প্রচ্ছদ » জাতীয় » বিস্তারিত

কপিরাইট অফিস সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখার দাবি

২০১৫ অক্টোবর ১৪ ১৫:২৯:৫৭
কপিরাইট অফিস সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখার দাবি

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : সরকারের কাছে কপিরাইট অফিস সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশের সংস্কৃতিকর্মী, সংস্কৃতিমনা ও সংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনী মিলনায়তনে বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ দাবি জানানো হয়।

বাংলাদেশ কপিরাইট এ্যান্ড আইপি ফোরাম, বাংলাদেশ মিউজিক্যাল ব্যান্ড এ্যাসোসিয়েশন (বামবা), মিউজিক ওনার্স এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমআইবি), বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতি এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির যৌথ উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) মহাব্যবস্থাপক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘কপিরাইট আইন আছে, তবে এ আইনের লংঙ্ঘন বেশি। কপিরাইট অফিস সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক করার চেষ্টা এক ধরনের রাজনীতির ফসল। কপিরাইট অফিস ও আইন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকাই যৌক্তিক।’

কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন তার লিখিত বক্তব্যে জানান, ‘সম্প্রতি কপিরাইট অফিস শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে শুনে আমি আশাহত। সংস্কৃতিধর্মী সকল সৃষ্টিশীল কাজের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কপিরাইট অফিসটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে রেখেই এর উন্নয়ন ঘটানো প্রয়োজন বলে আমি বিশ্বাস করি।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বব্যাপী সংস্কৃতিধর্মী সৃজনশীল কর্ম কপিরাইটের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে কপিরাইট অফিস সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে সেবা দিয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি কিছু ব্যক্তি কপিরাইট অফিসকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা করে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে ডিপার্টমেন্ট অব পেটেন্ট, ডিজাইন এ্যান্ড ট্রেডমার্কের (ডিপিডিটি) সঙ্গে একীভূত করার জন্য সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছে। কপিরাইট অফিস এবং কপিরাইট আইনের আওতাধীন বিষয়বস্তু যেমন সংগীত, সাহিত্যকর্ম, চলচ্চিত্র, কলা, আলোকচিত্র সমূহ সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যেহেতু এগুলো একে অপরের পরিপূরক, সেহেতু কপিরাইট অফিস এবং এর আওতাধীন বিষয়বস্তু সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকাই জুতসই।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে কপিরাইট অফিস পৃথক করে ডিপিডিটি’র সঙ্গে যুক্ত করা হলে বিষয়টি আইনানুগ হবে না এবং পরবর্তী সমেয় আইনি জটিলতা দেখা দেবে। বিশ্বের ১২০টির বেশি দেশে কপিরাইট অফিস সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মিউজিক্যাল ব্যান্ড এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শিল্পী হামিন আহমেদ, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক খোরশেদ আলম খশরু, মিউজিক্যাল অনার্স এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আরিফুর রহমান, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহাসচিব মুশফিকুর রহমান গুলজার, বাংলাদেশ কপিরাইট এ্যান্ড আইপি ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ব্যারিস্টার এ বি এম হামিদুল মিজবাহ, শিল্পী এন্ড্রু কিশোর, সুজিত মোস্তফা প্রমুখ।

(দ্য রিপোর্ট/এইচবিএস/এসবি/এমএআর/আরকে/অক্টোবর ১৪, ২০১৫)