প্রচ্ছদ » স্বাস্থ্য » বিস্তারিত

ডিম খাওয়ার সঙ্গে হৃদরোগের সম্পর্ক নেই

২০১৫ অক্টোবর ০৯ ১৭:৩১:২০
ডিম খাওয়ার সঙ্গে হৃদরোগের সম্পর্ক নেই

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি প্যাথলজির অধ্যাপক ড. এ এস মাহফুজুল বারী বলেছেন, ‘ডিম খাওয়ার সঙ্গে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের কোনো সম্পর্ক নেই। ডিম হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় না বরং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।’

বিশ্ব ডিম দিবস-২০১৫ উপলক্ষে শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ পোল্ট্রি শিল্প সমন্বয় কমিটি (বিপিআইসিসি) এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। এবারের বিশ্ব ডিম দিবসের প্রতিবাদ্য বিষয় ‘বাঙালী হবে স্বাস্থ্যবান, প্রতিদিন ডিম খান’।

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এ্যানিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি বারী বলেন, ডিম অত্যন্ত পুষ্টিকর ও নিরাপদ একটি খাদ্য। মাত্র দুটি ডিম নারীর দৈনিক প্রোটিন চাহিদার এক-চতুর্থাংশ পূরণ করতে পারে। শুধু তাই নয়, শর্করা কমিয়ে প্রতিদিন ডিম খেলে মাসে তিন পাউন্ড পর্যন্ত ওজন কমানো সম্ভব।

সমাজে ডিম সম্পর্কে অনেক ভুল ধারণা প্রচলিত আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেকেই মনে করেন ডিম খেলে কোলস্টেরল বাড়ে। হার্ট এ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে। এ ধারণা একেবারেই অমূলক। ডিমে কোলস্টেরল আছে তবে তা ক্ষতিকর নয় বরং উপকারী। আধুনিক বিজ্ঞান বলছে, সপ্তাহে চারটি ডিম খেলে টাইপ-টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ৩৭ শতাংশ কমে যায়। সপ্তাহে ছয়টি ডিম খেলে স্তন ক্যান্সারের সম্ভবনা ৪০% হ্রাস পায়।

সভায় স্বল্পমূল্যে ডিমের উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে পোল্ট্রিকে করমুক্ত খাত হিসেবে ঘোষণার দাবি জানান এই শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খামারি ও ব্যবসায়ীরা।

বিপিআইসিসি আহ্বায়ক মসিউর রহমান বলেন, চলতি অর্থবছরে পোল্ট্রি শিল্পের ওপর আমদানি শুল্ক ও অগ্রিম আয়কর আরোপ করার ফলে পোল্ট্রি ফিড, বাচ্চা, ডিম ও মুরগির মাংসের উৎপাদন খরচ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে পোল্ট্রিকে করমুক্ত খাত হিসেবে ঘোষণার বিকল্প নেই।

দেশে ডিমের মোট চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশ বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত হয় জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে ডিমের দৈনিক উৎপাদন প্রায় ২ কোটি; ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশে ডিমের দৈনিক চাহিদা হবে প্রায় ৪০-৪৫ কোটি। এ বিশাল চাহিদা পূরণে পোল্ট্র্রি শিল্পের উন্নয়নে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত সহযোগিতা দরকার।

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন- প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক অজয় কুমার রায়, বিপিআইসিসির যুগ্ম-আহ্বায়ক সামছুল আরেফিন খালেদ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও হেড অব মেডিসিন অধ্যাপক ডা. মো. বিল্লাল আলম, অধ্যাপক ড. মোফাজ্জল হোসেন, ইউনাইটেড নেশনস ফুড এ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশনের (এফএও) বিশেষজ্ঞ ড. নিতিশ চন্দ্র দেবনাথ প্রমুখ।

(দ্য রিপোর্ট/এমএম/এমএআর/এজেড/অক্টোবর ০৯, ২০১৫)