প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয় » বিস্তারিত

শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতার আভাস

২০১৫ অক্টোবর ০৭ ০০:০৪:০৪

নতুন বেতন কাঠামোতে শিক্ষকদের অমর্যাদা করা হয়েছে বলে সরকারকে জানিয়েছেন শিক্ষক নেতারা। এ ছাড়া আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারা। এ সবের সমাধান ও দাবি পূরণ না হলে ১ নভেম্বর থেকে লাগাতার কর্মবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

দাবি-দাওয়া পূরণের বিষয়ে মঙ্গলবার সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সঙ্গে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের নেতারা এ কর্মসূচির কথা জানান।

স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো ও অষ্টম বেতন কাঠামোর বৈষম্য দূরসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

শিক্ষকদের দাবি, অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামোতে সিলেকশন গ্রেড বাদ দিয়ে এবং বিশেষ গ্রেড সৃষ্টি করে বেতন-ভাতার দিক থেকে দৃশ্যত শিক্ষকদের চার ধাপ নিচে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে শিক্ষকদের মর্যাদা নিচে নামবে।

শিক্ষকরা মনে করেন, বিদ্যমান ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সেও শিক্ষকদের মর্যাদাহানি করা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তারা যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেন ও উচ্চশিক্ষার জন্য সরকারি বৃত্তি পান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তার কিছুই পান না।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের দাবির মধ্যে রয়েছে—বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তনের লক্ষ্যে অনতিবিলম্বে একটি বেতন কমিশন গঠন, স্বতন্ত্র বেতন স্কেল বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ঘোষিত অষ্টম বেতন কাঠামোর গ্রেড-১ থেকে সপ্তম গ্রেডের মধ্যে নির্ধারণ।

এ ছাড়া অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে- রাষ্ট্রীয় ওয়ারেন্ট অব প্রেসিডেন্সে শিক্ষকদের প্রত্যাশিত বেতন কাঠামো অনুযায়ী পদমর্যাদাগত অবস্থান নিশ্চিত ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের মতো সুযোগ-সুবিধা শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও নিশ্চিত করা।

শুধু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নয়, নতুন বেতন স্কেল নিয়ে অভিযোগ রয়েছে অন্য সরকারি চাকুরেদেরও। তবে যতদূর জানা যায়, নতুন বেতন স্কেলে সিলেকশন গ্রেড না থাকায় সরকারি কলেজে বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষকদের বেতনের মধ্যেও বিস্তর অসামঞ্জস্য রয়েছে।

এ ছাড়া টাইম স্কেল না থাকায় যে সব সরকারি চাকুরেদের পদোন্নতি কম বা ক্ষেত্রবিশেষে নেই (যার মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পড়েন) তারা বেতন বৃদ্ধির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সব বিষয় নিয়ে ক্ষোভও রয়েছে। তবে আমরা মনে করি, শিক্ষামন্ত্রী যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বসেছেন এবং তাদের দাবির যৌক্তিকতা উপলব্ধি করেছেন সেহেতু বিষয়টির সুষ্ঠু ও যৌক্তিক সমাধান ঘটবে। আমরা আরও মনে করি, নতুন বেতন স্কেলে কলেজ, হাইস্কুল ও প্রাইমারি শিক্ষকসহ অন্য চাকুরেদের ক্ষেত্রেও যে অসামঞ্জস্য রয়েছে সরকার তা খতিয়ে দেখবে এবং দাবি না উঠলেও যৌক্তিকতা আমলে নিয়ে সমাধান করবে।