প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয় » বিস্তারিত

স্থানীয় সরকারে দল

২০১৫ অক্টোবর ১৪ ০০:০৯:১০

এখন থেকে সব ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে দলীয় প্রতীক ও দলীয় মনোনয়নের ভিত্তিতে। গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। দলীয় মনোনয়নের বাইরে স্বতন্ত্রভাবেও নির্বাচন করা যাবে। দলীয় প্রার্থিতা যারা চাইবেন তারা স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী হতে পারবেন না। একই সঙ্গে বিধান রাখা হয়েছে প্রশাসক নিয়োগের। অর্থাৎ দৈবদুর্বিপাকে বা অন্য কোনো কারণে এ স্তরে যে সব জায়গায় সময়মতো নির্বাচন করা সম্ভব হবে না সে সব জায়গায় পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত সরকার প্রশাসক নিয়োগ করে কাজ চালাবে। এতদিন এ বিধানটি সিটি করপোরেশন ও নতুন পৌরসভার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল। নতুন আইনে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দল স্থানীয় সরকারে প্রার্থী দিতে পারবে। স্থানীয় সরকার বলতে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনকে বোঝাবে।

স্থানীয় সরকারের নতুন বিধান নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই সরকারের মধ্যে কথাবার্তা চলছিল। কিন্তু সরকার যে এত দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেবে এটা নিয়ে সন্দেহ ছিল। বলা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছার কারণেই মন্ত্রিসভায় দ্রুতই আইনটি পাস হল। কারণ দেখা যায়, এই ধরনের মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সরকার অনেক সময় বিলটিকে জনমত যাচাইয়ের ব্যবস্থা নেয়। অবশ্য স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মন্ত্রিসভায় বিলটি পাস হওয়ার পর স্পষ্টত বলেছেন, এ সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক ও সাহসী পদক্ষেপ।

সামনেই পৌরসভা ও ইউনিয়ন কাউন্সিল নির্বাচন থাকায় আইনটি সত্বরই প্রয়োগ হতে চলেছে। অর্থাৎ আইনটি কতটা গণমুখী হবে তা সামনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এক দফা যাচাই হয়ে যাবে। সংসদের বাইরে থাকা অন্যতম বিরোধী দল বিএনপি বিলটির বিরোধিতা করলেও তারা সামনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা, তা জানা যায়নি। তবে দলটি যে এই নির্বাচন নিয়ে এক ধরনের চাপে পড়বে এটা বোঝাই যায়। তবে আমাদের মনে হয়, বিলটি পাসের কারণে সরকারি দলকেই বেশি ঝামেলা পোহাতে হবে। কারণ যারা দলীয় নির্বাচনে প্রার্থিতা চেয়েও পাবেন না তারা আর নির্বাচন করতে পারবেন না। এই আইন কার্যকর কীভাবে হবে আমরা জানি না। তবে আমাদের ধারণা, এ সব ক্ষেত্রে ওই সব ব্যক্তির বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। যাই হোক, আইনটির ফলাফল দেখার জন্য আমাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।