প্রচ্ছদ » সাহিত্য » বিস্তারিত

ইংরেজি নভেল গথিক নভেল ও নভেলের শৈশব

২০১৫ সেপ্টেম্বর ২৪ ১৩:৩৯:২১
ইংরেজি নভেল গথিক নভেল ও নভেলের শৈশব

সাবিদিন ইব্রাহিম

বলে নেওয়া ভাল, এই লেখাটিতে ইংরেজি সাহিত্যে নভেলের আবির্ভাব, শৈশব ও বিকাশ নিয়ে বলা হয়েছে। মোটা দাগে বলা যেতে পারে এখানে বড়জোর যৌবনে একটু উঁকি দেওয়া গেছে, এর থেকে আপাতত বেশিকিছু নয়।

ইংরেজি নভেল এবং কলোনিয়ালিজম পিঠাপিঠি বড় হয়েছে, হৃষ্টপুষ্ট হয়েছে, যৌবন পেয়েছে এবং দাপট দেখিয়েছে। ইউরোপে রেনেসাঁ যখন তার পুরুষদেরকে ঘরের বাইরে বের করে আনছিল, নতুন নতুন ভূখন্ড সন্ধানে বের করে দিচ্ছিল তখন নারীরা কিন্তু অতটা ক্ষমতায়িত হয়নি। তারা সনেটে, কবিতায় নায়িকা হিসেবে পূজিত হলেও ঘরে তাদের দায়িত্ব সংসার ব্যবস্থাপনা পর্যন্তই ছিল। তাদের শিক্ষা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ছিল চিঠি লেখা এবং পড়তে পারা পর্যন্ত। শিল্প বিপ্লবের পর আরেকটু বেড়েছে। অষ্টাদশ শতকেও মনে করা হতো নারীর মস্তক কঠিন চিন্তা করার জন্য ফিট নয়। তারা সন্তান প্রজনন এবং পরিবার দেখাশুনা করা নিয়েই ব্যস্ত থাকুক। তাদের কাজ হচ্ছে ঘর-গৃহস্থালি দেখা, সন্তান পয়দা ও লালনপালন করা। পুরুষরা যতদূর ইচ্ছা লেখাপড়া করতে পারলেও নারীদের শিক্ষা ছিল বড়জোর পড়তে ও লিখতে পারা পর্যন্ত। বিভিন্ন ক্রিশ্চিয়ান কনভেন্টে মেয়েরা বিয়ের আগ পর্যন্ত বিভিন্ন কেতাবাদি পড়া, ল্যাটিন ও ফরাসী ভাষার মৌলিক পাঠ আর সেলাই কর্মে হাত পাকানোর প্রশিক্ষণ নিতো। এর বাইরে সিরিয়াস পড়াশুনা করা সম্ভব ছিলনা। এই সময়টাতে যেসব নারী একটু বেশি পড়াশুনা করেছেন তাদের বেশিরভাগই বাড়িতে, বাবা ও উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত বিশাল লাইব্রেরিতে। ম্যারি ওলস্টোনক্রাফ্টের পেছনে ছিলেন তার স্বামী উইলিয়াম গডউইন, ম্যারি শ্যালির পেছনে বাবা উইলিয়াম গডউইন, মা ম্যারি ওলস্টোনক্রাফ্ট আর স্বামী পি.বি. শ্যালী। জেন অস্টিন অবিবাহিত ছিলেন এবং বাবার লাইব্রেরিতেই প্রস্তুতি। ব্রন্তি বোনত্রয়ী (শার্লট, এমিলি ও অ্যান ব্রন্তি)ও বাবার বাসাতেই প্রস্তুতি ও বিকাশ।

এর বাইরে বিশাল যে নারী সমাজটি ছিল তাদের কাজ ছিল কি, তাদের বিনোদন ছিল কোথায়? যারা আবার একটু লিখতে পড়তে জানে, যাদের বাবা, স্বামী, প্রেমিক ও ভাই দূরের বিভিন্ন ভূখণ্ডে রাজ দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত। তাদের কাছে চিঠি লিখে হাত শান দেওয়া এবং নভেল নামক নতুন ধারাটি পাঠ করে সময় পার করার সুযোগ পায়। এই বিশাল নারী পাঠকশ্রেণীকে পড়ার উপকরণ দেওয়ার তাগিদেই নভেল একটি ফর্ম আকারে সমৃদ্ধ হতে থাকে। এখন যেমন বিভিন্ন সিরিয়ালের প্রধান ভোক্তা নারী তেমনি তখন নভেলের বাজার তৈরিতে এই অলস পাঠক শ্রেণীটি বেশ ভালো ভূমিকা রেখেছে।

ইংরেজি সাহিত্যের প্রথম নভেল ধরা হয় স্যামুয়েল রিচার্ডসন এর ‘পামেলা’কে। ‘পামেলা’ কেমন আমরা যদি তার দিকে খেয়াল করি দেখবো সেটা আসলে নবীন প্রেমিক-প্রেমিকা বা স্বামী-স্ত্রীকে প্রেমপত্র লেখাদির কলা। তার অন্যান্য নভেলগুলোতেও চিঠির আধিক্য আছে। গ্রেট ব্রিটেনের বিশাল সাম্রাজ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল পুরুষকুল, তরুণসমাজ। তাদের স্ত্রী বা প্রেমিকাদের বেশিরভাগই ছিল ব্রিটেনে। তখন যোগাযোগের সহজলভ্য মাধ্যম ছিল চিঠি। নারীদের নতুন পাওয়া পড়তে ও লিখতে শেখার চর্চা হতো এই চিঠি লেখালেখির মাধ্যমে। এজন্য স্যামুয়েল রিচার্ডসনের ‘পামেলা’ ইংরেজি সাহিত্যের প্রথম সার্থক নভেল হতে বাধ্য। ‘পামেলা’ প্রকাশিত হয়েছিল ১৭৪০ সালে।

অষ্টাদশ ও উনবিংশ শতকে গ্রেট ব্রিটেনের বিশাল উপনিবেশ এবং তা থেকে অর্জিত, সংগৃহীত অকল্পনীয় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ব্রিটেনে একটি বিশাল অলস শ্রেণী তৈরি করে। সেখানে পুরুষদের কাজ ছিল বিভিন্ন ক্যাফেতে যাওয়া, আড্ডা মারা, তর্ক করা আর নারীদের কাজ ছিল কয়েক পলেস্তেরা মেকাপ লাগিয়ে এই সব আড্ডার রওশন বাড়িয়ে দেওয়া। তাদের বেশিরভাগের অবস্থা ছিল টিএস এলিয়টের ‘ইন দ্য রুম ওম্যান কাম এন্ড গো টকিং অব মাইকেল এঞ্জেলো’র মতো!

এই অলস পাঠক শ্রেণীটিও নভেলের বিকাশে ভূমিকা রেখেছে বৈকি।

নিয়ন্ত্রিত মঞ্চ ও নভেলের বিকাশ

১৭৫০ এর আগে ‘নভেল’ শব্দটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। সাহিত্যের একটি ফর্ম হিসেবে আবির্ভূত হয়েই সেটা জুলিয়াস সিজারের মত সাহিত্যজগতে ‘এলাম, দেখলাম এবং জয় করলাম’ বলে উঠলো।

স্টেজ বা মঞ্চ কয়েক হাজার বছর ধরে একটি গণতান্ত্রিক মাধ্যম এবং সেখান অনেক লোকের সমাগম হয়ে থাকে। এজন্য রাজতন্ত্র এটাকে নিয়ন্ত্রিত রেখেছে বিভিন্ন সময়। আবার ধর্মীয় বিভিন্ন উত্থান-পতনের সময়গুলোতে এর উপর প্রভাব পড়েছে। পিউরিটান পিরিয়ড বা ক্রমওয়েলের ইংল্যান্ডে তো থিয়েটার নিষিদ্ধ ছিল। রেস্ট্রোরেশন পিরিয়ডে থিয়েটার উন্মুক্ত হলো। এর পরবর্তীতে বিভিন্ন শাসনকালে এবং ফরাসী বিপ্লব পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে রাজ বিভিন্নভাবে থিয়েটারের উপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা করতো।

ব্রিটেন সব সময়ই বিপ্লবকে ভয় পেতো এবং কোন ধরণের বিপ্লব দানা বাধার সুযোগ দেয়া হতো না। এজন্য ফরাসী বিপ্লোবত্তর উনবিংশ শতকের প্রথম দিকে নাটকের উপর শক্ত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আসা হয়। এ সময়কালটাকে পিউরিটান পরবর্তী সবচেয়ে কঠিন সময় ধরা যায় নাটক থিয়েটারের জন্য। থিয়েটার ও নাটক নিয়ন্ত্রণের যে ‘লাইসেন্সিং অ্যাক্ট’ ছিল সেটাও ১৮৪৩ সালে রহিত করা হয়। এটা রহিত করার আগে মাত্র দুটি থিয়েটার নাটক নিয়ে আসতে পারতো। ‘দ্রুরি লেন’ ও ‘কভেন্ট গার্ডেন’ নামে দুটো থিয়েটার বৈধ (লেজিটিমেট) ও কথ্য (স্পৌকেন) ড্রামা আনতে পারতো। আর বাকিরা শুধু গীতিনাট্য (মিউজিক্যাল প্লে) মঞ্চায়ন করতে পারতো। সেখানে নাচ-গান থাকতো, সংলাপ থাকতো না। মঞ্চের এই চাপা সময়টাতেই নভেল একটি ফর্ম আকারে ফুলে ফেঁপে উঠে।

গথিক নভেল, নভেলের শৈশব

অষ্টাদশ শতকের শেষভাগটাতে একটি নতুন ঘরানার নভেল আসে। পরবর্তীতে যাকে গথিক নভেল (Gothic Novel) অভিধা দেওয়া হয়। হোরেস ওয়ালপুল, এক প্রধানমন্ত্রীর তনয় ‘ক্যাসল অব অত্রান্তু: অ্যা গথিক স্টোরি’ নামে একটি নভেল লিখেন। ১৭৬৪ সালে প্রকাশিত এই নভেলটি পরবর্তীতে আরও একই ধাচের নভেলকে প্রভাবিত করে, বা অনেক লেখক এ ধাচে লেখা শুরু করেন। একই ধারার আরেকটি গথিক নভেল হচ্ছে ক্লারা রিভ এর ‘দ্য চ্যাম্পিয়ন অব ভার্চ্যু: অ্যা গথিক স্টোরি’ যেটি প্রকাশিত হয় ১৭৭৭ সালে। এ ধারার লেখার কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এগুলোর সেটিং ও কাহিনী মধ্যযুগের কোন পুরনো প্রাসাদকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। রহস্য, খুন, ভয়ংকর কাহিনী, আধিভৌতিক গল্প গথিক নভেলের প্রয়োজনীয় অনুসঙ্গ। এই ধারার সবচেয়ে সফলদের মধ্যে নারীদের উপস্থিতি বেশি। একটা কারণ হতে পারে সমকালীন নারীদের বদ্ধ জীবন এবং তার প্রকাশের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম ছিল এটি। সহজ ভাষায়, সরাসরি যে কথাগুলো বলা যায়না, পুরুষতান্ত্রিক ও সামন্ততান্ত্রিক সমাজের যে অসংগতি সরাসরি বলা সম্ভব ছিল না এটা গথিক স্টাইল সম্ভব করে দিয়েছিল। পুরুষের নির্যাতন ও বঞ্চনাকে সরাসরি উপস্থাপন না করে কোন আধিভৌতিক, ভয়ংকর, খুনে চরিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা খুব কাজের ছিল।

অ্যান র‌্যাডক্লিফ একজন উল্লেখযোগ্য লেখিকা। ‘দ্য মিস্ট্রিজ অব ওডলফো’(১৭৯৪) এবং ‘দ্য ইতালীয়ান’(১৭৯৭)-এ দুটি নভেলে একজন হোমি ফ্যাটালে বা ভয়ংকর পুরুষ ভিলেন চরিত্রে থাকেন। (একই ধাচের ‘ফেমে ফেটালে’-ভয়ংকর/ধ্বংসাত্মক নারী)

সে সাধারণত খুবই রহস্যজনক ও নিঃসঙ্গ পুরুষ হয়ে থাকে এবং অন্যের উপর নির্যাতন করে থাকে কারণ সে নিজেও অপ্রকাশ্য অপরাধবোধে আক্রান্ত। ভিলেন হওয়ার পরও পাঠকের মনে নায়কের চেয়ে বেশি আগ্রহের স্থান নিয়ে থাকতো। এই গথিক স্টাইলের প্রভাব রোমান্টিক কবিতাতেও প্রভাব ফেলেছে। রোমান্টিক কবিকুলের সর্দারদের একজন কোলরিজ এর ‘ক্রিস্তাবেল’ গথিক উপাদানে সমৃদ্ধ কবিতা। বায়রনের নায়ক-ভিলেন চরিত্রগুলোতে গথিক উপাদান ভালোভাবে পাওয়া যায়। জন কিটসের ‘ইভ অব সেন্ট এগনেস’-এর সেটিং ও বর্ণনামূলক অংশগুলো গথিক ধাঁচের।

এর সিলসিলা অনেক লম্বা সময়ের জন্য ছিল। শার্লট ব্রন্তির ‘জেন আয়ার’-এ ও আমরা এর প্রভাব দেখতে পাবো।

নতুন শতকের (১৯শ) শুরুতে আরেকটি ধাচের নভেল আবির্ভূত হয়। ফরাসী বিপ্লব দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নভেলে রাজনৈতিক ও সামাজিক তত্ত্ব নিয়ে আসেন তখনকার লেখকরা। এখানে একটি পরিবারের নাম উল্লেখ না করলে ইউরোপের সবচেয়ে সৃষ্টিশীল পরিবারের কাহিনী থেকে বঞ্চিত হবো। তাদের সময়কালে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে শিক্ষিত ও সৃষ্টিশীল সমাজের অংশ ছিল। গডউইন ও ম্যারি ওলস্টোনক্রাফ্ট দম্পতি তাদের সময়ের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন। উইলিয়াম গডউইন একজন রাজনৈতিক দার্শনিক। ১৭৯৪ সালে ‘কালেব উইলিয়ামস্’ (Caleb Williams) নামে একটি নভেল লেখেন যেখানে গল্পাকারে তার রাজনৈতিক মতাদর্শ তুলে ধরেন। তিনি দেখান কিভাবে অভিজাত শ্রেণীর ইচ্ছা, আকাঙ্খার কাছে নিম্ন শ্রেনীর মানুষের জীবন আটকে থাকে। তার স্ত্রী আধুনিক গ্রেট ব্রিটেনের ইতিহাসে আধুনিক চিন্তাভাবনা, শিক্ষাভাবনার অধিকারী হিসেবে স্বীকৃত। তার ‘অ্যা ভিনডিকেশন অব দ্য রাইটস্ অব ওম্যান’ (১৭৯২) ফেমিনিজমের সবচেয়ে প্রভাববিস্তারী লেখা। তাদের মেয়ে ম্যারি শেলী লিখেন ‘ফ্রাংকেনস্টাইন’। যা ওই নতুন ধারার নভেলের একটি। রোমান্টিক কবিকুলের বিদ্রোহী পুরুষ পি.বি. শ্যালী ছিলেন তার স্বামী। মা ম্যারি ওলস্টোনক্রাফ্ট যেমন ‘অ্যা ভিনডিকেশন অব দ্য রাইটস্ অব ওম্যান’ লিখে চিন্তা জগতে হইচই ফেলে দেন তেমনি ম্যারি শেলীর ‘ফ্রাংকেনস্টাইন’ সাহিত্য দুনিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং ক্লাসিকের মর্যাদা লাভ করে।

জেন অস্টিন

অষ্টাদশ ও উনবিংশ শতকের মিলনস্থলে, ইউরোপে নেপোলিয়নীয় যুদ্ধের উত্তাল সময়ে এক মহিয়সী লেখিকার জন্ম হয় একেবারে অগোচরেই। মাত্র বাইশ বছর বয়সেই ‘প্রাইড এন্ড প্রিজুডিস’ লিখে ফেলেন। কিন্তু তাকে এক যুগ অপেক্ষা করতে হয় নভেলটিকে আলোর মুখ দেখানোর জন্য। মাত্র ৪২ বছরের (১৭৭৫-১৮১৭) ক্ষুদ্র জীবনে ছয়টির মতো নভেল লিখেন যার কয়েকটি ক্লাসিকের মর্যাদা পাচ্ছে। ‘প্রাইড এন্ড প্রিজুডিস’ এর সাথে সাথে ‘এমা’, ‘সেন্স এন্ড সেন্সিবিলিটি’, ‘পার্সুয়েশান’ ও ‘ম্যান্সফিল্ড পার্ক’ ইংরেজি সাহিত্যে অনেক সম্মানজনক জায়গা নিয়ে রেখেছে। খ্রীষ্টান পাদ্রির এই মেয়েটি তার স্বল্প জীবনটার বেশিরভাগ সময়ে ঘটনাহীন জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন দক্ষিণ ইংল্যান্ডের গ্রাম-শহরগুলোতে বসবাস করে। তার নভেলের থিমগুলোও তার জানাশুনা জগত থেকেই নেওয়া। প্রেম, বিয়ে এবং উপযুক্ত পাত্র-পাত্রী খুঁজে পাওয়া পর্যন্তই। ভার্জিনিয়া ওল্ফ পরবর্তীতে সেটা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলবেন একজন মধ্যবিত্তের ড্রয়িংরুমে যেসব কাহিনীর সূত্রপাত হয় তার বাইরে যেতে পারেননি জেন অস্টিন। তার সময়ের আন্তর্জাতিক রাজনীতির উত্তাপ কেন তার লেখনীতে পড়েনি সেটা বিস্ময়ের ব্যাপার বৈকি। তবে তার সীমানায় তিনি সফল হয়েছেন এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। সমসাময়িক স্যার ওয়াল্টার স্কট(১৭৭১-১৮৩২) যখন গ্যোতে ও বায়রনের মত আন্তর্জাতিক লেখকের সম্মান পাচ্ছিলেন তখন জেন অস্টিন শুধু একটি সীমিত সংখ্যক পাঠকের দ্বারাই আদৃত হতেন। কিন্তু কালের পরিক্রমায় নভেলের মহারাণীর আসনে স্থান পেতে থাকেন জেন অস্টিন। তার ভক্ত বা তার প্রতি সহানুভূতিশীল সমালোচকরা অনেক সময় অতি আবেগে বা অতি ভালোবাসার প্রাচুর্যে তাকে ইংরেজি সাহিত্যের সেরা লেখিকার আসন দিয়ে থাকেন। এটা সাহিত্যের অনেক পণ্ডিত মেনে নেন না, বা তীব্র বাদানুবাদ করেন। তবে তিনি যে শীর্ষ একটি আসন দাবি করতে পারেন এ নিয়ে মতান্তর নেই।

রোমান্টিক যুগ (১৭৯৮-১৮৩২)এ যেমন কবিদের জয়জয়কার ছিল তার পরবর্তী ভিক্টোরীয় যুগটি ছিল নভেলের। সে সময়টাতে চার্লস ডিকেন্স, থ্যাকরে, কার্লাইল, ক্রিস্টিনা রসেটি, রাশকিন, ব্রন্তি বোনত্রয়ী, জর্জ এলিয়ট ও থমাস হার্ডির মতো লেখকদের হাত ধরে ইংরেজি নভেল তার শিখরে পৌছায়।

তথ্যসূত্র

১. মডার্ন ফিকশন, ভার্জিনিয়া ওল্ফ

২. অ্যা রুম অব ওয়ান’স ওন, ভার্জিনিয়া ওল্ফ

৩. লিটারেরি থিওরি, অ্যান ইনট্রুডাকশান, টেরি ঈগলটন

৪. নর্টন এনথলজি অব ইংলিশ লিটারেচার, ভলিউম-২, সিক্সথ এডিশন

৫. অ্যা হিস্ট্রি অব ইংলিশ লিটারেচার, রবার্ট হানটিংটন ফ্লেচার

৬. ওম্যান এন্ড ফিকশন, ভার্জিনিয়া ওল্ফ

৭. অ্যান ইংলিশ অ্যানথলজি, নিয়াজ জামান, ফকরুল আলম ও ফিরদাউস আজিম সম্পাদিত

লেখক : কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক, বাংলাদেশ স্টাডি ফোরাম (বিডিএসএফ)