প্রচ্ছদ » জেলার খবর » বিস্তারিত

পর্যটকদের ভিড়ে মুখরিত কুয়াকাটা

২০১৫ সেপ্টেম্বর ২৭ ১৭:০৯:৩৭
পর্যটকদের ভিড়ে মুখরিত কুয়াকাটা

পটুয়াখালী ও কুয়াকাটা প্রতিনিধি : ঈদের ছুটিতে আনন্দ উপভোগ করতে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত অবলোকন করার সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা পর্যটকদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে। আবাসিক হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁসহ পর্যটনমুখী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। রাখাইন মার্কেট, বৌদ্ধ মন্দিরসহ দর্শনীয় স্পটগুলোতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষণীয়।

আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও নৌ-পুলিশ বিভিন্ন দর্শনীয় স্পটে টহল জোরদার করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

উত্তাল সাগরের ঢেউ, নেই কোনো চোরাবালি, সব মিলিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে পুরো পরিবার নিয়ে ভ্রমণে হাতছানি দিচ্ছে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে পূর্বে গঙ্গামতি আর পশ্চিমে খাজুরার বন পর্যটকদের পদভারে জমে উঠেছে।

রাখাইনদের সর্ববৃহৎ মন্দির ও মিশ্রিপাড়ার বৌদ্ধমূর্তি, কুয়াকাটার পাতকুয়া, ইকোপার্ক, খাজুরা গহীন বনের ইকোপার্ক, কাউয়ার চরের বিশালাকৃতির বিচ আর গঙ্গামতির বনায়ন ও বিচে লাল কাঁকড়ার সমাবেশ, টুফানিয়ার চরদ্বীপ, সোনারচর, শুঁটকি পল্লী, রাখাইনপাড়ার তাঁতশিল্পসহ আরও কত আকর্ষণীয় স্পট হাতছানি দিয়ে ডাকছে কুয়াকাটায় পর্যটকদের।

ফরিদপুর থেকে আসা পর্যটক দম্পতি নাসরিন এমা ও তার মেয়ে ইভা বলেন, ‘কুয়াকাটার সাগর আর নিরাপদ বিচ দেখে আমরা মুগ্ধ। বিচের ভাঙন রোধ করা গেলে কুয়াকাটা হবে বিশ্বের প্রথম সারির পর্যটন স্পট।’

বরিশালের বাংলাবাজার থেকে আসা পর্যটক দম্পতি মো. শাওন খান (৩৫) ও সুমনা খান (২৫) বলেন, ‘কুয়াকাটা খুব সুন্দর জায়গা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো। তাই আমরা ঈদের ছুটিতে অবকাশ যাপনে এখানে এসেছি। মেঘলা আকাশের কারণে সূর্যাস্ত দেখতে না পারায় একটু মন খারাপ হয়েছে। তবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর কুয়াকাটায় বার বার ছুটে আসতে ইচ্ছে করে।’

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল মালিক ওনার্স এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ জানান, এবার ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভিড় তেমন একটা না থাকলেও কুয়াকাটায় পর্যটকদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।

নীলাঞ্জনা আবাসিক হোটেলের ব্যবস্থাপক মো. নজরুল ইসলাম জানান, প্রচুর পর্যটকের আগমন হওয়ায় রুম দিতে পারছেন না তারা।

কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সঞ্জয় মণ্ডল জানান, ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটায় আগতদের নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। পর্যটকরা নির্বিঘ্নে কুয়াকাটাকে ইনজয় করছেন।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, কুয়াকাটার সৌন্দর্যমণ্ডিত যেসব স্থাপনা রয়েছে, সেগুলো পর্যটকদের কাছে তুলে ধরার জন্য পর্যটন দিবসে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

(দ্য রিপোর্ট/আসা/এমএআর/সা/সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৫)