প্রচ্ছদ » জাতীয় » বিস্তারিত

নদী টাস্কফোর্সের ভুল সিদ্ধান্তে দেশবাসী সোনাই নদী হারাচ্ছে

২০১৫ অক্টোবর ০৮ ১৬:০৯:৩৩
নদী টাস্কফোর্সের ভুল সিদ্ধান্তে দেশবাসী সোনাই নদী হারাচ্ছে

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : নদী টাস্কফোর্স ও জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের অবহেলা আর ভুল সিদ্ধান্তের কারণে দেশবাসী হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সোনাই নদীটি হারাতে চলেছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশবাদীরা।

বৃহস্পতিবার ‘নদী রক্ষায় হাইকোর্টের রায় ২০০৯ ও পানি আইন ২০১৩ লঙ্ঘন করে সোনাই নদীর দখলদারদের পক্ষে সিদ্ধান্ত দিয়েছে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন ও টাস্কফোর্স। এই বেআইনী সিদ্ধান্ত বাতিল করুন, সোনাই নদী দখলদারমুক্ত করুন’ এই দাবিতে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি হলে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে পরিবেশবাদীরা বলেন, ‘সোনাই নদীর বুকে বেআইনীভাবে গড়ে তোলা সায়হাম ফিউচার কমপ্লেক্স জাতিসংঘে ধরিত্রীকন্যা হিসেবে পাওয়া প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদাকে অবশ্যই ম্লান করবে। নদী ও জলাশয়ের দখলদারদের পক্ষ নিয়ে জাতিসংঘের পুরস্কারের মর্যাদা রক্ষা করা যাবে না।’

তারা বলেন, ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ পুরস্কার পাওয়া প্রধানমন্ত্রী কোনো অবস্থাতেই নদীর অধিকারকে খর্ব এবং দখলদারদের স্বার্থ রক্ষা করার মতো সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে পারেন না।’

তারা অভিযোগ তুলে বলেন, ‘জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের দেওয়া অবাস্তব প্রতিবেদনকে আমলে নিয়ে নদী টাস্কফোর্সের ২৮তম সভায় সায়হাম ফিউচার কমপ্লেক্সকে নির্মাণকাজ চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, নদী টাস্কফোর্সের ওই সিদ্ধান্ত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সায়হাম গ্রুপ সেখানে আবারও দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করে। এতে দেশের পরিবেশবাদী ও নদীপ্রেমিক জনগণ হতাশ ও ক্ষুব্ধ। নদী রক্ষা কমিশন এবং টাস্কফোর্সে দুর্নীতিবাজরা থাকায় বিভিন্ন কৌশলে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় সোনাই নদীর ওপর একটি ১০তলা ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। একমাত্র পথ ধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ছাড়া এখন এটি বন্ধ করার আর কোনো পথ নেই।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলার ক্ষেত্রে এ ধরনের সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী। দখলদারদের পক্ষে ঐতিহ্যবাহী নদী ধ্বংসের মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা করা যাবে না।’

তারা বলেন, ‘এ ধরনের সিদ্ধান্ত পরিবেশ রক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং স্ববিরোধী হতে বাধ্য। নদী টাস্কফোর্সের সদস্যরা এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তাই অবিলম্বে ওই সিদ্ধান্ত বাতিল এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন- বেসরকারি সংগঠন নিজেরা করির নির্বাহী পরিচালক খুশী কবির, জালালাবাদ ফাউন্ডেশনের সভাপতি সি এম তোফায়েল শামী ও বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা. এম এ মতিন। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাশিদা কে চৌধুরী। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাপার যুগ্ম-সম্পাদক শরীফ জামিল।

(দ্য রিপোর্ট/এমএম/এসবি/এজেড/অক্টোবর ০৮, ২০১৫)