প্রচ্ছদ » জাতীয় » বিস্তারিত

‘বাবার হাতেও শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার’

২০১৫ অক্টোবর ০১ ১৮:৫৭:৪১
‘বাবার হাতেও শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার’

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : বাংলাদেশে ‌‍‘ক্লোজ রিলেটিভ’ এমনকি বাবার হাতেও শিশুরা যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উইমেন সাপোর্ট এ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের উপ-পুলিশ কমিশনার ফরিদা ইয়াসমীন। পুলিশের এ বিভাগটির বিভিন্ন মামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি এ তথ্য জানান।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিত ‘যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ আইন, ২০১০ (খসড়া)’ প্রস্তাবনা বিষয়ে মতবিনিময় সভায় তিনি এ সব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘এ বছর আমরা ১৭টি মামলা দেখছি সেক্সুয়াল হেরেজমেন্টের। আমাদের কাছে যে অভিযোগগুলো আসছে তার একটি শ্রেণী আছে। নিম্ন ও উচ্চবিত্তরা অভিযোগ করছে, মধ্যবিত্তরা আসছে না। তারা হজম করছে যেন তা পাবলিকলি সামনে চলে না আসে। শিশুরা ক্লোজ রিলেটিভদের হাতে ধর্ষিত হচ্ছে। আর দেওয়ালে পিঠ ঠেকলে বিচারের জন্য নির্যাতিতরা আসে। বাবা মেয়েকে ধর্ষণ করেছে এমনও হয়েছে। শিশুরা ফিজিক্যাল গ্রোথ বোঝে না। তারা মামা-খালু-চাচা এমনকি নানার দ্বারাও ধর্ষিত হচ্ছে। এ সব আমরা জানি, আপনারা জানেন, কিন্তু মুখ ফোটে কেউ বলছে না।’

তিনি বলেন, নির্যাতনের ফলে তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। স্পেসিফিক আইন না হলে এ সব বন্ধ হবে না। নির্যাতিত শিশুদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ১৮-এর নিচের বয়সীরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি।

তিনি আরও বলেন, শুধু শাস্তি দিয়ে তা বন্ধ হবে না। কারণ যারা এ অপরাধগুলো করছে তারা সুস্থ লোক না, তাদের সংশোধন দরকার।’ এ সময় তিনি মেয়েদের সাহসী হওয়ারও আহ্বান জানান।

আলোচনায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের সমন্বয়কারী ডা. বিলকিস বেগম বলেন, অনেকে যৌন হয়রানিকে খেলাধূলা মনে করছে। একে অপরাধ মনে করে না। আইনের মাধ্যমে এ সব অপরাধের শাস্তি দিতে হবে। সরকার ও এনজিও ছাড়াও সবাইকে এ সব প্রতিরোধে যার যার জায়গা থেকে এগিয়ে আসতে হবে। যৌন নির্যাতন কমে এলে মেয়েরা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সবক্ষেত্রে এগিয়ে যাবে।

সভায় মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি অর্পিতা রায় যৌন নির্যাতন রোধে মোবাইল কোর্ট চালুর দাবি জানান।

মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পক্ষ থেকে কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু। তিনি দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৫০৯ এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ অধ্যাদেশ ১৯৭৬-এর ধারা ৭৬-এ চিঠিপত্র, টেলিফোন, মোবাইল ফোন, ইমেইল, এমএমএস, আইএম, এসএমএস, বেঞ্চ-চেয়ার-টেবিল বা নোটিশ বোর্ড লিখন, নোটিশ, কার্টুনের মাধ্যমে নারীকে হেয় করা বা উত্ত্যক্ত করা; অপ্রাসঙ্গিক যৌন বিষয় উত্থাপন করে হয়রানিমূলক আচরণসহ কয়েকটি বিষয় অন্তর্ভুক্তের দাবি জানান।

এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধন ২০০৩)-এর ধারা ১০-এ যৌন উস্কানিমূলক, বিদ্বেষমূলক বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে কুৎসা রটনা করে সম্মানহানি করা অথবা এ উদ্দেশ্যে চলচ্চিত্র, স্থিরচিত্র, ডিজিটাল ইমেজ, ফেসবুক, ব্লগ, পোস্টার, দেয়াল লিখন, চিত্র, কার্টুন, প্রচারপত্র ইত্যাদি প্রদর্শন বা প্রচার, স্থির বা ভিডিওচিত্র ধারণ প্রেরণ প্রদর্শন-প্রচার করা; যৌন কামনার উদ্দেশ্যে শরীরের যেকোনো অংশ কোনোভাবে স্পর্শ করা বা আঘাত করাসহ বেশ কয়েকটি বিষয় অন্তর্ভুক্তের দাবি জানান।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম।

(দ্য রিপোর্ট/এলআরএস/এপি/সা/অক্টোবর ০১, ২০১৫)