প্রচ্ছদ » জেলার খবর » বিস্তারিত

বড়াল নদ সচল করা হবে : শাজাহান

২০১৫ অক্টোবর ০৮ ১৮:২০:২০
বড়াল নদ সচল করা হবে : শাজাহান

পাবনা প্রতিনিধি : নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, ‘সকল প্রতিবন্দকতা সরিয়ে বড়াল নদের প্রবাহমানতা ফিরিয়ে আনতে হাইকোর্টের যে নির্দেশনা সে লক্ষ্যেই কাজ করছে সরকার।’

বাঁধ দিয়ে স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ বন্ধ করা অনুচিত উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে বড়াল নদের যেখানে বাঁধ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে সেখানে ব্রিজ নির্মাণ করে বড়ালকে সচল করা হবে।’

পাবনার চাটমোহরে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বড়াল নদের বর্তমান অবস্থা সরেজমিন পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ সব কথা বলেন।

নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, দেশের নদীগুলো গতিপ্রকৃতি হারানোর ফলে বাংলাদেশ আজ ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের নদীগুলোর প্রাণ ফেরাতে নির্দেশ দিয়েছেন। তার নির্দেশনা ও সহযোগিতায় গত বছর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ১৪টি ড্রেজার নির্মাণ করেছে, ২৬টি বেসরকারি মালিকানায় এনেছে। আর পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সংগ্রহ করেছে ১০টি ড্রেজার। এগুলো দিয়ে আমরা ক্যাপিটাল ও মেইনটেইনেন্স ড্রেজিং করে নদীর গতিপ্রবাহ ফেরাতে চেষ্টা করছি। আর নদী যদি আমরা সচল করতে পারি তাহলে আমরা অনেক সুযোগ-সুবিধা পাব। নদী সচল হলে নৌযোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে, মৎস চাষ বৃদ্ধি পাবে, সেচ ব্যবস্থা বৃদ্ধি পাবে, নদীর দুই পাড়ে রাস্তা নির্মাণ করে দিলে যাতায়াতের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পাবে।

মন্ত্রী বলেন, যে বড়াল ছিল প্রবাহমান, সেই নদকে বাঁধ দিয়ে লেকে পরিণত করা হয়েছে। ফলে জলাবদ্ধতার পাশাপাশি, কচুরিপানায় ভরে মশার সৃষ্টি হচ্ছে, দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এ সব বিষয় আমরা দেখব এবং শুক্রবার (৯ অক্টোবর) এ সব বিষয় নিয়ে রাজশাহীতে আমরা বিভাগীয় পর্যায়ে নাটোর ও পাবনা অংশের নদী সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে বসে আলোচনা করে একটা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।

পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. নজরুল ইসলাম এ সময় সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সকল নদ-নদীকে পুনরুদ্ধার করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এটাকে তিনি স্বপ্ন হিসেবে দেখছেন। যেখানে প্রধানমন্ত্রী নিজেই চাচ্ছেন দেশের নদীগুলো উদ্ধার হোক, সেখানে আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা রয়েছে তার ভিশন বাস্তবায়ন করতে হবে। তাই বলতে পারি, বড়াল নদও উদ্ধার হবে।

এর আগে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বড়াল নদের দহপাড়া স্লুইসগেট, নতুনবাজার, বোঁথড় ও রামনগর এলাকায় নদ বন্ধ করে নির্মিত ক্রসবাঁধ পরিদর্শন করেন। পরে মন্ত্রী চাটমোহর ডাকবাংলোয় সাংবাদিক ও বড়াল রক্ষা আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

জাতীয় নদী কমিশনের চেয়ারম্যান আতাহারুল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ইডি বেলাল খান, পাবনার দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মুন্সী মো. মনিরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ড. ফারুক আহম্মেদ, সড়ক ও জনপদ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চাটমোহর উপজেলা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নূরুল করিম আরজ খান, পৌরসভার মেয়র মির্জা রেজাউল করিম দুলাল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেগম শেহেলী লায়লা, বড়াল রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক এ্যাডভোকেট গৌরচন্দ্র সরকার, সদস্য সচিব এস এম মিজানুর রহমান, চাটমোহর প্রেস ক্লাবের সভাপতি রকিবুর রহমান টুকুন প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

পাবনা সার্কিট হাউজে দুপুরে তারা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, সড়ক ও জনপদ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

(দ্য রিপোর্ট/এমএআর/আরকে/অক্টোবর ০৮, ২০১৫)