প্রচ্ছদ » বিশেষ সংবাদ » বিস্তারিত

আইন সংশোধনের কথা জানা নেই নির্বাচন কমিশনের

২০১৫ অক্টোবর ১৩ ২১:৪০:৫৬
আইন সংশোধনের কথা জানা নেই নির্বাচন কমিশনের

বাহরাম খান, দ্য রিপোর্ট : স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন। বাংলাদেশে পাঁচ স্তরে চালু থাকা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর (ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন) পাঁচটি আইন সম্প্রতি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে আইন সংশোধনের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের জানা নেই বলে দ্য রিপোর্টকে জানিয়েছেন কমিশনের একাধিক কমিশনার।

সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদের প্রথম দফা অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন সংসদ নির্বাচন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংক্রান্ত চারটি সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করবে। অনুচ্ছেদের দ্বিতীয় দফায় ‘নির্ধারিত দায়িত্বের অতিরিক্ত যে-রূপ দায়িত্ব এই সংবিধান বা অন্যকোনো আইনের দ্বারা নির্ধারিত হইবে, নির্বাচন কমিশন সেই-রূপ দায়িত্ব পালন করিবে’ বলেও উল্লেখ রয়েছে। বিদ্যমান স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের ওপর রয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধন আইনেও এর ব্যত্যয় ঘটছে না।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের কাছে প্রস্তাবিত এই (সংশোধন) আইন সম্পর্কে জানতে চাইলে দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমের কাছে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজী হননি। তিনি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে জানাতে হলে আমি আপনাদের (সাংবাদিকদের) আমন্ত্রণ জানিয়ে কথা বলব।’ অবশ্য, তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য প্রয়োজন হলে অন্য নির্বাচন কমিশনার কিংবা কমিশন সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

কমিশনের অন্যতম নির্বাচন কমিশনার ও আইন বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ আব্দুল মোবারক দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘নতুন আইনে কী লেখা হবে এই বিষয়ে সরকার নির্বাচন কমিশনে কোনো কিছু জিজ্ঞেস করেনি। নির্বাচন কমিশনও এই বিষয়ে সরকারকে কিছু বলেনি। শাসক দলের কারোর সঙ্গেও আলোচনা হয়নি।’

‘আমরা নিজেরাও (কমিশনে) কোনো আলোচনা করিনি। এই ব্যাপারে আমরা মোটেই সম্পৃক্ত না, তবে দায়িত্ব এলে পালন করে দিব’ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘নতুন আইন পাস হলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য যে নির্বাচনী বিধিমালা আছে সেগুলো পরিবর্তন করতে হবে। তবে, এটা খুব কঠিন হবে না।’

সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইনের অভিমত, ‘এই সিদ্ধান্তটা বাস্তবতার নিরিখে নেওয়া হয়েছে বলে মনে করি। এর আগের নির্বাচনগুলোতে দলীয় প্রতীকে শুধু নির্বাচন হয়নি। বাকী সব কিছু কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের কর্তৃত্ব ঠিক রেখেছে।’

‘কিন্তু এই সুযোগটাকে যাতে অপব্যবহার করা না হয় সেই দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে’ উল্লেখ করে ছহুল হোসাইন বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যেহেতু নির্বাচন বাস্তবায়কারী প্রতিষ্ঠান সেদিক থেকে এই বিষয়ে সরকার কমিশনের মতামত নিলে নিতেও পারত। কিন্তু নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়ে সরকার যেকোনো সিদ্ধান্ত নিজে থেকে নিতে পারে।’

ছহুল হোসাইন বলেন, ‘আইন হওয়ার পর নির্বাচনী বিধিমালা ও আচরণ বিধিমালা যেহেতু নির্বাচন কমিশনকেই প্রণয়ন করতে হবে সেদিক থেকে তাদের অভিমত দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।’

ছহুল হোসাইন আরও বলেন, “আগে দলের বাইরে যাওয়া প্রার্থীদের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে অভিহিত করা হতো। এখন হয়ত তারা ‘স্বতন্ত্র বিদ্রোহী’ হিসেবে অভিহিত হবে।”

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জাবেদ আলী দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘আমরাও আপনাদের মতো শুনতে পাচ্ছি, খবরে দেখতে পাচ্ছি। আইন আমাদের হাতে আসার আগ পর্যন্ত কিছু বলতে পারছি না। আইন কখন চূড়ান্ত হবে, কখন আমাদের কাছে আসবে সেটা তো আমরা জানি না। তাই আইন হাতে পেলেই আমাদের কাজ নিজে কথা বলব।’

(দ্য রিপোর্ট/বিকে/আইজেকে/সা/অক্টোবর ১৩, ২০১৫)