প্রচ্ছদ » এই দিনে » বিস্তারিত

মোহাম্মদ ফরহাদ

২০১৫ অক্টোবর ০৯ ০৫:৪৯:২৭
মোহাম্মদ ফরহাদ

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক : মোহাম্মদ ফরহাদ বাংলাদেশের বিশিষ্ট বামপন্থী নেতা। তিনি কমরেড ফরহাদ নামে বেশি পরিচিত। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের অন্যতম স্থপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি, জাতীয় সংসদের সাবেক সদস্য এবং বাকশালের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৮৭ সালের এ দিনে (৯ অক্টোবর) তিনি মারা যান।

মোহাম্মদ ফরহাদ ১৯৩৮ সালের ৫ জুলাই পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার জমাদারপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আহমেদ সাফাকাত আল বারি ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ। ইংরেজী, আরবী, ফার্সী ও উর্দু প্রভৃতি ভাষায় তার দখল ছিল।

দিনাজপুর জেলা স্কুল সংলগ্ন একটি প্রাইমারি স্কুলে চল্লিশের দশকের শুরুতে কমরেড ফরহাদের শিক্ষা জীবন শুরু। পরে জেলা স্কুলের মেধাবী ছাত্র হিসেবে সর্বদাই পরিচিতি ও প্রশংসিত হন। ১৯৫৩ সালে তিনি প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। দিনাজপুর সুরেন্দ্রনাথ কলেজে থেকে ১৯৫৭ সালে আইএ পাস করেন। ১৯৫৯ সালে বিএ পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ১৯৬১ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ পাস করেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কার্যকলাপে ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ স্থান লাভ করেন। ১৯৬২ সালে আইন অধ্যয়নরত অবস্থায় আইয়ুব খান ফরহাদের বিরুদ্ধে হুলিয়া বের করে।

মোহাম্মদ ফরহাদ ১৯৫২ সালে মহান রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে দিনাজপুর জেলা স্কুলের ছাত্র হিসেবে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ভাষা আন্দোলনের পরপরই পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন গঠিত হলে দিনাজপুর জেলায় ঐ সংগঠনের মূল উদ্যোক্তাদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। ১৯৫৩-৫৪ সালে বোদা-পঞ্চগড় প্রভৃতি এলাকায় প্রথম ছাত্র সংগঠন গড়ে তোলেন। ১৯৫৮ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য (কোষাধ্যক্ষ) নির্বাচিত হন। ১৯৬২ সালে আইয়ুব খানের সামরিক আইনের বিরুদ্ধে যে জঙ্গি ছাত্র আন্দোলন গড়ে উঠেছিল মোহাম্মদ ফরহাদ ছিলেন সেই আন্দোলনের মূল নেতা। তাকে আইয়ুববিরোধী আন্দোলনের ‘মস্তিষ্ক’ বলে অভিহিত করা হয়। অল্প সময়ের মধ্যে তিনি একজন প্রধান বিপ্লবী ছাত্রনেতা হিসেবে প্রগতিশীল ছাত্র সমাজের সমাদর লাভ করেন। এই সময় থেকেই তখনকার পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের (তখন অসংগঠিত ও অবলুপ্ত অবস্থায় ছিল) কর্মী ও নেতৃবৃন্দ তার সংস্পর্শে আসেন। তার সঙ্গে পরামর্শ করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গোপনে সংগঠিত হতে থাকে। ১৯৬২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি আইয়ুবের বিরুদ্ধে ঢাকার রাজপথে প্রথম মিছিল বের করতে গিয়ে তাকে পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতি হয়। ৬০ হতে ৮০ দশক পর্যন্ত মোহাম্মদ ফরহাদ বাংলাদেশের সমস্ত আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৯ এর ঐতিহাসিক ১১ দফা আন্দোলনের তিনি ছিলেন নেপথ্য কারিগর ও প্রকৃত পরামর্শদাতা। পরবর্তীতে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিযুক্ত হন। বিভিন্ন সময় তিনি জেল-জুলুমের শিকার হন।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কমিউনিস্ট পার্টি, ন্যাপ ও ছাত্র ইউনিয়ন প্রভৃতি সংগঠনসমূহকে নিয়ে যে মুক্তিবাহিনী গঠিত হয়েছিল মোহাম্মদ ফরহাদ ছিলেন এই সংযুক্ত মুক্তিবাহিনীর প্রধান সংগঠক। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রায় বিশ হাজার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার তিনি ছিলেন নেতা। ৩০ জানুয়ারি মোহাম্মদ ফরহাদ ঢাকা স্টেডিয়ামে এক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার নেতৃত্বে পরিচালিত বাহিনীর অস্ত্র বঙ্গবন্ধুর নিকট সমর্পণ করেন। ১৯৭৩ সালের ডিসেম্বর মাসে ৩৫ বছর বয়সে পার্টির দ্বিতীয় কংগ্রেসে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালে জুন মাসে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান বাকশাল গঠন করলে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মনোনীত হন এবং তাকে ঐ সংগঠনের দলীয় রাজনৈতিক প্রশিক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৯৮৬ সালে নির্বাচনের আগে স্বৈরাচারকে পরাস্ত করার কৌশল হিসেবে তিনি দিয়েছিলেন দুই নেত্রীর ১৫০-১৫০ আসনে নির্বাচন করার ফর্মূলা। ভীত হয়ে এরশাদ অধ্যাদেশ জারি করেছিলেন যে কোন প্রার্থী ৫টির বেশি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। অনেকে তাকে ‘এরশাদের য’ বলে অভিহিত করেছিল। ফরহাদ আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন ‘২০০০ সালের মধ্যে বিপ্লব সংগঠিত করার’। ১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পঞ্চগড়-২ আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন।

তথ্যসূত্র : উইকিপিডিয়া

(দ্য রিপোর্ট/ডব্লিউএস/এপি/অক্টোবর ০৯, ২০১৫)