প্রচ্ছদ » সাহিত্য » বিস্তারিত

সেই মানুষের খোঁজে : সেভেতলানা এ্যালেক্সিভিচ

২০১৫ অক্টোবর ০৯ ২১:৫৯:৪৯
সেই মানুষের খোঁজে : সেভেতলানা এ্যালেক্সিভিচ

সাবিদিন ইব্রাহিম

আমি এমন একটি সাহিত্য প্রকরণের খোঁজ করছিলাম যার মাধ্যমে আমি কানে যা শুনি এবং চোখে যা দেখি তা তুলে আনতে পারব। আমি এটা-ওটা চেষ্টা করেছি এবং শেষে এমন একটা রীতিতে আসলাম যেখানে বিভিন্ন মানবকণ্ঠ নিজেদের কথা নিজেরাই বলে। আমার বইয়ে একেবারে বাস্তব দুনিয়ার লোকেরাই কথা বলে; তারা তাদের সময়ের বিভিন্ন ঘটনা, যুদ্ধ, চেরনোবিল বিপর্যয় অথবা বড় একটি সাম্রাজ্যের পতন নিয়ে কথা বলে। মৌখিকভাবে তারা একসঙ্গে একটি দেশের ইতিহাস লিখছে, তাদের সাধারণ ইতিহাস যেখানে একজন মানুষ তার ব্যক্তিগত গল্প তার ভাষায় তুলে আনছে। আজকের দুনিয়ায় যেখানে মানুষ এবং দুনিয়ার বহুরূপ সেটাকে সাহিত্যে রূপ দেয়া অনেক সময় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তথ্য আমাদের বাস্তবতার কাছে নিয়ে আসে, কারণ এটা আসল ঘটনাকে ধারণ ও সংরক্ষণ করে। বিশ বছর ধরে বিভিন্ন তথ্য ও দলিলপত্র নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করে পাঁচটি বই লেখার পর আমি এটা ঘোষণা করতে পারি যে, সাহিত্য মানুষের অনেক ব্যাপারাদি বুঝতেই ব্যর্থ হয়েছে। তথ্য আমাদের বাস্তবতার কাছে নিয়ে আসে এবং আসল ঘটনাকে ইতিাসের কাছে সংরক্ষণ করে। বিশ বছর এই তথ্য সংগ্রহের পেছনে সময় দিয়ে এবং পাঁচটি বই লিখে এটা বুঝতে পেরেছি যে, শিল্প মানুষের অনেক বিষয়ই বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে।

কিন্তু আমি শুধু ইতিহাসের শুকনা বৃত্তান্ত এবং ঘটনাবলীর বর্ণনাই করি না, আমি মানুষের অনুভূতির ইতিহাসও লিখছি। কোন ঘটনার সময় মানুষ কীভাবে বোঝে এবং মনে রাখে। তারা কী বিশ্বাস করত, কী অবিশ্বাস করত, তাদের কী বিভ্রান্তি, আশা, নিরাশার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। এরকম হাজারো বাস্তব ঘটনা এরকম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে কল্পনা করা বা সৃষ্টি করে লেখা অসম্ভব। আমরা ১০, ২০ বা ৫০ বছর আগে কী ছিলাম এটা খুব তাড়াতাড়ি ভুলে যাই। কখনোবা আমরা আমাদের অতীত নিয়ে লজ্জিত এবং যে তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছি সেটা অস্বীকার করতে চাই। সাহিত্য মিথ্যা বলতে পারে কিন্তু তথ্য/দলিলপত্র মিথ্যা বলে না। এটা ঠিক যে, এ তথ্যও কোনো ব্যক্তির ইচ্ছা বা আবেগের ফসল।

আমার বইগুলো লিখতে আমাদের জীবন ও অস্তিত্বের হাজারো কণ্ঠ, হাজারো মঞ্জিল, জীবনের ভগ্নাংশ নিয়েছি। প্রত্যেকটা বই লিখতে আমার তিন-চার বছর লেগেছে। প্রত্যেকটা বইয়ের জন্যই আমি ৫০০ থেকে ৭০০ জন লোকের সঙ্গে কথা বলেছি, আমাদের আলোচনা রেকর্ড করেছি। আবার আমার এ বৃত্তান্ত কয়েক প্রজন্মের মানুষকে নিয়ে। এটা শুরু হয়েছে ওই সব মানুষদের নিয়ে, যারা ১৯১৭-এর বিপ্লব দেখেছে, এবং এটাও দেখেছে বিশ্বযুদ্ধ এবং স্তালিনিস্ট গুলাগদের পথ ধরে আজকের অবস্থায় পৌঁছেছে। এই গল্পটা সোভিয়েত-রাশিয়ার আত্মার গল্প।

আমার প্রথম বইটি হচ্ছে‘দ্য আনওমেনলি ফেস অব দ্য ওয়ার’ (যুদ্ধের অ-রমণীয় মুখ)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ১০ লাখেরও বেশি নারী যুদ্ধ ময়দান থেকে যুদ্ধ দেখেছে, যাদের বয়স ছিল ১৫ থেকে ৩০ এর মধ্যে। তারা বিভিন্ন সামরিক পদ দখল করেছিল। বিমানের পাইলট থেকে শুরু করে ট্যাংক ড্রাইভার, মেশিনগানচালক, স্নাইপার এবং আরও বিভিন্ন কাজ করেছিল। আদ্যিকালে যেমন শুধু ডাক্তার আর নার্স হতো নারীরা, সেবার কিন্তু ব্যাপারটা এমন ছিল না। যুদ্ধ শেষে দেখা গেল পুরুষরা ওই সব নারীদের ভুলে গেল। পুরুষরা নারীদের কাছ থেকে বিজয় ছিনিয়ে নিল।

আমার বইয়ে ওই নারী সৈন্যরা এমন কথা বলেছে, যা পুরুষদের লেখাতে কখনো আসেনি। আমরা এমন যুদ্ধ সম্পর্কে জানিনি। পুরুষরা তাদের যুদ্ধে অর্জন নিয়ে বিভিন্ন কিছু বলেছে কিন্তু মেয়েরা বলেছে অন্য কথা। যেমন তাদের কাছে সেটা কত ভয়ঙ্কর ছিল যখন তাদের মৃত লাশের স্তূপের উপর দিয়ে যেতে হয়েছে। যেখানে লাশগুলো গোল আলুর স্তূপের মতো পড়ে থাকত। লাশগুলোর বেশিরভাগেরই বয়স ছিল অল্প। রাশিয়ান হোক বা জার্মান সেনা সবার জন্যই কষ্ট লাগত। সে যুদ্ধ শেষে নারীদের আরেকটি যুদ্ধে নামতে হয়েছে। তাদের সামরিক আইডি এবং আঘাতের চিহ্ন লুকাতে হয়েছে। কারণ তারা বিয়ে ও সংসার করতে চাইত।

আমার দ্বিতীয় বইটি হচ্ছে ‘দ্য লাস্ট উইটনেস : দ্য বুক অব আনচাইল্ড লাইক স্টোরিজ’ (সর্বশেষ সাক্ষী : অ-শিশুসুলভ গল্পের বই’। এখানে ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের যুদ্ধের স্মৃতিকথা লিখেছি। ওই নিষ্পাপ শিশুদের বরাতে যুদ্ধের বর্ণনা এসেছে। দস্তোভস্কি একবার বলেছিলেন যে, সামষ্টিক কল্যাণের কোনো মূল্যই নেই সেটা যদি একটা শিশুরও চোখের পানির কারণ হয়।

তৃতীয় বইটি হচ্ছে ‘বয়েজ ইন জিঙ্ক’

এ বইটা ১০ বছরব্যাপী চলা সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধের উপর। এ গল্পে যাদের গল্প এসেছে তারা হলো শতাধিক সেনা অফিসার, সাধারণ সৈন্য এবং যুদ্ধের ফলভোগী বিধবা ও মায়েরা। কেন তারা এই দুর্বোধ্য যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল তা নিয়ে কথা বলেছেন। আমরা দেখলাম কীভাবে প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্য এক নির্মম ও নৈরাশ্যকর দ্বৈতযুদ্ধে শামিল হলো। এটা কেমন ধরনের যুদ্ধ ছিল, মানুষ তখন এটা নিয়ে কী ভাবত, তারা কীভাবে একে অন্যকে হত্যা করেছে এবং তারা মরিয়া হয়ে কীভাবে বাঁচার চেষ্টা করত- এ সব কথাই উঠে এসেছে। “সেখানে সময়ও কাটত ভিন্নভাবে। ব্যাপারটা এমন ছিল যেন আমরা ২০০ বছর পূর্বের জমানায় ছিলাম”- এমনটা আমার বার বার শুনতে হয়েছে। বিভিন্ন গল্পে আমি বার বার এমনটাই শুনেছি।

আপনি যখন বইটি পড়বেন তখন মনে হবে এটা তখন লেখা হয়নি, এইমাত্র লেখা হয়েছে। এটা যেন আমাদের জন্যই লেখা হয়েছে যারা নাইন-ইলেভেন ট্র্যাজেডি দেখেছে। যে ঘটনা একদিনেই পুরো বিশ্বকে পাল্টে দিয়েছে।

সামনে নয় আমরা বরং পেছনের দিকেই এগিয়েছি অনেক জোর কদমে। আগে সামরিক বাহিনীতে বাহিনীতে যুদ্ধ হতো, এখন যুদ্ধ নেমে এসেছে বেসামরিক মানুষের উপর। বইটার একটা চরিত্র শেষের দিকে বলে : “যারা ওখানে ছিল তারা আর কখনো যুদ্ধ করতে চাইবে না। মানুষ নয় আপনাকে আদর্শের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হয়, যে আদর্শ আমাদের বিশ্বকে ভয়ঙ্কর ও হিংসাপূর্ণ করে তুলছে সে আদর্শকে হত্যা করতে হবে এবং মানুষকে এর থেকে মুক্ত করতে হবে।”

আজকের দুনিয়ার প্রত্যেকটি সাধারণ মানুষের কথাও কিন্তু এটাই।

চেরনোবিল প্রার্থনা : ভবিষ্যতের ধারাভাষ্য

চেরনোবিল বিস্ফোরণের পর আমরা একটি ভিন্ন দুনিয়ায় বসবাস করছি। কমপক্ষে দুটো ভয়ানক বিপর্যয় ঘটেছে প্রায় একসঙ্গেই। একটা হচ্ছে মহাজাগতিক বিপর্যয় আরেকটা হচ্ছে সামাজিক বিপর্যয়, যেখানে একটি বিশাল সোশ্যালিস্ট ভূখণ্ডের পতন ঘটেছে। দ্বিতীয় ঘটনাটি প্রথমটিকে চাপা দিয়ে ফেলেছে, কারণ এটা আমাদের প্রত্যক্ষভাবে ছুঁয়েছে এবং এটা সহজেই বোঝা যায়। চেরনোবিল বিস্ফোরণে যা ঘটল সেটা এমন ধরনের প্রথম বিস্ফোরণ এবং আমরাই প্রথম এটার অভিজ্ঞতা নিলাম। এখন আমরা এর সঙ্গেই আছি, আমাদের ভেতর কিছু হচ্ছে; রক্ত ও জেনেটিক কোড পাল্টে যাচ্ছে এবং পরিচিত প্রাকৃতিক পরিবেশ বিলীন হচ্ছে।

কিন্তু এখানে কী ঘটছে সেটা পুরাপুরি বুঝতে হলে আমাদের ভিন্ন মানবীয় অভিজ্ঞতার দরকার আছে এবং অন্তর্জগতের ভিন্ন টানের দরকার রয়েছে, যার এখনো কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে না। বিকীরণের ফলে ভবিষ্যতে কোন শত্রুর আগমন ঘটছে আমাদের দৃষ্টি এবং নাসিকা এখনো তার উপস্থিতি অনুভব করতে পারেনি। যা ঘটল তার সঙ্গে আমাদের শব্দ বা অনুভব খাপ খায় না এবং আমাদের ভোগান্তির পুরো অভিজ্ঞতা এবং এর পেছনকার ইতিহাসের খুব কম মূল্যই আছে আমাদের কাছে।

আমাদের আতঙ্ক পরিমাপের একটাই মাধ্যম, সেটা হল যুদ্ধ। আমাদের চৈতন্য এর গভীরে আর যায় না, সেই সীমানাতেই আটকা পড়ে আছে। চেরনোবিলে যা ঘটল তা গুলাগ ও হলোকাস্টের চেয়েও জঘন্য। এই অজানা জিনিস থেকে কীভাবে নিজেদের রক্ষা করব সেটা এখনো মানবজাতির কাছে অপরিচিত। সময়ের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটাই পাল্টে দিয়েছে চেরনোবিল। এই ‘চিরতরে’, ‘কখনো না’ শব্দগুলো ভিন্ন অর্থে পূর্ণ এবং এগুলো বাস্তব রূপ ধারণ করেছে। বড় ও ছোট ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে আমাদের পুরনো ধারণা অপ্রতুল মনে হবে। মানুষ মহাবিশ্বের অতল গহ্বরে উঁকি মারছে। আমরা প্রথম দফাতেই অমরত্ব থেকে বঞ্চিত। মৃত্যু উপত্যকায় সময় থমকে দাঁড়িয়েছে এবং এটা তা-ই হয়ে দাঁড়িয়েছে যা সব সময় ছিল- সেটা ‘কাল’ বা অনন্তকাল।

কোনো একদিন আমাদের এই দিনগুলোর গল্প চেরনোবিলের গল্প মিথে পরিণত হবে। নতুন প্রজন্ম আমাদের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে ভাববে এটা কীভাবে ঘটল? তখন কেমনতর মানুষ বসবাস করত? তাদের অনুভূতি ও চিন্তা কেমন ছিল, তারা কীভাবে এ সবকিছুর সঙ্গে সম্পর্ক রাখত এবং তারা কী স্মৃতি লালন করত? মানুষ এবং ঘটনা- তারা কি সমকক্ষ হতে পারে? একজন ব্যক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনা তার জীবনকে গড়ে তোলে। আর কোনো ঘটনার সঙ্গে অসংখ্য মানুষের সংশ্লিষ্টতা ইতিহাস নির্মাণ করে। চেরনোবিলের ইতিহাস এখনো লেখা হচ্ছে। এটা একবিংশ শতকের একটি ধাঁ ধাঁ এবং এ শতকের বড় চ্যালেঞ্জ।

‘দ্য ওয়ান্ডারফুল ডিয়ার অব দ্য এটারনাল হান্ট’ (অমরত্ব শিকারীর বিস্ময়কর হরিণ)

এ গল্পগুলোর পেছনের গল্প নিয়ে লেখকের টীকা-ভাষ্য


এ বইয়ে পাঠক কী পাচ্ছে? কীভাবে সবকিছুই স্মৃতিতে পরিণত হচ্ছে। কীভাবে প্রত্যেকটি জীবনই একেকভাবে আকর্ষণীয়। কীভাবে মৃত্যু ছাড়া আপনি জীবনকে বুঝতে পারবেন না। কীভাবে ভালবাসা আমাদের আত্মোপলব্ধির গভীরে নিয়ে আসে। কীভাবে মানুষ আসলে সাধু ও নয়, শয়তানও নয়; এ দুটোর মাঝামাঝি একটা কিছু। কীভাবে আমাদের জ্ঞান শক্তিহীন। কীভাবে প্রেমের সময় মানুষ ওই একই জিনিস চায় যা তারা যুদ্ধ ও কুকর্মের সময় চায়। কীভাবে আমরা, নারী পুরুষ উভয়েই জিনিসপত্র লুকাই। কীভাবে আমরা প্রহেলিকায় বাস করি, অসম্ভব এবং অপূর্ণতায় বসত করি।

কীভাবে প্রেমের সময় আপনি মৃত্যুর মতো হারিয়ে যেতে পারেন। কীভাবে আসল/বাস্তব জীবন এবং শরীরের মৃত্যু আমাদের কাছে অগম্য। কীভাবে যীশুও মানুষ ছিলেন। কীভাবে যুদ্ধের সময় প্রেমের কারণে মারা যেতে পারেন। কীভাবে প্রত্যেকেই তার ভেতরে লুকানো গোপন জিনিসটা স্মরণ করতে পারেন। কীভাবে ফুল, গাছ, প্রজাপতি, পোকা, পাখ-পাখালি; পৃথিবীর প্রত্যেকটি সৃষ্টি একে অন্যকে ভালবাসে। কীভাবে আধুনিক সব প্রযুক্তি আমাদের মুক্ত করতে পারে না এই ভালবাসা, অনুভূতি এবং ভোগান্তির চক্র থেকে। কীভাবে আমরা এটা বুঝতে ব্যর্থ হই যে, আমাদের চাওয়া-পাওয়া সবকিছুই আমাদের জীবনকালের সীমানায় আবদ্ধ। কীভাবে পৃথিবীতে এমন পুরুষও আছে যারা বোঝে নারী হওয়া কত আকর্ষণীয়। কীভাবে প্রেমের সময়টা অন্য সময়ের চেয়ে দ্রুত ফুরিয়ে যায়। কীভাবে মানুষ অমরত্ব কামনা করে।

কীভাবে মানুষের রহস্যগুলো কত ভঙ্গুর ও কদর্য। কীভাবে বেদনা একটি শিল্প। কীভাবে আমাদের মৃত্যু কত নিকটে। কীভাবে প্রত্যেকটি রাশিয়ান জিনিসপত্রই দুঃখে ঘেরা।

বইটিতে রয়েছে শতাধিক নারী ও পুরুষের গল্প, সুখ নিয়ে তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং ব্যর্থতার গল্প।

[২০১৫ সালে সাহিত্যে নোবেলজয়ী সেভেতলনা এ্যালেক্সিভিচের ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট থেকে বাংলা তরজমা]

লেখক : কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক, বাংলাদেশ স্টাডি ফোরাম (বিডিএসএফ)