প্রচ্ছদ » স্বাস্থ্য » বিস্তারিত

‘মানসিক রোগীদের অসুবিধার কথা মর্যাদা দিয়ে শুনতে হবে’

২০১৫ অক্টোবর ১০ ১৭:০৮:৪০

ঢাবি প্রতিবেদক : মানসিক অসুস্থতাকে উপেক্ষা না করে সঠিক সময়ে সঠিক সেবা দিতে পারলে একজন মানুষকে সম্পূর্ণরূপে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ।

তিনি বলেন, মানসিক রোগীকে হেয়, অবহেলা, হাসি-তামাশা বা তার মর্যাদাহানি না করে মর্যাদার সঙ্গে তার অসুবিধার কথা শুনতে হবে, তার সমস্যার কারণ বুঝতে হবে।

‘বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০১৫’ উপলক্ষে ঢাবির ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে শনিবার সকালে ‘মানসিক স্বাস্থ্যে মর্যাদাবোধ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. নাসরীন আহমাদ এ সব কথা বলেন।

ঢাবির চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগ, বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটি এবং নাসিরুল্লাহ সাইকোথেরাপি ইউনিট যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে।

ড. নাসরীন আহমাদ বলেন, স্বাস্থ্য বলতে আমরা সাধারণত শুধু মানুষের শারীরিক অবস্থাকে বুঝি, যেগুলো দৃশ্যমান। কিন্তু মানুষের মানসিক অবস্থা দৃশ্যমান নয়। এগুলো একজন মানুষের চারপাশের লোকজন বুঝতে পারেন। শারীরিক অসুস্থার যেমন নিরাময় সম্ভব তেমনি মানসিক অসুস্থতাও নিরাময়যোগ্য।

তিনি বলেন, আমাদের দেশের শহরাঞ্চলের মানুষ এখন মানসিক সমস্যার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিলেও গ্রামগঞ্জের মানুষ এখনো এ ব্যাপারে অসচেতন। তাদের ভেতরে এক ধরনের প্রবণতা কাজ করে যেগুলো তাদের ডাক্তারের পরামর্শ নিতে বাধা তৈরি করে।

ঢাবির উপ-উপাচার্য আরও বলেন, আমরা সাধারণত দেখি একজন মানসিকভাবে অসুস্থ রোগীকে তার পরিবারের লোকজন অন্যদের থেকে আলাদা করে রাখার চেষ্টা করেন। এতে ওই রোগীর মর্যাদাহানি করা হয়, যা তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে বাধা দেয়।

তিনি বলেন, পরিবার ও সমাজে মর্যাদার সঙ্গে বাস করা একজন মানুষের মৌলিক অধিকার। মানসিকভাবে অসুস্থ একজন রোগীর এই মর্যাদা তার পরিবার ও চারপাশের লোকজনকেই নিশ্চিত করতে হবে।

চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ড. নাসরীন আহমাদ বলেন, চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে তোমাদের বিরাট দায়িত্ব রয়েছে। তোমাদে দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে যেতে হবে এবং তোমাদের চারপাশের মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

ঢাবির চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. ঝুনু শামছুন্নাহার, বিশিষ্ট মনোবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. হামিদা আখতার বেগম, ঢাবির জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হক, মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম প্রমুখ। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহানূর হোসেন।

(দ্য রিপোর্ট/কেএইচ/একেএস/এজেড/অক্টোবর ১০, ২০১৫)