প্রচ্ছদ » সাহিত্য » বিস্তারিত

সেভেতলানার বায়োগ্রাফি

কাল্পনিক শহরের ঘটনাপঞ্জি

২০১৫ অক্টোবর ০৯ ২২:১৬:৫৭
কাল্পনিক শহরের ঘটনাপঞ্জি

[বর্তমান লেখাটি নোবেল বিজয়ী লেখক সেভেতলানা এ্যালেক্সিভিচ সম্পর্কে জানতে সহযোগিতা করবে পাঠকদের। এই নোবেল লরিয়েট সম্পর্কে পাঠক লেখাটি থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পারবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি। দ্য রিপোর্টের পাঠকদের জন্য লেখকের বায়োগ্রাফি বা সংক্ষিপ্ত জীবনী ইংরেজী থেকে ভাষান্তর করেছেন কবি ও সাংবাদিক আশরাফ ইকবাল]

এ্যালেক্সিভিচ বলেছেন, আমি এমন একটি বিশ্বকে খুঁজছি যা আমি যতটুকু দেখি এবং যতটুকু শুনি তার সম্ভাব্য প্রকৃত এবং সঠিক দিকটিকে অনুমোদন দেই। শেষে আমি মানুষের কণ্ঠ ও স্বীকারোক্তিমূলক বিশ্বকে বেছে নিলাম। আজ যখন মানুষ ও বিশ্ব বহুরূপী এবং বিভক্ত হয়ে পড়েছে, তখন আমরা অনুধাবন করতে পারলাম মানুষ সত্যিকারভাবেই কতটা রহস্যময়ী ও দুর্বোধ্য। একটি জীবনের গল্প অথবা এই গল্পের তথ্যাদি আমাদের বাস্তবের খুব নিকটে নিয়ে এসেছে।

সেভেতলানা এ্যালেক্সিভিচ আইভানো-ফ্রাঙ্কেস্কর ইউক্রেন শহরের একটি কর্মজীবী পরিবারে ১৯৪৮ সালের মে মাসের ৩১ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন জাতিতে বেলারুশিয়ান এবং মা ইউক্রেনিয়ান। সামরিক বাহিনী থেকে তার বাবার অবসর গ্রহণের পর তারা বেলারুশিয়ায় ফিরে আসে একটি গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে যেখানে তার বাবা-মা উভয়ই স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন (উল্লেখ্য, তার বাবার দাদাও একজন গ্রাম্য স্কুল শিক্ষক ছিলেন)। স্কুল জীবন শেষ করে এ্যালেক্সিভিচ ন্যারোভলো শহরের গোমেল এলাকায় একটি স্থানীয় পত্রিকায় প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করেন।

তার স্কুল জীবনেই তিনি কবিতা লিখতেন ও স্কুলের পত্রিকায় আর্টিকেল দিতেন। ঐ সময় মিনস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগে ভর্তির জন্য তার দুই বছরের কর্ম -অভিজ্ঞতার দরকার ছিল। ভর্তির বছরটি ছিল ১৯৬৭। বিশ্ববিদ্যালয়ের বছরগুলোতে তিনি রিপাবলিকান সর্ব-ইউনিয়ন প্রতিযোগিতায় তার বুদ্ধিদ্বীপ্ততা ও ভাল ফলাফলের জন্য অনেক পুরস্কার জয় করেন। ডিগ্রি অর্জনের পর তাকে বেরেসা শহরে পাঠানো হয় একটি স্থানীয় পত্রিকায় কাজ করার জন্য। একই সময়ে এ্যালেক্সিভিচ একটি বিদ্যালয়েও পড়াতেন। ওই সময়ে তিনি তার পরিবারের ঐতিহ্য শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েন। কিন্তু এক বছর পর তিনি মিনস্কে একটি গ্রাম্য পত্রিকায় আমন্ত্রিত হন। কয়েক বছর পর "নিম্যান" সাহিত্য ম্যাগাজিনের সংবাদদাতার/ প্রতিনিধির চাকরি নেন এবং শীঘ্রই নন-ফিকশন বিভাগের প্রধান পদে উন্নীত হোন।

তিনি সাহিত্যের বিভিন্ন শাখা যেমন-ছোট গল্প, প্রবন্ধ এবং সম্পাদনায় অবদান রাখতে চেষ্টা করেছেন। সেভেতলানার পছন্দের ওপর বিখ্যাত বেলারুশিয়ান লেখক অ্যালেস অ্যাডামোভিচ এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ছিল বিশেষ করে তার বই I'M From the Fiery Village এবং The Book of the Sieze এর ওপর। তিনি বইগুলো অন্য লেখকদের সাথে যৌথভাবে লিখেছিলেন, কিন্তু এর বিষয়বস্তুগুলো ছিল সম্পূর্ণ তার নিজের। এবং এটি বেলারুশিয়ান এবং রাশিয়ান উভয় সাহিত্যের জন্য একটি নতুন অধ্যায় ছিল। তার কিছু সংখ্যক পদবীর নামকরণের জন্য তিনি "collective novel, novel-oratorio, novel- evidence, people talking about themselves, epic chorus প্রভৃতির সঠিক সংজ্ঞা খুঁজছিলেন। এ্যালেক্সিভিচ সব সময় তার মূল শিক্ষক হিসেবে অ্যাডামোভিচ এর নাম বলতেন। তিনি তাকে তার নিজস্ব পথটি খুঁজে পেতে অনেক সাহায্য করেছেন।

এ্যালেক্সিভিচ তার একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন,"আমি এমন একটি সাহিত্যের ধরন খুঁজছি যেটা বাস্তব জীবনের খুব কাছাকাছি জিনিসকে তুলে ধরবে। বাস্তবতা সবসময়ই আমাকে চুম্বকের মতো আকর্ষণ করে। এটি আমাকে তাড়িত ও মোহাচ্ছন্ন করে।আমি এটি পত্রিকায় ধারণ করতে চেয়েছিলাম। তাই আমি তাৎক্ষণিকভাবে প্রকৃত কণ্ঠস্বর এবং স্বীকারোক্তি, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং তথ্যাদিকে গুরুত্ব দিয়েছি। এভাবে আমি বিশ্বকে শুনেছি এবং দেখেছি একটি একক কন্ঠের সমবেত সুর হিসেবে এবং নিত্যদিনকে একটি দীর্ঘ প্রেক্ষাপট হিসেবে। এভাবে আমার চক্ষু এবং কর্ণ কাজ করে। এভাবে আমার সম্পূর্ণ মানসিকতা এবং অব্যক্ত আবেগ সম্পূর্ণভাবে উপলব্ধি করা গিয়েছে। এভাবে আমি একই সঙ্গে একজন লেখক, প্রতিবেদক, সমাজবিজ্ঞানী, মনোবিজ্ঞানী এবং ধর্মপ্রচারক হতে পারি।

১৯৮৩ সালে তিনি তার The Unwomanly Face of the War বইটি শেষ করেন। দুইবছর ধরে এটি প্রেস অফিসে পড়েছিল, প্রকাশ হয়নি। এ্যালেক্সিভিচ বিশ্বজনীন শান্তিবাদ, প্রকৃতিবাদ (ধর্ম বা দর্শনে) এবং সাহসী সোভিয়েত নারীদের গৌরবান্বিত না করার অপরাধে অভিযুক্ত হন। এই ধরনের অভিযোগের অনেক মারাত্মক পরিণতি ছিল ওই দিনগুলোতে। এছাড়া ও ততদিনে তার প্রথম বই I've Left My Village প্রকাশিত হবার পর সোভিয়েত ভাব বিরোধী একজন ভিন্ন মতাবলম্বী সাংবাদিক হিসেবে তার খ্যাতি হয়। সাম্যবাদী দলের বেলারুশিয়ান কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশে এ্যালেক্সিভিচের লিখিত সব পাণ্ডুলিপি ধ্বংস করা হয় এবং তিনি সাম্যবাদবিরোধী ও সরকারবিরোধী হিসেবে অভিযুক্ত হন। তিনি চাকরি হারাবার হুমকিও পান।তারা বলে, তুমি এমন ভিনগ্রহবাসী ধারণা নিয়ে কীভাবে আমাদের ম্যাগাজিনে কাজ করবে? এবং তুমি এখনও কেন সাম্যবাদী দলের সদস্য না?"

কিন্তু মিখাইল গর্বাচেভ ক্ষমতায় এলে দিন পাল্টে গেল এবং পেরেস্ত্রইকা ধারণার সূচনা হলো। ১৯৮৫ সালে তার বই The Unwomanly Face of the War একই সাথে মিনস্কে এবং মস্কোতে প্রকাশিত হয়। পরবর্তী বছরগুলোতে এটি বার বার পুনর্মুদ্রিত হতে থাকে এবং প্রায় ২ মিলিয়নেরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছিল। এই উপন্যাসটি- যেটিকে লেখক নোভেল কোরাস বলেছেন, গঠিত হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অজানা সব বিষয়ে যুদ্ধে নারীদের বক্তব্য নিয়ে। যা প্রকাশিত হবার আগে কোনো যুদ্ধ- লেখক বা জনগণ দ্বারা বর্ণিত ছিল না।

একই বছর তার দ্বিতীয় বই ‘The Last Witnesses:100 Unchildlike stories’ প্রকাশিত হয়। এটিও দীর্ঘদিন অপ্রকাশিত থাকে একই কারণে (শান্তিবাদী মনোভাব, আদর্শগত মর্যাদায় পৌঁছাতে ব্যর্থতা)।এই বইটি ও অনেকবার পুনর্মুদ্রিত হয় এবং বহুসংখ্যক সমালোচকের দ্বারা প্রশংসিত হয়। যারা তার দুইটি বইকেই যুদ্ধ গদ্যের আবিষ্কার হিসেবে বলেছেন। যা নারী ও শিশুদের চোখে দেখা যুদ্ধ অনুভূতির এক নতুন দ্বার উন্মোচন করল।

যুদ্ধের ৪০তম বার্ষিকীতে বিখ্যাত তাগানকা থিয়েটারে ‘The Unwomanly Face of the War’ নাটকের জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। ‘The Omsk Drama Theatre’ তাদের এই কাজের জন্য রাষ্ট্রীয় পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে। নাটকটি ‘The Unwomanly Face of the War’ নামক উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে রচিত যা ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন নাট্যমঞ্চে মঞ্চায়িত হয়েছে। এই উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে ‘Documentary Film ও নির্মিত হয়েছে। এই ফিল্ম রাষ্ট্রীয় পুরস্কারের পাশাপাশি ‘Leipzig Festival of Documentary Films’ এ ‘Silver Dove’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে। এ্যালেক্সিভিচ তার এই সামান্য কাজের জন্য বহুসংখ্যক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

১৯৮৯ সালে সেভেতলানা এ্যালেক্সিভিচ তার বই ‘The Boys in Zinc’ প্রকাশ করেন, যা সোভিয়েত-আফগান ১০ বছর ব্যাপী চলমান যুদ্ধের গোপন ঘটনাপ্রবাহকে সামনে নিয়ে আসে। তিনি তার বইয়ের জন্য তথ্য সংগ্রহ করতে যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সেনা ও অফিসারদের সাথে কথা বলেন এবং ৪ বছর যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্থ বিধবা ও মায়েদের সাথে দেখা করার জন্য আফগানিস্তানের বিভিন্ন যুদ্ধ বিদ্ধস্ত অঞ্চল ভ্রমণ করেন। তার বই পাঠকের মনে একটি কামানের গোলার মতই অজানা কাহিনী সম্বন্ধে বিস্ফোরণ ঘটায় যার দরুণ পাঠক এই বইটি এবং তার লেখিকাকে ভুলতে পারেনি। তার এই বইয়ের বিরুদ্ধে সেনা ও কমিউনিস্ট পত্রিকা ক্রমাগত আক্রমণ করতে থাকে। ১৯৯২ সালে মিনস্কে লেখিকা এবং তার বইয়ের বিরুদ্ধে আদলতে মামলাও হয়। গণতন্ত্রেরপক্ষে পক্ষে অবস্থানকারী জনতা লেখিকার পক্ষ নেওয়ায় তিনি এই যাত্রায় মুক্তি পান। পরবর্তীতে এই বইয়ের উপর ভিত্তি করে রচিত হয় নানবিধ প্রামাণ্য চিত্র ও নাটক।

১৯৯৩ সালে তিনি পরবর্তী বই ‘Enchanted with Death’ প্রকাশ করেন যা পাঠককে জানার সুযোগ করে দেয় সোসালিস্টদের পরাজয়ের পর তাদের মানসিক অবস্থাকে এবং নতুন ভাবে জীবনযাপনের যুদ্ধে সোসালিস্টদের মানসিক পরাজয় এই বইয়ে প্রাধান্য পায়। পরবর্তীতে এই বইয়ের উপর ভিত্তি করে চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়।

১৯৯৭ সালে তিনি তার পরবর্তী বই ‘Chernobyl Prayer : the Chronicles of the Future’ প্রকাশ করেন। যা চেরোনবিল দুর্যোগ নিয়ে রচিত হয়নি বরং এটি রচিত হয়েছিল এই ঘটনার সময়কার এবং পরবর্তী সময়ের মানুষের অবস্থা সম্পর্কে যা উপলব্ধি করা কঠিন। এই ঘটনার পরে মানুষের উপলব্ধিতে যা এসেছিল তা হল মূলত একটি জনগোষ্ঠী তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ তথা পারমাণবিক যুদ্ধের ভয়াবহতা যা সমগ্র মানবজাতিকেই একটি নতুন বার্তা প্রদান করেছে। এই জন্যই বলা যায়, তার বইয়ের নাম ঘটনা প্রবাহের সাথে ছিল পরিপূর্ণ যৌক্তিক।

“যদি তুমি সমগ্র মানব ইতিহাস পর্যালোচনা কর, সোভিয়েত এবং সোভিয়েত পরবর্তী বিশ্ব— তবে তুমি ভুক্তভোগীদের চোখে দেখতে পাবে একটি বিশাল কবর এবং মর্মান্তিক মৃত্যু। সেই অভিশপ্ত রাশিয়ান প্রশ্ন করে : কি হওয়া উচিত এবং কে দোষী। তাদের আন্দোলন, শ্রমশিবির, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ, সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধ, তাদের সাম্রাজ্যের পতন, বিশাল সোসালিস্ট সাম্রাজ্যের ধ্বংস, কল্পরাজ্য এবং সর্বশেষ এই মহাজাগতিক চেরোনবিল দুর্যোগ সব সাধারণ জনতার জ্ঞানের বাইরেই রয়ে গেছে। বর্তমান বিশ্বের এই চ্যালেঞ্জ, এই ইতিহাস সবই হল আমার বইয়ের মূল আলোচ্য বিষয়। মানুষ থেকে মানুষের এই যাত্রাই আমার পথ।”

এ্যালেক্সাভিচের বই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, সুইডেন, ফ্রান্স, চীন, ভিয়েতনাম, বুলগেরিয়া, ভারতসহ ১৯ দেশে প্রকাশ হয়েছে। তার নামে হয়েছে ২১টি প্রামাণ্যচিত্র এবং তিনটি নাটক যা ফ্রান্স, জার্মানি এবং বুলগেরিয়াতে প্রদর্শিত হয়েছে।

এ্যালেক্সাভিচ বহু আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন যার মাঝে কুর্ত তুকুক্সি পুরস্কার ‘Courage and Dignity in Writing’ ‘The Swedish PEN’ আন্দ্রে সিনভস্কি পুরস্কার, রাশিয়ান ‘Triumph’, লিপজিং পুরস্কার ‘The European Mutual Understanding- 1998’, জার্মানির ‘For the Best Political Book’ এবং ‘Herder Prize’।

যে ভিত্তির উপর এ্যালেক্সিভিচের জীবন ও লেখনি পরিচালিত করেন তা হল “আমি সবসময় বুঝার চেষ্টা করি মানুষ তার মাঝে কতটুকু মানবিকতা ধারণ করে, আর আমি ব্যক্তি হিসেবে কতটুকু তা রক্ষা করতে পারি।”

সোভিয়েত পরবর্তী বেলারুশে যে নব্য একনায়কতন্ত্রের উদ্ভব ঘটেছে সেখানে এ্যালেক্সিভিচ তার দর্শন ও স্বাধীনচেতার জন্য গ্রহণযোগ্য ছিলেন না। যদিও তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় একজন বুদ্ধিজীবী।

তিনি তার বইয়ে একজন সোভিয়েত ও সোভিয়েত পরবর্তী ইতিহাস আবেগঘন সাহিত্যিক মানে উন্নীত করতে পেরেছেন। নীতির দিক থেকে তাকে আরেকজন লেভ তলস্টয় না বলে আর উপায় নেই। যে কথাটি তিনি বলেছেন, “মানুষের মাঝে এখনও শিল্পের জন্য বহুকিছু গুপ্ত রয়ে গেছে।”

তার ৫০তম জন্মবার্ষিকীতে দুই খণ্ডের একটি বই বের হয়। বইটির ভূমিকাতে প্রখ্যাত সমালোচক অ্যানিস্কী বলেন, এটি একটি অদ্বিতীয় কর্ম যা সম্ভবত প্রথমবারের মতো রাশিয়া বা সোভিয়েত এবং সোভিয়েত পরবর্তী সংস্কৃতিতে আনা হয়েছে। লেখক সোভিয়েতদের কতিপয় প্রজন্মের জীবনগাঁথা চিহ্নিত করেছেন এবং ৭০ বছরের সমাজতন্ত্রবাদের বাস্তবতা : ১৯১৭ সালের বিপ্লব থেকে গৃহযুদ্ধ, বিখ্যাত Utopia এর বেড়ে ওঠা ও মোহাচ্ছন্নতা, স্ট্যালিনের ভয় প্রদর্শন ও বন্দীশালা ক্যাম্প, স্বদেশী যুদ্ধ এবং সমাজতন্ত্রবাদের পতনের বছর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত। জনগণ এটিকে একটি জীবন্ত ইতিহাস এবং একজন মেধাবী ও সত্য ঘটনাপঞ্জী লেখকের দ্বারা তালিকাবদ্ধ ও বাছাইকৃত বলেছেন।

সূত্র : সেভেতলানা এ্যালেক্সিভিস’র ব্যক্তিগত ওয়েব সাইট