প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয় » বিস্তারিত

মিনায় রামি বিপর্যয়

২০১৫ সেপ্টেম্বর ২৭ ০০:০৫:০২

বড় একটি মানবিক বিপর্যয় ঘটে গেল মক্কার মিনায়। বৃহস্পতিবার জামারায় শয়তানকে উদ্দেশ করে পাথর মারার (রামি) সময় পদদলিত হয়ে ৭ শতাধিক হাজী মারা গেছেন, আহত হয়েছেন আরও বেশি সংখ্যক।

হজ পালনকালে মিনায় পদদলিত হয়ে হজ পালনকারীর মৃত্যুর ঘটনা নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে হজ পালনকালে পাথর নিক্ষেপের সময় পদদলিত হয়ে মৃত্যুর যে সব ঘটনা ঘটেছে সংখ্যার বিচারে এ দিনের ঘটনা উল্লেখযোগ্য। সৌদি আরব সরকার মৃতের সংখ্যা ৭৬৯ জন স্বীকার করলেও ইরানের মতো দেশ মৃতের সংখ্যা দুই হাজারের বেশি বলে দাবি করেছে।

বরাবরের মতো পবিত্র কাবা শরিফের গ্রান্ড মুফতি এ মৃত্যুকে আল্লাহর ইচ্ছা বলে বয়ান দিলেও বিতর্ক থামেনি। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলী খোমেনী সৌদি প্রশাসনকে দায়ী করেছেন এ ঘটনার জন্য। শুধু ইরান নয় সৌদি হজ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার জন্য এই মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে এমন দাবি আরও অনেকের। এমনকি একজন সৌদি শাহজাদার শাহীবহর নিয়ে মিনায় আসাকেও দায়ী করা হচ্ছে। কিন্তু সৌদি আরব সরকার দায়ী করেছেন হাজীদেরই।

যাই হোক, কোন বিপর্যয়েই জীবন থেমে থাকে না। আর এটি তো আল্লাহর হুকুম পালন করতে আসা। মৃতদেহ সরিয়ে ফেলার সাথে সাথে এবং মৃত্যুর সব চিহ্নও মুছে ফেলা হয়েছে দুর্ঘটনাস্থল থেকে। সৌদি সরকার তদন্ত কমিটি করেছেন একজন শাহজাদার নেতৃত্বে। হাজীরা হজের বাকি অংশ সারছেন। মক্কা আবার সরগরম। সরগরম সৌদি আরব।

আল্লাহর ইচ্ছায় মৃত্যু ঘটে এটাই বিশ্বাসীরা বিশ্বাস করেন। কিন্তু মৃত্যুর অপেক্ষায় মানুষ অকর্মন্য হয়ে বসে থাকে না। তাকে আল্লাহ হেকমত দিয়েছেন বেঁচে থাকার উপায় বের করতে, এটাও বিশ্বাসীর বিশ্বাস। প্রতিবছর যেখানে লাখ লাখ মানুষ হজ করতে যান সেখানে মাঝে মধ্যেই এ ধরনের বিপর্যয় ঘটলে ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তো উঠবেই। দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষকে অবশ্য বিপর্যয়ের দায় নিতে হবে। না পারলে অন্যদের সাহায্য নিতে হবে। সৌদি আরব সরকারকেও তা মানতে হবে।