প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয় » বিস্তারিত

আঙ্কারার শান্তির সমাবেশে বলি

২০১৫ অক্টোবর ১২ ০০:০২:১৬

তুরস্কের আঙ্কারার শান্তি সমাবেশে দুটি বোমা বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা ১২৮ ছাড়িয়েছে বলে আয়োজকরা দাবি করেছে।

এই ঘটনায় নিহতদের স্মরণে শোক পালনের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষোভও প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা সমাবেশের জন্য দরকারি নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। দেশের মধ্যে সরকারবিরোধী স্লোগান শোনা যাচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও এই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে, তিনি জাতিকে বিভক্ত করে ফেলেছেন।

সংখ্যার বিচারে তুর্কি ছাড়া তুরস্কে কুর্দিদের একটি বড় অংশের বসবাস। স্বাধীন কুর্দিস্তান প্রতিষ্ঠার জন্য সেখানে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে কুর্দিদের একটি অংশ। এটা তুর্কি সরকার সব সময়ই সামরিকভাবে দেখে আসছে। ইরাকে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর সে দেশের কুর্দিরাও স্বাধীন কুর্দি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য কুর্দি এলাকায় নিজেদের শক্তিশালী করেছে। ইরাকে সুন্নি প্রভাবিত আইএসের উত্থানের পর কুর্দিরা তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু করেছে। সেই যুদ্ধে তারা তুরস্কের কুর্দি প্রভাবিত এলাকাকে ব্যবহার করছে। কিন্তু নিজেদের অখণ্ডতার জন্য বিপদ ভেবে তুর্কি সরকার তা করতে দিতে নারাজ। এরই মধ্যে তুর্কি সেনাদের ওপর কয়েক দফা আত্মঘাতী বোমা হামলা এবং তার প্রতিক্রিয়ায় কুর্দি প্রভাবিত এলাকায় তুর্কি সেনাবাহিনীর হামলার বিষয়টি তাজা করে তুলেছে। এমন পরিস্থিতিতে বামপন্থী প্রভাবিত শ্রমিক সংগঠনগুলোর শান্তি সমাবেশ সত্যিই তুরস্কের রাজনীতিকে অনেক বেশি জটিল করে তুলেছিল। তাও যদি সে সমাবেশটি শান্তিপূর্ণ হতে পারত তাহলে হয়তো তুরস্ক সরকার বিষয়টিকে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসার উদ্যোগ নিতে পারত। কিন্তু এই আত্মঘাতী বোমা হামলার পর পুরো বিষয়টিই শেষ পর্যন্ত হয়তো সামরিক সমাধানের দিকে এগিয়ে যাবে। তা ছাড়া তুরস্কের প্রতিবেশী ইরাক ও সিরিয়ায় যেখানে গৃহযুদ্ধ চলছে এবং যে যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া সরাসরি হাজির, সেখানে তুরস্ক কতক্ষণ গা বাঁচিয়ে চলতে পারবে? এই আত্মঘাতী বোমা হামলার পেছনে তুরস্ককে যুদ্ধে নামানোর কোনো পরিকল্পনা কাজ করছে কিনা তা জানতে আমাদের হয়তোবা আরও অনেক দিন অপেক্ষা করতে হবে।