প্রচ্ছদ » সাহিত্য » বিস্তারিত

একান্ত সাক্ষাৎকারে জগলুল হায়দার

সফলতার মাপকাঠি হইল স্যাটিসফেকশন

২০১৫ অক্টোবর ০৮ ০১:৩৯:৫৬
সফলতার মাপকাঠি হইল স্যাটিসফেকশন

জগলুল হায়দার আমাদের দেশের প্রতিষ্ঠিত ছড়াশিল্পীদের মধ্যে অন্যতম। ইতোমধ্যে বাংলা ছড়া সাহিত্যে তিনি স্বতন্ত্র স্থান তৈরি করে নিয়েছেন। তিনি একাধারে গল্পকার, প্রাবন্ধিক, কবি, গীতিকার ও সুরকার। কিন্তু তাঁর এই সব পরিচয়কে ছাপিয়ে যে পরিচয়টি তাঁকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছে তা হল, তিনি একজন ছড়াকার।

জগলুল হায়দারের জন্ম ৮ অক্টোবর ১৯৬৫ সালে জামালপুর জেলায়। তাঁর প্রথম বই ‘চুম্বক’ প্রকাশিত হয় ১৯৯৩ সালে । প্রথম ছড়ার বই ‘বাংলার মুখ বাংলার মিথ’ প্রকাশিত হয় ২০০৩ সালে। এ পর্যন্ত প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৩০টি। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত গীতিকার। বাংলাদেশ ছড়া একাডেমির পরিচালক। জগলুল হায়দারের লেখা পথ-নাটক (কাব্য) ‘নাড়াই’এর এ পর্যন্ত ৯০টি প্রদর্শনী হয়েছে এবং প্রতি বছর জাতীয় পথ নাটক উৎসব-সহ নানা জাতীয় উৎসবে নাটকটি মঞ্চস্থ হচ্ছে। পুরস্কার: লেখারেখা পুরস্কার (২০০৮) ; রেবতী বর্মণ সম্মাননা (২০০৮) ; সাহস সম্মাননা (২০০৯) এবং ফুটতে দাও ফুল সম্মাননা (২০১১) ।

পাঠকদের জন্য দীর্ঘ এ সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন কবি, গল্পকার ও সাংবাদিক আশরাফ ইকবাল।

লেখকের সাথে আলাপচারিতায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়-আশয় উঠে এসেছে। এখানে জগলুল হায়দার’র নিজস্ব কথনরীতি অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে। আপদমস্তক এই সৃজনশীল মানুষটি আজ পঞ্চাশে পা দিলেন। দ্য রিপোর্টের পক্ষ থেকে তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা]।

লেখক জীবনের শুরু...

আব্বা খাবার টেবিলে আমগো সঙ্গে অনেক গল্প করতেন। গল্পগুলার লক্ষ্য ছিল আমগো অনুপ্রাণিত করা। একদিন রবি ঠাকুর আর তার ‘জল পড়ে পাতা নড়ে’এর গল্প শুনালেন। আমি খুব ইম্প্রেসড হইলাম। অইদিন-ই ছোট্ট একটা কবিতা লেইখা ফালাইলাম ‘মশা ওড়ে মশা, তোরে দেব ঘষা’। আব্বা অফিস থেকে আসার পর সাথে সাথেই দেখাইলাম। আব্বা মুচকি হাসলেন। অইটাই শুরু বলা যায়। আমার প্রথম বই বের হয় ১৯৯৩ সালে। চুম্বক নামের অনুকাব্য। আমার এক ছোট ভাইয়ের চাপাচাপিতেই মূলত দুই মলাটে চুম্বক বের হয়। বই বের করার চিন্তা আমার মাথায় ছিল না। আমি শুধু ডাইরিতেই লেইখা যাইতাম। কোথাও লেখা পাঠাইতাম না। আর নিয়মিত শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ, সৈয়দ শামসুল হকসহ নামকরা কবিদের কবিতাগুলা পড়তাম। আর ভাবতাম আমিও একদিন শামসুর রfহমান/ আল মাহমুদ এর মতো হয়া পত্রিকায় লেখা পাঠামু!

লেখালেখিতে উৎসাহ কার কাছ থেকে…

আমার ক্ষেত্রে উৎসাহের ব্যাপারটা খুব মজার। পরিবার থেকে লেখালেখির ব্যাপারে আমি নেগেটিভলি উৎসাহিত হইছি। আমি বাবার দ্বারা প্রবলভাবে অনুপ্রাণিত। ছোটবেলায় লেখালেখির বিষয়ে উৎসাহ দিলেও পরে দেখছি এর চাইতে তিনি আমারে ইঞ্জিনিয়ার বানাতেই চাইতেন বেশি। মা-ও তাই। এক্ষেত্রে খানিকটা ব্যতিক্রম ছিলেন মেজু আপা। আর ব্যাপকভাবে উৎসাহ দিতেন বড় দুলাভাই যিনি একই সংগে আমার চাচাতো ভাই। এরপর বন্ধুরাও উৎসাহিত করছে।

তরুণদের বইয়ের মান বা বই প্রকাশে মানোন্নয়ন করার জন্য কি করা উচিত বলে মনে করেন…

এইটাকে আমি দুইভাগে ভাগ করুম। ১। প্রক্রিয়াগত ২। পদ্ধতিগত, যেমন বইয়ের প্রচ্ছদ, ছাপা এগুলা প্রক্রিয়াগত। প্রক্রিয়াগত দিকদিয়া আমাগো বইয়ের মান অনেক ভালো। পদ্ধতিগত দিক বলতে গেলে অনেক প্রকাশক টাকা ছাড়া তরুণদের বই প্রকাশ করতে চায় না। আবার অনেকে টাকা দিলেও ঠিক মতো করে না। আমি মনে করি তরুণদের প্রতি প্রকাশকদের শুধু দায়িত্বশীল নয় মমত্বশীলও হইতে হইব। আর তরুণদেরও লেখালেখির প্রথাগত ধারায় আসতে হইব। বই প্রকাশ করার আগে অন্তত কয়েক বছর তাকে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও সাহিত্য পত্রিকায় লেখালেখি করতে হইব।

দু’বাংলার বাংলাসাহিত্যের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন...

বুজতে পারতেছি কি বলতেছো।আসলে দুই পাশের প্রেক্ষিত এখন আলাদা। বাংলাদেশে মানের প্রশ্নে না গিয়া পরিমাণের প্রশ্নে বলতে পারি- ব্যাপক। আর এ ব্যাপকতারে আমি পজেটিভ মনে করি। এই ব্যাপক কাজের মধ্যেই একসময় অনেক কালজয়ী কাজ উইঠা আসবো। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে বলবো ভিতরে বাইরে দুই দিক দিয়াই তার বাজার সংকুচিত হইতেছে। সেইখানে প্রচুর প্রতিভা আছে এখনো। কাজও হইতেছে তয় পাঠক কইমা যাওয়ার একটা ঝুঁকির মুখে সেখানকার বাংলা সাহিত্য।

আপনার প্রতি পাঠকদের এত আকর্ষণের রহস্য বা কারণ...

কুনো লেখকের প্রতি পাঠক কেন আকৃষ্ট হয় সেইটা পাঠকের একান্ত অনুভবের ব্যাপার। সুতরাং এইটা পাঠকই ভালো বলতে পারবেন। আমার জন্য এর জবাব দেয়া খানিক কমপ্লিকেটেড। তারপরও এইটুক বলা যায়, হয় তো পাঠকের নার্ভটাকে ছুঁইতে পারি। অর্থাৎ পাঠক মনের কাছাকাছি যাইতে পারি কিছুটা। অবশ্য এইসব আমি আমার অনুমান দিয়া বললাম, আসল কারণটা একজ্যাক্ট বলতে পারবেন পাঠকই।

অবসর সময়...

সৃজনশীল মানুষের অইভাবে অবসর বইলা কিছু থাকে না। অন্তত আমার তাই ধারণা। যেমন এই প্রশ্নের ট্র্যাডিশনাল জবাব দেখি বইপড়া, টিভি দেখা, খেলাধুলা ইত্যাদি। কিন্তু এইগুলাও তো কাজেই লাগে কিম্বা এইগুলাও আমার কাছে কাম। তারপরও বলি, আমার একধরনের অবসর কাটে ঢাকার ফুটপাতে (ফুটপাথে) ইচ্ছা-স্বাধীন হাঁটাহাঁটি কইরা। এইটা আমার দীর্ঘদিনের প্রিয় এক অভ্যাস। এই সময় সংগে কেউ থাকলে ভালো, না থাকলেও খুব একটা সমস্যা হয় না। কারণ বিচিত্র পসার আর বৈশিষ্টের ফুটপাত তো লগেই থাকে। এক সময় যখন বাচ্চারা আরও ছোট ছিল তাখন বাচ্চাগো লগে হইহল্লা, গল্প, কুইজ, গেমস ইত্যাদিতে খুব আনন্দময় অবসর পার করতাম। বাচ্চারা বড় হওয়ায় এইটা এখন কম হয়। আরেকটা অবসর অনুষঙ্গ আছে গুনগুন কইরা গান গাওয়া। আর বাসায় তোমার ভাবি আমার এই গানের খুব মনোযোগী শ্রোতা। অবশ্য আমার যা গলা তাতে আর কুনো শ্রোতা পাওয়া প্রায় অসম্ভব।

লেখালেখি ছাড়া অন্যান্য পছন্দ-অপছন্দ বলুন...

পছন্দ-অপছন্দ দারুণ বলছ তো, মানে সবাই খালি পছন্দের কথা জিগায় সেই দিক দিয়া তুমি দুইটা বিষয় জানতে চাইছ এইটা ভাল্লাগলো।পছন্দ অনেক কিছুই আছে। এর মদ্যে সবার আগে হইল কারো জন্য কিছু করতে পারা এবং অবশ্যই কুনো বিনিময় ছাড়া। এইটা যে কতো আনন্দের বইলা বুঝানো সম্ভব না। আর সাধারণভাবে বইপড়া, মুভি দেখা, গান শোনা আর খেলাধুলা করা/দেখা। অপছন্দের মধ্যে প্রথমেই হইল মিথ্যা কথা, পরচর্চা, হিংসা, সংকীর্ণতা ইত্যাদি। মোট কথা মানুষের জন্য অকল্যাণকর কুনো কিছুই পছন্দের নয় আমার। এইটা আমার বরাবরের অ্যাটিচুড। আমার পরিবারের লোকেরা, আমার স্বজনরা এইটা জানে এবং বলেও আমাকে।

প্রিয় কিছু সাহিত্যিকের কথা…

প্রিয় সাহিত্যিক অনেক আমার। নজরুল আমার অলটাইম ফেবারেট। আমি নজরুলে খুব মজছিলাম একসময়। বিশেষত তার কবিতা আর গানে। নজরুলের সাম্যবাদি ধারার কবিতা প্রবলভাবে উদ্দীপ্ত আর অনুপ্রাণিত করছিল। নজরুলের প্রতি এই মুগ্ধতা থিকা আমার প্রথম বই 'চুম্বক' তারেই উৎসর্গ করি। এরপর শামসুর রাহমান আর আল মাহমুদের কথা বলতে পারি। এই দুই মহান কবির সান্নিধ্য আর সাহচর্য আমার লেখক জীবনকে আনন্দময় কইরা তুলছে। আমার দ্বিতীয় ছড়ার বইয়ে লেখা কবি শামসুর রাহমান এর ভূমিকারে আমি লেখক জীবনে অনেক বড় পাওয়া মনে করি। ক্রনোলোজিতে নামটা পরে আসলেও আমার কাছে কবি আসাদ চৌধুরী অসম্ভব ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার এক মানুষ। তাঁর কবিতা, উপস্থপনা যেমন ভাল্লাগে তেমনি তাঁর ভালবাসায়ও মুগ্ধ আমি। কবি আবু হাসান শাহরিয়ার এর কথা বলতে হয়। তিনিও আমার ভালোবাসার একজন মানুষ। ছড়ায় রিটন ভাইয়ের কথা বলতে পারি। তাঁর ভালবাসাও কম পাই নাই। আর দেশের বাইরে লিও তলস্তয়, গিদ্যা মোপাসাঁ, মার্ক টোয়েন, ম্যাক্সিম গোর্কি প্রমুখ। আর বিশেশভাবে দুইজনের কথা বলতে হয়; এডওয়ার্ড সাইদ ও নোয়াম চমস্কি। বিশ শতকের এই দুই প্রভাবশালী বুদ্ধিজীবী লেখক আমারে প্রবলভাবে ভাবাইছেন।

লেখক হিসেবে সফলতার মাপকাঠি...

আমার কাছে যেকোনো ক্ষেত্রেই সফলতার মাপকাঠি হইল স্যাটিসফেকশন। একজন লেখক যেসব কারণে লিখেন তাঁর মধ্যে নিজের সন্তুষ্টিও একটা। আমার কাজে আমি সততার সাথে সন্তুষ্ট হওয়া মানে এইটা সফলতার একটা ইংগিত। তয় লেখালেখি যেহেতু গণমুখী শিল্প সেহেতু পাঠকের কাছে পোঁছবার ব্যাপারটাও সফলতার নির্দেশক। কি লেখলাম বা কতোটা লেখলাম তাঁর চাইতে বড় কথা পাঠকের কাছে কতোটা যাইতে পারলাম। যে লেখক পাঠকের কাছে বেশি যাইতে পারলো তিনিই সফল লেখক। এই জন্যই হুমায়ূন আহমেদ আমার কাছে অনেক সফল আর গুরুত্বপূর্ণ লেখক।

সফলতা ও ব্যর্থতা...

সফলতা-ব্যর্থতা? আমি অইভাবে ভাইবা দেখি নাই এইসব। অবশ্য সাধারণভাবে আমি স্যাটিসফেকশনরে সফলতা মনে করি। আমি আমার কাজ নিয়া সততার সংগে স্যাটিসসফায়েড। আমার হয় তো আরও প্রত্যাশা আছে।পাঠকের কাছে যদি কিছুটা হইলেও গিয়া থাকতে পারি তয় সেইটাই সফলতা। আর ব্যর্থতা হইল, মানুষ এমনকি খুব সফল মানুষেরও ব্যর্থতা থাকে। এডিসনের কথা তো জানো, সাফল্যে আর কুনো বিজ্ঞানিই তার সমকক্ষ নয়। অসংখ্য তার আবিস্কার। জগতে সব চাইতে বেশি পেটেন্ট তার নামে। ১৩ শতাধিক আবিস্কারের জনক। অথচ কি জানো, এই মহান এডিসন খালি এক বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালাইতে ব্যর্থ হইছিলেন ৯৯৯৯ বার। বুজো ঠ্যালা। এই প্রসংগেই বলি, মানুষের সফলতা গোণার জন্য তার দুই হাতের আঙ্গুলই যথেষ্ট কিন্তু ব্যর্থতা গোণার জন্য অইগুলা বোধয় যথেষ্ট নয়। তার লাইগাই বুজি প্রবাদ হইছে- failure is the pillar of success.'

সাহিত্যে স্বীকৃতি...

সাহিত্যে স্বীকৃতি বলতে আমগো এইখানে মোটাদাগে পুরস্কারকে বুঝায়। পুরস্কার মানে আবার অই প্রাতিষ্ঠানিক পুরস্কার। কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে তা মনে করি না। আমার কাছে লেখকের আসল স্বীকৃতি পাঠকের কাছে। পাঠকের ভালোবাসাই একজন লেখকের জন্য সব চাইতে বড় পুরস্কার, বড় স্বীকৃতি। আল্লাহকে অশেষ শুকরিয়া যে আমি এই ভালোবাসা কানায় কানায় পাইছি। হ্যাঁ এই ভালোবাসা অর্জন করতে গিয়া আমি কিছু লোকের ঈর্ষা এমনকি কারো বা অন্যায় শত্রুতার শিকার হইছি। এইসবরে নিয়তিই মনে করি আমি। আমি জানি কারো ভালো কাজ যেমন অনেক মানুষের সমর্থন কুড়ায় তেমনি কিছু লোকের ঈর্ষারও কারণ হয়। আমার ইতিহাসবোধ এসব ব্যাপারে পুরাই সজাগ। যুগে যুগেই এর নজীর আছে। আমি দয়াল নবী আর প্রেমিক যিশুর জীবনী পড়ি। তাঁদের প্রতি করা অন্যায় দেইখা অবাক হই মানুষের মাঝে এমন শয়তানও বাস করে। আমার মন আর্দ্র হয়। তারপর যখন দেখি আখেরে মানুষরুপী শয়তানের উপ্রে মানুষই বিজয়ী তখন আবার আনন্দে উদ্বেলিত হই। সুতরাং এসব নিয়া ভাবার চাইতে নিজের কাজ নিয়া ভাবাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। অবশ্য এই ভালোবাসার বাইরে কিছু প্রাতিষ্ঠানিক পুরস্কারও জুটছে। এর মধ্যে পদক্ষেপ সাহিত্য পুরস্কার, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম পুরুস্কার এবং শ্রীপুর সাহিত্য পরিষদ পুরস্কার অন্যতম।

আপনার লেখা আপনার পছন্দের গ্রন্থ কোনটি এবং কেনো…

এইটা খুব কঠিন এক প্রশ্ন। লেখকের কাছে তার বই অনেকটা তার সন্তানের মতোই। এখন কুনো মা-বাবাকে যদি তার একাধিক সন্তানের মধ্যে তার পছন্দের সন্তানকে বাইছা নিতে বলা হয় তাইলে সেইটা যেমন বিব্রতকর হইব তেমনি লেখকের ক্ষেত্রেও তার প্রিয় বই বাছাই করা অনেকটা সেরকমই। তারপরও আমি বলবো 'স্বাধীনতার কাব্যইতিহাস' যে বইয়ে আমি ধারাবাহিকভাবে এই জনপদের ৫ হাজার বছরের লড়াই-সংগ্রামের কাব্যিক বয়ান পেশ করছি।এছাড়া আমার কাব্যছড়ার বইগুলা।১৯৯৩ সালে প্রকাশিত আমার প্রথম বারোভাজার বই 'চুম্বক' এর কথাও বলতে হয়।

আপনার লেখায় কোন বিষয়টি বেশি প্রাধান্য দেন বা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেন…

সম্ভবত জর্জ বার্নার্ড শ এর একটা কথা- 'সেই লেখকই ভালো লিখেন যিনি নিজেকে লিখেন'। কথাটা আমার ভাল্লাগে। তয় এইখানে 'নিজ' শব্দটারে স্রেফ ইন্ডিভিজুয়াল হিসাবে না দেইখা আমি সেলফ অর্থে দেখি। সেলফ মানে আত্ম হইলে এর মর্তবা আর ফযিলত অনেক বাইড়া যায়। আসলে এইটা আমার কাছে শেষমেশ নিজস্বতা। মানুষরে আমি হিস্টোরিক সেলফ মনে করি। আমরা ইতিহাসের সন্তান। সুতরাং আমগো নিজস্বতায় কেবল আমি-ই থাকে না এর মদ্যে মানুষের পরিবার, সমাজ, দেশ, ধর্ম, কালচার, পরম্পরা সব যুক্ত থাকে। আমার মধ্যেও এইসব থাকে। আমি লেখালেখির ক্ষেত্রে আগাগোড়া আমার এই নিজস্বতাকেই ফুটায়া তুলতে চেষ্টা করি। আর আমার সময়।লেখকের জন্য নিজের সময় খুব গুরত্বপু্র্ন। তো এই বিষয়গুলাই চেতনায় থাকে। তয় এইটা বলাও জরুরি যে আমার লেখা সব সময় আমার চেতন দ্বারাই নির্ধরিত হইব এমন নয়। আমার অবচেতন এমনকি প্রাকচেতনেরও একটা বড় ভুমিকা থাকে এইখানে। আর এমনিতে আমি অভিজ্ঞতার চাইতে ইমাজিনেশন দ্বারাই তাড়িত হই বেশি।

একজীবন চর্চায় নিমগ্ন থেকে সাহিত্য সম্পর্কে আপনার উপলব্ধি...

আমি সাহিত্য করি। তয় সাহিত্য নিয়া রেটোরিক পছন্দ করি না। আমি অনেস্টলি সাহিত্যকে কখনোই জীবনের চাইতে বড় মনে করি না। জীবন এক বিশাল ফ্রেম আর সেই ফ্রেমের অনেক অনুষঙ্গের একটা সাহিত্য।তয় সাহিত্যের একধরনের মাহাত্য আছে। আমি তা বুজি। কিন্তু এইটাও সব সময় পজেটিভ থাকে না। কখনো কখনো এইটারে নেগেটিভ হইতেও দেখছি।এমনকি এর মধ্যে অনেক সময় গণবিরোধী প্রবনতাও লক্ষ্য করছি। আমি সাহিত্য করি বইলা আমি বিশেষ কিছু এইরকম এলিট অ্যাটিচুড আমগো অনেকের মদ্যেই কাজ করে। এমনকি কবি কিম্বা কবিতারে একধরনে্র টাবুও বানান হয়। এর মাদ্যমে একধরনের ব্যক্তি পুজারেও উস্কায়া দেয়া হয়। এইগুলা প্রায় অশ্লিলতার পর্যায়ে চইলা যায়। আমগো এইখানে দ্যাখো, রবি ঠাকুরকে নিয়া এমুন একটা বাতাবরন তৈরি করা হইছে। এইটা স্রেফ সামন্ততান্ত্রিক অভ্যাস এর কুফল। কবিরা (ছড়াকারসহ) নবী নয়। তারা সমাজের আর দুচারজন মানুষের মতোই কৃত্য কইরা খান। হ্যাঁ তাঁদের কাজের বাড়তি একটা ঐতিহাসিক মূল্য আছে। নয় তো সাধারণ হিসাবে একজন চাষি,মাঝি, জেলে, কামার, কুমার যেমন কাজের লোক কবিও তেমনি। তয় মহাকালের কাছে সাহিত্যিকের কাজের একধরনের আবেদন থাকে। মূলত কাজের এই সোসালাইজেশন সাহিত্যিকের বাড়তি একটা সুবিধা। কিন্তু এই সুবিধা নিয়া সমাজের উপ্রে অন্য কুনো রকম শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করার কিছু নাই।

তরুণ লেখকদের প্রতি...

তরুণদের ব্যাপারে প্রথম কথা হইল বাহ্যিক হাইপ থিকা নয় সাহিত্য করতে হইব অন্তর্গত তাগাদা থিকা। সাহিত্যের যেকুনো শাখায় সৎ এবং সিনসিয়ার থাইকা কাজ করতে পারলে সাফল্য নিশ্চিত। পইড়াই সব হইব না এইটা মাথায় রাইখাই প্রচুর পড়তে হইব। মনে রাখতে হইব পড়ার বিকল্প আরো পড়া। সাফল্যের জন্য মনোবল নিয়া লড়ায়ের পাশাপাশি ধৈর্যশীল হইতে হইব। আর কিতাব তো ব্যাপারটা ক্লিয়ার কইরা দিছে এইভাবে- ' ইন্নাল্লাহা মা আস সাবেরিন'। আসলে আগামীর সাহিত্যভুবন আজকের তরুণদের বরন করার জন্য প্রস্তুত। এই ব্যাপারে তারা প্রস্তুতি নিলেই কেল্লা ফতে। তাগো লাইগা আমার সকল শুভকামনা।

ব্যক্তিগত প্রসঙ্গে- সংসার...

আমার সংসার আমার জীবনের সব চাইতে গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ। বিশেষত আমার পরিবার। আমরা ভাইরা বাস্তবতার কারণে এখন ভিন্ন ভিন্ন শহর কিম্বা দেশে থাকলেও আমরা এখনো এক ধরনের যৌথপরিবার এর আবহের মদ্যেই বাস করি। আমরা অনেক ভাইবোন। যৌথ পরিবারের হুরা-মিষ্টি আর আনন্দ আমার কাছে অমূল্য। আমরা বহু বছর পর পর্যন্ত প্র্যাক্টিক্যালি যৌথ পরিবারে ছিলাম। আমগো ছেলেমেয়েরাও এই পরিবেশেই প্রচণ্ড হইহল্লার মদ্যে দিয়া তাগো শৈশব পার করছে। আর আগেই বলছি এখনো ব্যাবহারিকভাবে না হইলেও আত্মিকভাবে আমরা যৌথ সংসারেই বাস করি। আর এই আত্মিকতার ভরকেন্দ্র আমার মা। আর আমগো দুইভাইয়ের বউ তার দুইটা ডানা। সব মিলায়া আমার সংসার আমার মায়ের হাতে সাজানো বেহেস্ত।

একুশে গ্রন্থমেলা-২০১৬ তে বই...

বই প্রকাশ নিয়া আমি অতোটা পূর্বপরিকল্পনায় থাকি না। তাই কি বই আসবো তা এখনই বলতে পারতেছি না। তয় এইবার কিছু সম্পাদনার কাজ আছে হাতে। অবশ্য এইগুলা নির্ভর করতেছে প্রকাশকদের উপ্রে। যাই হোক তারপরও বলতে পারি দুয়েকটা আসবো ইনশাআল্লাহ।

তিন দশক ধরে ছড়া লিখছেন-ছড়ায় কি পান আর ছড়ায় কি দেয়ার চেষ্টা করেন…

আমি ৯০ দশকের শেষ দিকে আইসা ছড়া চর্চা শুরু করি। সেই হিসাবে তিন দশকের মধ্যে পড়লেও জাতীয় সাপ্তাহিক ও দৈনিকে আমার ছড়া লেখা চলতেছে প্রায় দুই দশক। অবশ্য আমার প্রথম ছড়া প্রকাশ হয় ১৯৮৬ সালে। আমার ছোটবোন অর স্কুল ম্যাগাজিনে আমার অজান্তে অর নামে আমার 'মেক্সিকোতে বিশ্বকাপ' ছড়াটা ছাপায়। আমি চেষ্টা করছি ছড়ায় যথাসম্ভব একটা নতুন স্বর ও সুর দেয়ার। কতোটা পারছি কিম্বা পারি নাই তা পাঠকই বলতে পারবেন।

আপনার দৃষ্টিতে ’৯০ দশকে সাহিত্যের কোন দিকে খুব বেশি কাজ হয়েছে বলে মনে করেন…

৯০ দশকে বাংলাদেশি বাংলা উপন্যাসের জাইগা উঠার কাল। প্রবল হয়া উঠার কাল। এবং এই সময় যেভাবে উপন্যাস হইছে আমার মতে আগে সেইভাবে হয় নাই। আর হ্যাঁ ছড়া- কবিতায়ও কাজ হইছে। কবিতার বেলায় আমি ৬০ আর ৭০ দশকরেই আগায়া রাখি। তয় ছড়ার ক্ষেত্রে একুশ শতকের শূন্য দশকে রীতিমতো জোয়ার আসে। আমরা মূলত এই সময়টাতেই ধুমাইয়া লেখি। আর ছড়ার এই দুর্বার গতি এখনো অব্যাহত আছে মাশাল্লাহ।

সমকালে তরুণ ছড়াকারদের দৃষ্টিভঙ্গি...

গুরুত্বপূর্ণ একটা প্রশ্ন। কামের ক্ষেত্রে যেমন নিয়ত গুরুত্বপূর্ণ তেমনি সৃজনশীলতার ক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি এই সময়ের প্রায় সকল তরুণ ছড়াকারের ছড়াই পড়ার চেষ্টা করি। তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি বুজার চেষ্টা করি। এই জাগায় আমার অব্জারভেশন মিশ্র। অনেকের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা পজেটিভ কারো কারো আবার নিগেটিভ। আমি মনে করি দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচকতা খুব জরুরি। লেখককে উদার হইতে হয়। বিদ্বেষ লেখকের জন্য হারাম মনে করি আমি। তুমি জানো ছড়ায় অনেক উইট করতে হয়, ব্যাঙ্গ করতে হয়। আমিও বহু ছড়ায় এইসব করছি। কিন্তু আমি বুকে হাত দিয়া বলতে পারুম কুনো ব্যক্তির উপ্রে তা করি নাই। আমি হয় তো একটা ক্যারেক্টার নিয়া কাম করছি কিন্তু পার্সন? নৈব নৈব চ। এইগুলাই দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপার। লেখকের দ্রোহ থাকবো মাগার দ্বেষ থাকবো না এতোটুক। আমার বিশ্বাস তরুণদের মাঝে যারা এই পজেটিভ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়া আগাইতেছে আগামীর সাহিত্য আকাশে তারাই জ্বল জ্বল কইরা জ্বলবো।

সদা হাসোজ্জ্বল আপনি! মানুষের সাহচর্য কীভাবে উপভোগ করেন…

একটা কথা বলি, মানুষ সচরাচর যখন প্রকৃতি নিয়া আলাপ তুলে তখন দেখি সেইখানে গাছপালা, নদীনালা, পশুপাখি ইত্যাদি থাকে। বিশেষ কইরা পরিবেশবাদিদের কণ্ঠে কিম্বা এনজিও মার্কা পরিবেশ বিবেচনায়। তখন আমি একটু অন্যরকম ভাবি। ছাত্রজীবনে খুব কাছের বন্ধুরা আমারে 'ঘাড়স' বলতো। অর্থাৎ দেখা গেলো একটা বিষয় অন্যেরা মাইনা নিছে কিন্তু আমি নিতেছি না। আমি আমার যৌক্তিক আপত্তি তুইলা বিরুদ্ধেই থাকতেছি। তাই 'ঘাড়স'। আসলে অইটা ছিল ঘাওড়ার অপভ্রংশ। অর্থাৎ ঘাওড়া বল্লেও তার লগে বন্ধুত্বের ভালবাসা মিশায়া অইভাবে বলতো। বলতো কারণ অরাও বুজতো কথা ঠিক বলতাম। যাই হোক এই গরপরতা পরিবেশ চিন্তার বাইরে আমার নিজস্ব চিন্তা আছে। আর অই চিন্তায় পরিবেশের মূল অনুসংগ হইল মানুষ। অর্থাৎ মানুষ ছাড়া বাদ বাকি সব বেকার। সুতরাং মানুষ আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ।তার সঙ্গ তো অবশ্যই। আর প্রিয়মানুষের সঙ্গ তো আড্ডা-আলাপ, চা-সিগার ইত্যাদি নানাভাবেই উপভগের বিষয়। আমি খুব আনন্দময়তার সংগে তা উপভোগ করি।

আপনি যা বলতে চান, তা কি ছড়ায় সবটুকু বলতে পারেন? না সাহিত্যের অন্য শাখায় বলেন…

পারি। তয় সব কিছু ছড়াতেই বলতে হইব এমুন মনে করি না। কারণ সাহিত্যের একেকটা ফর্মের একেক ধরনের উপযোগিতা আছে। আর সেই উপযোগ অনুযায়ী ছড়ার বাইরে অন্যফর্মেও কথা বলি।

একজন শক্তিমান ছড়াকার হিসেবে বাংলা ভাষার ব্যবহার এবং ভবিষ্যত নিয়ে কিছু বলুন-

বাংলা ভাষা আমার কাছে অপার সম্ভাবনাময় একটা ভাষা। চিন্তা করতে পারো, একটা ভাষায় কথা বলতেছে ৩০/৩২ কোটি লোক! এইটা একটা ব্যাপার। আরেকটা ব্যাপার হইল ঐতিহাসিক পূর্ববঙ্গ তথা আজকের বাংলাদেশের ভাষা। এইটারও বিশাল এক সম্ভাবনা আছে। অথচ তথাকথিত মান ভাষার মানসম্মানের দুহাই দিয়া আমরা শতবর্ষ যাবত এর টুটি চিপা ধইরা আছি। উনিশ শতকিয় বাংলা মান ভাষা কিন্তু একটা নির্মিতির ফল। নদীয়া- শান্তিপুর অঞ্চলের ভাষা প্রবণতার উপ্রে বেজ কইরা কলকাতার কসমোপলিটন ফ্লেবার মাইখা সেই ভাষা তৈরি হইছে। তার আগের পুঁথি সাহিত্যের ভাষারে ঝাইড়া বিদায় করা হইছে। রবীন্দ্রনাথ অবশ্য এইটারে দৈব বলছেন। মান ভাষা সম্পর্কে তার একটা বিখ্যাত উক্তি আমার ' ছড়ার সাম্প্রতিক ভাষারীতি' নামক প্রবন্ধে এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করছিলাম যা অনেকটা এইরম- ' বাংলা মান ভাষা একটি দৈব ঘটনা। কলিকাতা বাংলার রাজধানী বলে কলিকাতা ও সন্নিহিত এলাকার মুখের ভাষাই মান ভাষা হয়েছে। সন্দেহ নাই ঢাকা যদি বাংলার রাজধানী হইত তবে ঢাকা ও সন্নিহিত এলাকার লোকের মুখের ভাষাই হইত মান ভাষা।' মান ভাষার মান ইজ্জত নিয়া যারা খুব বেশি ভাবেন তারা এই উক্তিটা মন দিয়া পড়তে পারেন। আর দেখতে পারেন ৩০ লাখ প্রাণের বিনিময়ে ঢাকা আজ বাংলার রাজধানী, এমনকি এখন সাহিত্যেরও রাজধানী। আমি এইটা বুঝার পর থিকাই তাও বছর ১৫ ধইরা যতোটা সম্ভব এই ভাষায় ছড়া চর্চা করতেছি। এই নিয়া আমি নানা জাগায় বইলা এবং লেইখা আসতেছি। কারণ আমার কানে এখনো বাজে প্রিয় শিল্পী আব্দু্ল লতিফের গাওয়া ৫২ এর সেই অমর গান- ' ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়/ ওরা কথায় শিকল পরায় আমার হাতে আমার পায়/ ... কইছে যাহা আমার দাদায় কইত যাহা বাবায়/ এখন কও দেখি ভাই/ মোর মুখে কি অন্য ভাষা শোভা পায়?/ ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়'/। এখন এই গানের লিরিক খেয়াক কইরা দ্যাখো, কি বুজতেছো? হুম এইটাই আমগো মুখের ভাষা। সাহিত্যে এই ভাষা প্রতিষ্ঠার লগে আমগো ইজ্জতের প্রশ্ন জড়িত। আর গণমানুষের এই ভাষায় সাহিত্য রচিত হইতে থাকলে তা দ্রুত মানুষকে স্পর্শ করবো। আর এতে ভাষিক আধিপত্যের বিপরীতে আমগো জবানের যথার্থ মুক্তি ঘটবো। এই ভাষায় আমগো ছড়ার পাশাপাশি নাটকেও এই সময়ের জনপ্রিয় নাট্যকার ফারুকীসহ কেউ কেউ কাম করতেছিলেন। কিন্তু এই দেশে অনেকেই নতুনকে এতই ভয় পায়, প্রতিক্রিয়া তাদের এমুন আচ্ছন্ন কইরা রাখে যে ভাষার মতো সামাজিক বিতর্কযোগ্য একটা বিষয়রে আদালতে নিয়া যায়। 'আর পড়বি পর মালির ঘাড়েই' এর মতো এই ব্যাপারে যিনি রায় দেন সেই বিচারপতি আমার কাজিন। রায়ের পরপরই গত দুই বছর আগে বইমেলায় দেখা হইলে এই নিয়া তার সংগে কথা হয়। তিনি আমার গুরুজন। সেইভাবেই তার সংগে কথা হইছে। আমি জানি তার রায় সাংস্কৃতিক এলিটদের পছন্দ হইছে। তয় পূর্ববঙ্গের ভূমিপুত্রের নিজের জবানে খাড়াইবার স্বপ্ন খানিকটা হোঁচট খাইছে। যাক তবু আমি কঠিনভাবে বিশ্বাস করি আগামী ৩০ বছরের মদ্যে বাংলা ভাষার মূল স্রোত ঢাকা কেন্দ্রিক ভাষা প্রবণতা আর বাচনভংগি নিয়াই বিকশিত হইব।

জন্মদিন ভাবনা...

নিজের জন্মদিন নিয়া আলাদা কুনো ভাবনা নাই। তয় স্বজনরা অনেকেই ভাবে। অনেক সংগঠন জন্মদিন নিয়া অনুষ্ঠান করতে চায় আমি এইটা এখন সেইভাবে চাই না। একসময় ভাই-ব্রাদাররা বিশাল অনুষ্ঠান আর প্রকাশনা করতো এখনও চায় কিন্তু প্রতিবার এইসব ভাল্লাগে না। অবশ্য ঘরোয়া আড্ডা হয়। এইটা বরং ভাল। তয় সার্বিকভাবে আমি মনে করি প্রত্যেক মানুষের জন্মদিনটাই গুরুত্বের। যেসব মহামানব প্রায়ত হইছেন তাদের বেলায় আমি জন্মদিন উদযাপনকে গুরুত্বপুর্ণ মনে করি মৃত্যুদিনের চাইতে। একারনেই কিনা জানি না তয় দ্যাখো, ১২ রবিউল আওয়াল নবিজীর জন্ম/মৃত্যু দুইটা হইলেও আমরা কিন্তু জন্মোৎসবটাই পালন করি। আবার যিশু নবীর ক্ষেত্রে গুড ফ্রাইডের চাইতে ২৫ ডিসেম্বর অনেক বেশি গুরুত্বের। আসলে সাধারণ একটা দিন হয়াও প্রত্যেক মানুষে্র ক্ষেত্রেই জন্মদিন শেষাবধি একটু বিশেষ।