প্রচ্ছদ » শিল্প ও সংস্কৃতি » বিস্তারিত

জাদুঘরে কর্নাটকের যক্ষগান

২০১৫ অক্টোবর ১৩ ২২:৫৩:২৪
জাদুঘরে কর্নাটকের যক্ষগান

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : পিতা রামচন্দ্রের সঙ্গে দুই যমজ বালক লব-কুশের এ মিলনের দৃশ্য দেখা গেলো মঙ্গলবার সন্ধ্যায়। জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে দক্ষিণ ভারতের কর্নাটক অঞ্চলের ‘যক্ষগান লোকনাট্যদল’ নূপুরের ঝংকারের সঙ্গে পিতা আর পুত্রের মিলনকে সবার সামনে তুলে আনে। প্রায় দেড় ঘণ্টার মনোমুগ্ধকর এ নৃত্যশৈলীর নাম যক্ষগান। যার আয়োজন করে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব কালচারাল রিলেশন (আইসিসিআর)। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলো ইন্ধিরা গান্ধী কালচালার সেন্টার।

বন ও পরিবেশমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু প্রধান অতিথি হিসেবে মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বলন করে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। সম্মানিক অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইন্ধিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের পরিচালক জয়শ্রী কুন্ডু।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘পৃথিবী জুড়ে পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে দূরত্বের যে সম্পর্ক দেখেছি, সেই পুরনো ধারণার মধ্য থেকে ফিরে আসতে হবে। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে হারানোর কিছুই নেই। এ ধরনের আয়োজন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে। দুই দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য জানতে ও বুঝতে সাধারণ মানুষকে সহযোগিতা করবে।’

পঙ্কজ শরণ বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক বিনিময় হচ্ছে। ভারতের প্রচুর শিল্পী এখানে আসছেন, বাংলাদেশের শিল্পীরাও যাচ্ছেন। তবে তা সংখ্যায় কম। বাংলাদেশের শিল্পীদের পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও যেতে হবে। তাহলে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।’

সঙ্গীত, সাহিত্য, নৃত্য, অভিনয়, সংলাপ, অঙ্গসজ্জ্বা- সব মিলিয়ে শিল্পকলার প্রতিটি অংশই উপস্থিত ছিলো যক্ষগান লোকনাট্যদলের এ আয়োজনে। মহাভারত ও রামায়ণের কাহিনী অবলম্বনে যক্ষগান পরিবেশিত হয়ে থাকে। এ শিল্পরূপ পশ্চিমা অপেরার সঙ্গে তুলনীয়।

মঙ্গলবার সন্ধ্যার আয়োজনটি ছিলো রামায়ণের একটি অংশের সারসংক্ষেপ। যার মাধ্যমে পিতা রামচন্দ্রের সঙ্গে দুই যমজ পুত্র লব ও কুশের যেমন মিলন ঘটেছে, তেমনি সীতাদেবী ফিরে পেয়েছিলেন স্বামীকে। লোকনাট্যটিতে চরিত্র রূপায়ণকারীরা জমকালো পোশাকের সঙ্গে মাথায় পরেন শিরোস্ত্রাণ। মুখে ছিল চড়া সাজসজ্জা। আর মুখাবয়ব নানা রঙে রঞ্জিত। নূপুরের ছন্দের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চোখের চাহনিতে তারা তুলে আনেন বিভিন্ন অভিব্যক্তি। যা মুগ্ধ করে উপস্থিত দর্শকদের।

মোট আট সদস্যের দল এ পরিবেশনায় অংশ নেয়। যার নেতৃত্ব দেন নাগরাজ যোশী। তিনি গত সাড়ে তিন দশক তার গানের দল ‘শবর’- এর মাধ্যমে কয়েকশ যক্ষগানের আয়োজন করেছেন।

এর আগে সোমবার এ লোকনাট্যটি পরিবেশিত হয় চট্টগ্রামে। চলতি সপ্তাহে দলটি সাতক্ষীরা ও খুলনা সফর করবে বলে জানান আয়োজকরা।

(দ্য রিপোর্ট/এমএ/এপি/এনআই/অক্টোবর ১৩, ২০১৫)