প্রচ্ছদ » সাহিত্য » বিস্তারিত

কে পাচ্ছেন সাহিত্যে নোবেল

২০১৫ অক্টোবর ০৭ ২০:১৪:১২
কে পাচ্ছেন সাহিত্যে নোবেল

তানিম ইশতিয়াক, অতিথি লেখক : অক্টোবর মাস এলেই শুরু হয়ে যায় নোবেল পুরস্কার নিয়ে জল্পনা-কল্পনা আর পর্যালোচনা। এই বছর অর্থাৎ ২০১৫ সালের নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা শুরু হয়েছে সোমবার থেকে। সাহিত্যামোদিদের কৌতূহল দেখা দিয়েছে কে পাচ্ছেন এবারের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার? সুইডিশ একাডেমি এ ব্যাপারে এখনো কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। আগামী ৮ অক্টোবর জানা যাবে ২০১৪ সালের ফরাসী সাহিত্যিক প্যাট্রিক মোদিয়ানোর নোবেলপ্রাপ্তির উত্তরাধিকারী হতে যাচ্ছেন কে? তবে আইরিশ বুকমেকার প্রতিষ্ঠানের মতো আরও অনেক সাহিত্যবুকিরা বিভিন্ন চার্ট জরিপ প্রকাশ করছেন। তাতে মোটামুটি পাঁচজনের নাম উঠে আসছে বিভিন্নভাবে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর সুইডিশ একাডেমি বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা, সাহিত্য সংগঠন ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২৫৯টি প্রস্তাব পেয়েছে। গত মে মাসে নোবেল কমিটির স্থায়ী সেক্রেটারিয়েট থেকে পদত্যাগকারী পিটার ইংলান্ড বলেছেন, এ তালিকায় ৩৬ জন গ্রন্থপ্রণেতাসহ এমন ১৯৮ জন লেখক-সাংবাদিক আছেন, যাদের নাম আগে কখনো প্রস্তাব করা হয়নি। চলতি গ্রীষ্মেই ওই তালিকা ছোট করতে করতে পাঁচজনে নামিয়ে আনা হয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক বুকমেকার লাডব্রোকসের প্রকাশ করা তালিকায় এবারের নোবেল বিজয়ী সম্ভাব্য কয়েকজনের পরিচয় তুলে ধরা হল—

সভেতলানা আলেক্সিভিচ

বেলারুশের সাহিত্যিক ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক সভেতলানা আলেক্সিভিচের নাম এবার বেশ জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে। ৬৭ বছর বয়সী সভেতলানাকে তার ‘ওয়ার আনওমেনলি ফেস’ ও ‘জিংকি বয়’ বইয়ের জন্য ২০১৫ সালের নোবেল পুরস্কার দেওয়া হতে পারে। সাক্ষাৎকারভিত্তিক প্রামাণ্য প্রতিবেদনের এ সব গ্রন্থে সোভিয়েত আমল ও সোভিয়েতপরবর্তী যুদ্ধবিগ্রহ ও মানবজীবনের সঙ্কটকালীন নানান দিক উঠে এসেছে। উল্লেখ্য, গত বছরও সুইডিশ নোবেল কমিটির সংক্ষিপ্ত তালিকায় সভেতলানার নাম ছিল।

হারুকি মুরাকামি

জাপানী সাহিত্যিক হারুকি মুরাকামি সম্ভাব্য নোবেল বিজয়ীদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নাম। তিনি একাধারে ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার ও অনুবাদক। বিখ্যাত বইয়ের মধ্যে রয়েছে— আ উইল্ড শিপ চেইজ (১৯৮২), নরওয়েজিয়ান উড (১৯৮৭), দ্য উইন্ড আপ বার্ড ক্রোনিকাল (১৯৯৫)। ভক্তরা তাকে আধুনিক সাহিত্যের ‘রকস্টার’ বলে থাকেন। তবে নিন্দুকদের মতে, হারুকির লেখা নোবেল পুরস্কারের যোগ্য নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নোবেল কমিটির তালিকায় হারুকির নাম ছিল। নোবেল পুরস্কার সম্পর্কে ৬৬ বছর বয়সী হারুকির মত হচ্ছে, ‘এটা বেশ বিরক্তিকরভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। এটা একটা ঘোড়দৌড় কিনা, তা স্পষ্ট নয়।’

নগুগি ওয়া থিয়াঙ্গোও

কেনিয়ান লেখক নগুগি ওয়া থিয়াঙ্গোও একজন ঔপন্যাসিক, উত্তর-ঔপনিবেশিক তাত্ত্বিক ও সমাজকর্মী। গত শতাব্দীর সত্তরের দশকে তিনি উইপ নট চাইল্ড (১৯৬৪) উপন্যাসর মাধ্যমে সারাবিশ্বের ইংরেজিভাষী পাঠকদের কাছে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। মাও বিদ্রোহ নিয়ে লেখা ওই উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি এক বছর জেল খাটেন ও নির্বাসিত হন। একবিংশ শতকের শুরুতে আবার কেনিয়ায় প্রত্যাবর্তন করেন। ২০১৩ সালে সুইডিশ নিউজ এজেন্সি টিটির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল কাকে সাহিত্যে নোবেল দেওয়া উচিত। নগুগি তখন নিজের নাম বলেছিলেন।

ফিলিপ রথ

আমেরিকার জীবন্ত সাহিত্যিকদের মধ্যে ফিলিপ রথকে অনেকেই কিংবদন্তি বলে মনে করেন। ১৯৫৯ সালে গুডবাই ও কলম্বাস উপন্যাসের মাধ্যমে সবার দৃষ্টি কাড়েন। তবে সমালোচকরা তাকে আমেরিকার ‘ইহুদী কণ্ঠস্বর’ বলে অভিহিত করেন। তার সফল উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে— ‘অপারেশন শায়লক’ (১৯৯৩), ‘সাব্বাথস থিয়েটার’ (১৯৯৫), ‘আমেরিকান প্যাস্টোরাল’ (১৯৯৭), ‘আই ম্যারিড এ কমিউনিস্ট’ (১৯৯৮), ‘দ্য হিউম্যান স্টেইন’ (২০০০)।

জয়সি কারোল ওয়াতে

আমেরিকান সাহিত্যিক জয়সি কারোল ওয়াতে ৪০টির বেশি উপন্যাস ও নাটক লিখেছেন। নোবেলপ্রত্যাশী প্রতিযোগীদের মধ্যে তিনি অন্যতম। ২০১০ সালে তিনি মারিও ভার্গাস য়োসা পুরস্কার জেতেন।

আদোনিস

সিরীয় কবি আদোনিসকে অনেকেই জীবিত আরবি লেখকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মনে করেন। গত শতকের ষাটের দশক থেকে তিনি প্যারিসে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন। মধ্যপ্রাচ্য ভাববাদের সিম্বোলিজম ও মিথোলজি তিনি তার কবিতায় চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন। বর্তমান সিরীয় সঙ্কটের রাজনৈতিক গুরুত্ব বুঝে তিনি নোবেল পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নোবেল কমিটি জানিয়েছে, সাহিত্যের বাইরে অন্যকিছুই তারা গুরুত্ব দেবে না।

সাহিত্যে নোবেল সম্পর্কিত কিছু তথ্য

  • ১০৭ জন এ পর্যন্ত সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন (১৯০১-২০১৪)
  • ১৩ নারী জিতেছেন এ পুরস্কার
  • ৪ জনকে যৌথভাবে সাহিত্য নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে
  • ৪২ বছর বয়সী যুক্তরাজ্যের রুডইয়ার্ড কিপলিং সর্বকনিষ্ঠ সাহিত্য নোবেলজয়ী। ১৯০৭ সালে ‘দ্য জঙ্গল বুক’ উপন্যাসের জন্য নোবেল পান
  • ৮৮ বছর বয়সী ডরিস লেসিং বয়োজ্যেষ্ঠ হিসেবে সাহিত্যে নোবেলজয়ী। ২০০৭ সালে তিনি নোবেল পান।