাবে উত্তরণ ঘটায় সেটি দেখার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। অর্থনীতিবিদরা আশংকা করছেন, চীনের মু্দ্রার মান সহসাই বাড়ার কোন সম্ভাবনা নেই। যদি এমনটিই হয় তাহলে ইউরোপ, কানাডা এমনকি আমেরিকার অর্থনীতিতে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। যদি ইউরোপে প্রভাব পড়ে তাহলে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে আমাদের তৈরি পোষাক শিল্প অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

অপরদিকে সম্প্রতি বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ব্যাংকিং কর্মকান্ড বেড়ে যাওয়ার কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে যদি কোন পরিবর্তন ঘটে তার প্রভাব আমাদের আর্থিক খাতে পড়বে। উপরন্ত মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে আমাদের রেমিট্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশংকা রয়েছে। যদিও বর্তমানে ২৬ বিলিয়ন ডলারের সন্তোষজনক রিজার্ভ আমাদের রয়েছে। তবে বিশ্বঅর্থনীতির সংকটের কারণে যদি রেমিটাররা দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হন তাহলে সামাজিক অস্থিরতা ও বেকারত্ব সমস্যা তীব্র হয়ে উঠতে পারে। দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এখনই সরকারের উচিত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এটা এজন্য আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আগামী ৩ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার বিষয়ে সচেষ্ট রয়েছে।

অপরদিকে তেলের মূল্য অব্যাহত পতনের কারণে মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ার অর্থনীতি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। যদিও একটি অংশ মনে করছে, রাশিয়াকে বিপাকে ফেলার জন্য আমেরিকা কৌশল করে তেলের মূল্য কমিয়ে রাখছে। কিন্তু তা যাই হোক না কেন, বাস্তবে পরিস্থিতি সত্যিই উদ্বেগজনক। তেলের দরপতন আরও এক বছর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশংকা করছেন। অপরদিকে লিবিয়া, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেনসহ কয়েকটি দেশে রাজনৈতিক সংকট ও যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সহসাই এসব সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা যায় না। উপরন্তু উদ্বাস্তু সমস্যা ও মানব পাচার নতুন সংকট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। উদ্বাস্তু সমস্যার কারণে ইউরোপের সামাজিক ও অর্থনীতিতে সংকট তৈরি করছে। এ কারণে আমাদের তৈরি পোষাক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বস্তুত সব মিলিয়ে বিশ্বের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা এ মুহূর্তে মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়।

তবে বর্তমান সংকটের মধ্যে বিশেষ করে জ্বালানি তেলের মূল্য কমে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশের লাভবান হওয়ার সুযোগও তৈরি হয়েছে। এছাড়া ভারত ও চীনের মুদ্রার মান কমে যাওয়ার কারণে প্রতিযোগিতামূলক রফতানি বাজার থেকেও আমরা লাভবান হতে পারি। বিশ্বে যে সব সংকট চলছে তা থেকে আমরা নিরাপদে রয়েছি বলে অনেকের কাছে প্রতীয়মাণ হতে পারে। তবে বিশ্বে যে সব পরিবর্তন ঘটছে তার প্রেক্ষিতে আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হই এবং যেসব সুযোগ তৈরি হয়েছে সেগুলো ঠিকমতো কাজে লাগাতে না পারি তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।

যদি আমরা আমাদের উৎপাদন ও পরিবহন খরচ কমাতে পারি তাহলে তেলের মূল্য কমে যাওয়ার কারণে যে সুযোগ তৈরি হয়েছে তা কাজে লাগাতে পারবো। আর যদি তা না হয় তাহলে এতে সরকারের আয় হয়ত বাড়বে কিন্তু আমরা রফতানির বাজারে বিশেষ করে তৈরি পোষাক খাতের জন্য প্রতিযোগিতার সক্ষমতা হারাবো। বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির কারণে শিল্পমালিক ও বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। শিল্পমালিকরা বলছেন, বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য দেশীয় স্পিনিং, ডায়িং, স্টিল এবং রি-রোলিং মিলস এবং অন্যান্য শিল্প উৎপাদনের জন্য অনুকূল নয়। অপরদিকে জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির ফলে পরিবহন ব্যয়ও বাড়বে এর ফলে পণ্যের দরও বেড়ে যাবে। এতে দরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাবে। এর ফলে সরকার রফতানি শুল্ক ও ভ্যাট থেকে কাঙ্ক্ষিত আয় করতে সক্ষম হবে না।

আমদানি ও রফতানি উভয় ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে মুদ্রার মূল্যায়নের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রেক্ষিতে আমাদের মুদ্রার মূল্যায়নের বিষয়টিও আমাদের জন্য জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা যাতে আমদানি ও রফতানির মাধ্যমে সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জন করতে পারি সে জন্য ব্যালেন্স অব পেমেন্ট ইস্যুটি সঠিকভাবে বিধৃত করতে হবে।

চীন ও ভারত তাদের দেশের মুদ্রার মান কমিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন একটি ভারসাম্য নীতি গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়ছে যাতে সরকারের আয়ও বাড়ে এবং অপরদিকে ব্যবসার ব্যয় কম হয়। বর্তমান বিশ্বের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে সামাজিক-অর্থনৈতিক সুবিধার বিষযটির ওপর সরকারের জোর দেওয়া উচিত। যদি দেশের অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করা যায় তাহলে দেশের মানুষের আয় ও ক্রয় সক্ষমতা বাড়বে। এরফলে সরকারের আয়ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়বে।

বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমাজের সব শ্রেণী পেশার মানুষের মধ্যে অনেক সমর্থক রয়েছে। বুদ্ধিজীবী, অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, আইনজীবী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, শিক্ষকসহ অন্যসব পেশাজীবীর মধ্যে আওয়ামী লীগের অনেক সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষি রয়েছে। সুতরাং একথা বলার অপেক্ষা রাখে না, শুধু আমলা নির্ভর না হয়ে শুধু এসব পেশাজীবীকে নিয়ে সরকার নিজস্ব একটি থিংক ট্যাংক তৈরি করতে সক্ষম যারা জাতীয় এবং বিশ্ব অর্থনীতির সংকট মোকাবেলায় কর্মকৌশল প্রণয়ন করতে পারবে। সুতরাং সরকারের উচিত অচিরেই অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, শিক্ষকসহ পেশাজীবী নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা। টাস্কফোর্স পণ্য, মুদ্রা, জ্বালানি তেলের মূল্য পরিবর্তনের বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করে সরকারকে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা দিতে পারে।

শিল্প উৎপাদনে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে এবং এটি চলতেই থাকবে। কিন্তু সরকারের উচিত এখনই জ্বালানিনীতির প্রণয়ন করা যাতে নীতির উপর ভিত্তি করে শিল্প উদ্যোক্তারা তাদের বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন। বাংলাদেশ যাতে বিনিয়োগের উৎকৃষ্ট ঠিকানা হতে পারে সেজন্য বিনিয়োগ বাড়ানোর সব ধরনের প্রচেষ্টা গ্রহণ করা উচিত। কারণ বিনিয়োগে অর্থ আসে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং দারিদ্র্য হ্রাস পায়।

এটি অস্বীকার করার কোন উপায় নেই যে, সরকারের আয় বিশেষ করে কর ও জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ানো বাংলাদেশের জন্য খুবই প্রয়োজন। আমাদের ট্যাক্স ও জিডিপির অনুপাত হার কাঙ্ক্ষিতমাত্রার চেয়ে অনেক নিচে অবস্থান করছে। কিন্তু এটি রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয়। কারণ কর দেওয়ার সংস্কৃতি আমাদের দেশে এখনও গড়ে উঠেনি। এদিকে ছাত্রদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফির ওপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে অপরদিকে উচ্চ আদালত ইংরেজী মাধ্যম স্কুলের ওপর আরোপিত ভ্যাট সংগ্রহে ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে চলতি অর্থ বছরে সরকারের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না। কিন্তু আমাদের জাতীয় অর্থনীতির জন্য প্রয়োজন জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও রাজস্ব আয় বৃদ্ধি। বাস্তবে যদি অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার না হলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়বে না আবার আয় না বাড়লে সরকারের রাজস্বও বাড়বে না।

কর ও জিডিপি পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত; যে কোন একটির বৃদ্ধি হলে অপরটিও বাড়বে। সুতরাং সরকারের উচিত আয় বৃদ্ধি এবং জাতীয় প্রবৃদ্ধি অর্জনে ভারসাম্য সৃষ্টিতে বুদ্ধিদীপ্ত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা।

লেখক : সভাপতি, ইনস্টিটিউট অব কস্ট এ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট এ্যাকাউন্টেন্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি)

• মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখা— লেখকের নিজস্ব চিন্তা ও মতের প্রতিফলন। দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম কর্তৃপক্ষ লেখকের লেখার বিষয়বস্তু, মত অথবা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের দায় নেবে না।