Airtel & Robi User Only

প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয় » বিস্তারিত

সাহিত্যে স্লাভিক নোবেল জয়ী

২০১৫ অক্টোবর ০৯ ০০:০৬:৪০

সেভেতলানা এলেক্সিভিচ এ বছর সাহিত্যে নোবেল পেলেন। নারী হিসেবে সেভেতলানা ১৪তম সাহিত্যে নোবেলজয়ী। পেশায় সাংবাদিক। পেশার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হাজার মানুষের মৌখিক ইতিহাস রেকর্ডের মাধ্যমে সোভিয়েত ইউনিয়নের মানুষের জীবনচিত্র আঁকার জন্য তাকে ২০১৫ নোবেল দেয়া হলো। ৬৭ বছর বয়সী বেলারুশের এই লেখিকা ১৯৪৮ সালে ইউক্রেনে জন্ম নেন। তার পিতা ছিলেন বেলারুশের নাগরিক, মাতা ছিলেন ইউক্রেনের। পিতা সামরিক বাহিনী থেকে অবসর নেয়ার পর তারা বেলারুশে বসবাস শুরু করেন। তার পড়াশোনা সাংবাদিকতায়। তার সাহিত্যের উপজিব্য রাজনীতি। তাকে রাজনৈতিক সাহিত্যিক মনে করা হয়। তিনি সোভিয়েত তথা তার দেশ বা রুশ সরকারের কঠোর সমালোচক। নোবেল বিজয়ী সাহিত্যকর্মে তিনি সোভিয়েত শাসনের ওপর দীর্ঘ গবেষণা করেছেন।

তার প্রথম গ্রন্থ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন নারীর সাক্ষাৎকারভিত্তিক। এটি প্রকাশ হয় ১৯৮৫ সালে। তিনি ইংরেজি অনুবাদক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে সাহিত্যে তিনি চতুর্থ নোবেল জয়ী। তার আগে ১৯৫৮ সালে ডক্টর জিভাগোখ্যাত বরিস পাস্তানাক নোবেল পান । ১৯৭০ সালে নোবেল পান আলেকজান্ডার সোলজেতসিন। এরপর পান মিখাইল সোলকভ। সেই হিসেবে স্লাভিক বলয়ে সেভেতলানা চতুর্থ নোবেল জয়ী। অনেক যাচাই-বাছাইয়ের পর এবছর যারা নোবেল পেতে পারেন তাদের তালিকায় শেষ পাঁচে উঠে আসেন তিনি। শেষ বাছাই পাঁচজনের মধ্যে কে নোবেল জয়ী হবেন তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনায় তার নাম জোরে-শোরে শোনা যাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত সেভেতলানাকেই চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করল নোবেল কমিটি।

কেন সেভেতলানাকে নোবেল দেয়া হলো- তা নিয়ে অনেক কথাই চলবে। তবে আমাদের মনে হয় সাংবাদিকতাও যে সাহিত্যের উপজীব্য হয়ে উঠতে পারে সেভেতলানা নিখুঁতভাবে তা দেখিয়ে দিয়েছেন তার সৃষ্টিতে।

তার লেখায় রাজনীতি তথা কমিউনিস্ট শাসনে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও বর্তমান রুশবলয়ের দেশগুলোয় জেঁকে বসা একনায়কত্ব বিরোধিতা থাকায় আগেই তিনি পশ্চিমা গণতন্ত্রপন্থীদের দৃষ্টিতে পড়েছিলেন। তাছাড়া বর্তমান ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনীয় মায়ের সন্তান হওয়ায় তার প্রতি পাশ্চাত্য, সেই সুবাদে পশ্চিম প্রভাবিত নোবেল কমিটির বিশেষ দুর্বলতা থাকা অসম্ভবও নয়। নোবেল পেতে তার এই পরিচয় কাজে আসতে পারে। তবে তার চিন্তা এবং সৃষ্টিই যে তার এ সম্মানের মূল তা কে অস্বীকার করবে।