প্রচ্ছদ » সাহিত্য » বিস্তারিত

একরাম আলি : পরিচয় ও প্রয়োজনীয় নোট

২০১৫ অক্টোবর ০২ ১৬:২২:২৭
একরাম আলি : পরিচয় ও প্রয়োজনীয় নোট

পশ্চিমবাংলার বিশিষ্ট কবি একরাম আলির জন্ম বীরভূমে, ১৯৫০’র ১ জুলাই। চাকরিসূত্রে আছেন আজকাল পত্রিকায়। চিফ সাব-এডিটর। কবিতা এবং গদ্যে তিনি সমানভাবে পারঙ্গম। তার বেশ কিছু গ্রন্থ এর উজ্জ্বল প্রমাণ। এপর্যন্ত প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ: অতিজীবিত (১৯৮৩), ঘনকৃষ্ণ আলো (১৯৮৮), আঁধারতরঙ্গ (১৯৯১), বাণরাজপুর (২০০০), একরাম আলির কবিতা (২০০১),একরাম আলি’র শ্রেষ্ঠ কবিতা (২০০৮), প্রলয়কথা (২০০৯), আঁধার পরিধি (২০০৯), বাউটির কবিতা (২০১৪)। এছাড়া প্রবন্ধ বা গদ্যের বই : মুসলমান বাঙালির লোকাচার (২০০৬), অ্যাপোলোর পাখি(২০০৮) এবং স্মৃতিকথন : ধুলোপায়ে (২০১৫)। জীবনীগ্রন্থ : অতীশ দীপঙ্কর (১৯৯৭)। অ্যাওয়ার্ড বা সম্মাননা : বীরেন্দ্র পুরস্কার (১৯৯০), ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র ফেলোশিপ অ্যাওয়ার্ড (২০০৯-২০১০) ও ভাষা শহীদ বরকত সম্মান(২০১০)।

এছাড়া তার কিছু কবিতা ইতোমধ্যে ইংরেজিতে অনুবাদ হয়েছে। এর মধ্যে দুটি কবিতা অনুবাদ করেছেন নির্মলকান্তি ভট্টাচার্য্। এগুলি পাওয়া যাবে ‘‘Voices from Bengal: Modern Bengali Poetry in English translation’ [compiled and edited by Manabendra Bandyopadhyay, Sukanta Chaudhuri, Swapan Majumdar,Sahitya Akademi, 1997 ] সংকলন গ্রন্থটিতে। এছাড়া তার আরো বেশ কিছু কবিতা ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন শুভ্রাংশু মৈত্র। এই সব অনুবাদ স্থান পেয়েছ সাহিত্য আকাদেমি’র ‘Indian Literature’-এ এবং অনলাইন ম্যাগাজিন Muse India-য়।

বিভিন্ন সময়ে একরাম আলি সাহিত্য-বিষয়ক সভা-সমাবেশে অংশ নিয়েছেন। সেখানে সময়-সময় প্রবন্ধ পাঠ করেছেন। যেমন, সাহিত্য আকাদেমির আয়োজনে জীবনানন্দ দাশের জন্মশতবার্ষিকীতে একটি সভার আয়োজন করা হলে সেখানে তিনি প্রবন্ধ পাঠ করেন। তার ওই লেখাটি পরে শঙ্খ ঘোষের সম্পদনায় প্রকাশিত ‘ এই সময় ও জীবনানন্দ (১৯৯৬)’ সংকলনগ্রন্থে স্থান পায়। একইভাবে তারাশঙ্করের জন্মশতবার্ষিকীর সভায় তিনি পাঠ করেন আরেকটি প্রবন্ধ ‘তারাশঙ্কর ও বীরভূমের প্রত্নমুখ’। এটিও পরে বই আকারে প্রকাশিত ‘তারাশঙ্কর : ব্যক্তি ও ব্যক্তিত্ব’(২০০১)-তে স্থান পেয়েছে।

২০০৯ সালে গোয়ায় ভারতের পূর্ব-পশ্চিম লেখক সম্মেলন হয়। এখানে কবি অংশ নেন। এটির উদ্যোক্তা ভারতীয় সাহিত্য আকাদেমি। ওই সম্মেলনটি ছিল ২১ ও ২২ মার্চ, দুদিনব্যাপী। ২০১০-এ তিনি অংশ নিয়েছিলেন ভোপালে সর্বভারতীয় কবি সম্মেলনে। ১৯-২০ মার্চ সম্মেলনটি ভারত ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এখানে অন্যান্য রাজ্যের অন্তত ত্রিশজন কবি ছিলেন, যারা ১৪টি ভিন্ন ভিন্ন ভাষার প্রতিনিধিত্ব করছিলেন।

এ বছরও (২০১৫) ভোপালের ভারতভবনে ছিল পশ্চিমবঙ্গ উৎসব। এটি অবশ্য ছিল সাত দিনের। এখানে ২১ জানুয়ারি ছিল তার কবিতাপাঠ ।

এত কিছুর পরেও বাংলাদেশে বিশেষভাবে তিনি পাঠকের কাছে অতটা পরিচিত নন। [ফেসবুকের কল্যাণে যদিও এখন কিছুটা পরিচয় হয়তো নতুনভাবে কারো কারো সাথে তার হয়েছে।] ১৯৯১/৯২-এর দিকে যখন আমরা আধুনিক কবিতার সাথে পরিচিত হয়ে উঠছি তখন, পঞ্চপাণ্ডব, হাংরিজেনারেশনের পাশাপাশি জয়দেব বসু, জয় গোস্বামী, মৃদুল দাশগুপ্ত ও একরাম আলি’র কথা খুব করে শুনতাম। তবে এদের মধ্যে জয় গোস্বামী খুব বেশি পরিচিত।

আমরা চাইছি, কবিতার পরম্পরা ও ভাল কবিতার সাথে পরিচয় হোক সবার। ভাল কবিতার পাঠ ছাড়া নান্দনিকবোধ সঠিকভাবে প্রস্তুত হয় না বলেই আমাদের বিশ্বাস। এই বিবেচনায় পাঠকের সামনে হাজির করেছি এবার কবি একরাম আলি-কে।

নিরলস পরিশ্রমী এই মানুষটি নিরবচ্ছিন্নভাবে সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সমানভাবে সক্রিয়। তার গদ্য এখানে হাজির করতে না পারলেও সাতটি কবিতা এ যাত্রায় ছাপছি। আশা করছি, অন্য কোনো সময় পাঠকের সামনে আরেক একরামকে আমরা হাজির করতে পারব। যা পড়ে পাঠকই বিবেচনা করবেন একরাম আলির স্থানটি কোথায়।


প্রসঙ্গত, এখানে আমরা পশ্চিমবাংলার আরেক বিশিষ্ট কবি ও গদ্যকার গৌতম চৌধুরীর মূল্যায়নধর্মী দু’টি প্রবন্ধ ছেপেছি। এতে করে কবির কাব্যপ্রবণতা বিষয়ে অনেকটাই জানা যাবে বলে মনে করি।

মহিউদ্দীন মোহাম্মদ, বিভাগীয় সম্পাদক।