প্রচ্ছদ » বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি » বিস্তারিত

গ্রামীণফোনে বিরক্ত শাহরিয়ার আলম ও তারানা হালিম

২০১৫ অক্টোবর ১৪ ২০:৪১:০৫
গ্রামীণফোনে বিরক্ত শাহরিয়ার আলম ও তারানা হালিম

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : মোবাইল কোম্পানি গ্রামীণফোনের (জিপি) সেবার মান নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বুধবার বিকেলে তার ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘জিপি’র সমস্যাটা কি? কল করা যাচ্ছে না, কল ড্রপ হচ্ছে। মাস দুয়েক আগে কল ড্রপের জন্য তারা ফিরতি এসএমএস দিয়ে এর কৈফিয়ত দিত। এখন আর তাও দেয় না। আড়ানিতে (প্রতিমন্ত্রীর নিজ এলাকা রাজশাহীর আড়ানির বাসা) নেটওয়ার্ক খুবই দুর্বল। বাসায় দ্বিতীয় তলায় আমার শয়নকক্ষে নেটওয়ার্ক খুবই দুর্বল। অথচ আমার বাসার আশপাশে এমন কোনো বড় বিল্ডিং নেই যে নেটওয়ার্ক বাধাগ্রস্ত হতে পারে। দুই বছর আগে তাদের (সেবার মান বাড়াতে) এ সব বিষয় সমাধানে অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু, এর কোনো উন্নতি হয়নি।’

শাহরিয়ার আলমের ফেসবুকে এমন স্ট্যাটাসের পর তার টাইমলাইনে ডাক তার ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট তারানা হালিম লেখেন- ‘আমি বার বার তাদের (জিপি) কল ড্রপসহ অন্যান্য সেবার মান বাড়াতে বলেছি। এমনকি টেলিনরকেও এ বিষয়ে জানিয়েছি। আমার মনে হচ্ছে তারা ভালমানের সেবা দেওয়ার চাইতে অর্থ উপার্জনকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তারা আমাদের মূল্যবান উন্নয়ন অংশীদার। তাই তাদের আচরণ সেভাবেই হওয়া উচিত।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গ্রামীণফোনের (জিপি) সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে এ ধরনের ফেসবুক স্ট্যাটাস দেওয়ার ৫ ঘণ্টার মধ্যে তার টাইমলাইনে প্রায় অর্ধশতজন বিভিন্ন মন্তব্য করেন। তার এই স্ট্যাটাসটি শেয়ার করেন ৪৮ জন। আর এতে লাইক দিয়েছেন আড়াই হাজারেরও বেশিজন।

পারভেজ রনি নামের একজন লেখেন, জিপি হচ্ছে ডাকাত। তারা অন্যান্য মোবাইল কোম্পানির চাইতে অনেক বেশি টাকা কাটে। জিপির বিরুদ্ধে আমাদের সরকারের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এ ছাড়া টেলিটক এখন উন্নত (সেবা) হয়েছে। আমি এখন টেলিটক ব্যবহার করছি।আপনি (শাহরিয়ার আলম) এবং দেশের জনগণের টেলিটক ব্যবহার করা উচিত।

সাজেদুর রহমান সুমন নামে একজন লেখেন, ‘সবচেয়ে ডাকাত কোম্পানি গ্রামীণফোন। এই কোম্পানি কখনই গ্রাহকের কথা চিন্তা করে না। সেটা তাদের অফারগুলো দেখলেই বোঝা যায়। আর অফারগুলো গ্রহণ করলে কোনো কাজে আসে না।’

সিদ্দিকুর রহমান নামে একজন লিখেছেন, ‘আর বলবেন না। এতদিন কল ড্রপের মধ্যে ছিলাম। এখন আবার ইনটারনেট ড্রপের কাজ শুরু করেছে গ্রামীণফোন অপারেটর। শুনেছি এতেও নাকি অনেক আয় করে গ্রামীণফোন। কিন্তু গ্রাহকসেবার দিকে কোনো নজর নাই।’

শাখাওয়াত হোসেন নামে একজন লেখেন ‘দেশের সর্ববৃহৎ মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানি গ্রামীণফোনের মোটা অংকের রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর স্ট্যাটাস প্রসঙ্গে গ্রামীণফোনের বক্তব্য চাওয়া হয়। গ্রামীণফোনের পক্ষে বলা হয়- মাননীয় মন্ত্রীর সমস্যাগুলো আমরা গুরুত্বসহকারে নোট করেছি। সেগুলো আমরা সমাধানের চেষ্টা করছি। আমারা যে কোনো নেটওয়ার্ককেই গুরুত্বসহকারে নেই। ঢাকাসহ সারাদেশে থ্রিজি নেটওয়ার্ক উন্নয়নের জন্য কাজ করা হচ্ছে। এ জন্য প্রচুর বিনিয়োগ করা হয়েছে।

(দ্য রিপোর্ট/কেএ/এমডি/এজেড/অক্টোবর ১৪, ২০১৫)