প্রচ্ছদ » জেলার খবর » বিস্তারিত

ভাসমান হাঁসের খামারে সফলতা

২০১৫ অক্টোবর ০৮ ১৫:২৮:৫০
ভাসমান হাঁসের খামারে সফলতা

জাহিদুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম : পানির উপরে হাঁসের খামার ঘর ভেসে চলেছে ছড়ার এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্তে। ঘরের ভিতরে হাঁসের খামারের খাদ্যসহ নানা উপকরণ। হাঁসগুলোও খামার থেকে বের হয়ে দলবদ্ধভাবে ভেসে চলেছে ছড়াতে। দৃষ্টিনন্দন এ দৃশ্য এখন নিত্যসঙ্গী কামারের ছড়া গ্রামে। গ্রামটি কুড়িগ্রামের রাজারহাটের ছিনাই ইউনিয়নে অবস্থিত।

ওই গ্রামে অবস্থিত ছড়াতে পালে পালে হাঁসের চলাচলে মুখরিত ব্যতিক্রমি এ ‘ভাসমান খামার’ গড়ে তুলেছেন আব্দুস সালাম। তবে শখের বসে নয়— পানির উপর ভাসমান এ খামার করে হাঁসপালনের মাধ্যমে বেকারত্ব ঘুচিয়েছেন তিনি।

আব্দুস সালাম এ বিষয়ে জানালেন, বছর খানিক আগে বেকারত্ব ঘোচাতে তিনি ৩ শ’ হাঁসের বাচ্চা দিয়ে কামারের ছড়ার উপর ভাসমান এ খামার শুরু করেন। তখন অবশ্য তার হাতে খামার করার মতো অর্থ ছিল না। ফলে ঋণ নিয়েই এ কাজ শুরু করতে হয় তাকে। এভাবেই খামার-ঘর তৈরী, হাঁসের বাচ্চা কেনা ও হাঁসের খাদ্য কিনে শুরু করেন তিনি।

এরপর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। বর্তমানে খামারে তার হাঁসের সংখ্যা ৫ শতাধিক। খামার থেকে প্রতিদিন শতাধিক ডিম বিক্রি করতে পারেন তিনি। পাশাপাশি হাঁস বিক্রি করেও আয় হয় তার। সারাদিন ছড়ার পানিতে খাদ্য খেতে পারে বলে হাঁসের খাবারের পিছনে খুব বেশী খরচ করতে হয় না। প্রতিমাসে ডিম ও হাঁস বিক্রি করে খরচ বাদ দিয়ে তার আয় হয় হাজার ত্রিশেক। এ দিয়েই ভালভাবে সংসার চলছে বলে জানান আব্দুস সালাম।

কামারের ছড়া গ্রামের বাসিন্দা আবুল হোসেন এ বিষয়ে বললেন, ‘আব্দুস সালামের এ উদ্যোগ বেশ সাড়া ফেলেছেন। ব্যতিক্রমী এ খামার দেখতে প্রতিদিন অনেক মানুষ আসছেন। আর খামারের হাঁস সারা ছড়ায় দল বেঁধে ঘুরে বেড়ায়। এতগুলো হাঁস একসাথে দেখতেও ভাললাগে। তা ছাড়া এতে করে, আমাদের গ্রামের মানুষের আর ডিম বা হাঁস কিনতে বাজারের যেতে হয় না।’

কামারের ছড়ার পার্শ্ববর্তী গ্রামের যুবক আমিনুল ইসলাম বললেন, ‘আমি পানির উপর ভাসমান হাঁসের খামার দেখতে এসেছি। আমার ইচ্ছা আছে এ বছরই এ রকম একটি খামার করার।’

এ ব্যাপারে রাজারহাট উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান মিঠু জানালেন, জলাশয়ের একই পানিতে মাছের সাথে প্রাকৃতিক খাবার দিয়ে হাঁসপালন করলে মাছ দ্রুত বড় হয়। মাছের জন্য আলাদা খাবার খুব একটা দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। এতে করে মৎস্যজীবীরা বেশী লাভবান হবেন।

রাজারহাট উপজেলা প্রাণী-সম্পদ কর্মকর্তা নাজমুল হুদা বললেন, কামারের ছড়ায় আব্দুস সালামের ভাসমান হাঁসের খামারটি আমি পরিদর্শন করেছি। এটি একটি ভাল উদ্যোগ। এ পদ্ধতিতে হাঁসের জন্য বাড়তি খাবার না দিয়েও হাঁসপালন করা যায়। আমাদের উপজেলায় এ রকম অনেক ছড়া ও বিল রয়েছে। যেখানে স্বল্প খরচে হাঁস চাষ করে বেকারত্ব সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি প্রচুর আয় করা সম্ভব। আমি বেকার যুবকদের উৎসাহিত করার চেষ্টা করছি।

(দ্য রিপোর্ট/আইজেকে/আরকে/অক্টোবর ০৮, ২০১৫)