প্রচ্ছদ » বিশেষ সংবাদ » বিস্তারিত

জাহাঙ্গীর আলম

দ্য রিপোর্ট

এখনো পলাতক বিশ্বজিৎ ও জুবায়ের হত্যার দণ্ডপ্রাপ্ত ১৮ আসামি

২০১৫ অক্টোবর ১৪ ২১:০৫:৪৪
এখনো পলাতক বিশ্বজিৎ ও জুবায়ের হত্যার দণ্ডপ্রাপ্ত ১৮ আসামি

রায় ঘোষণার পরও বহুল আলোচিত বিশ্বজিৎ দাস ও জুবায়ের আহমেদ হত্যার দণ্ডপ্রাপ্ত ১৮ পলাতক আসামিকে এখনো ধরতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এদের মধ্যে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ছয় ও যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ১২ জন আসামি রয়েছেন।

রায় ঘোষণার পর তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। তবে তাদের গ্রেফতার করতে না পারায় ওই দুই হত্যা মামলার রায়ের বাস্তবায়ন করা এখনো সম্ভব হয়নি। এদিকে আসামিদের গ্রেফতার করতে না পারায় হতাশায় ভুগছেন নিহতদের পরিবার।

ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু দ্য রিপোর্টকে এ বিষয়ে বলেন, ‘মামলা দু’টির রায় ঘোষণার পর পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। পুলিশ আসামি ধরার ব্যাপারে তৎপর রয়েছে। তবে আসামিদের ধরতে পুলিশকে আরও তৎপর হতে হবে। পুলিশ আরও বেশী তৎপর হলে পলাতক আসামিদের খুব দ্রুত গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।’

নিহত বিশ্বজিতের ভাই উত্তম কুমার দাস দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘পুলিশ পারে না এমন কাজ নেই। পুলিশ একটু তৎপর হলে পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করতে পারে। আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের বিচার চাই। পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করে দ্রুত রায় বাস্তবায়ন করার দাবি জানাই সরকারের কাছে।’

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘পলাতক আসামিদের ধরার বিষয়ে পুলিশ তৎপর রয়েছে। তাদের দেখা মাত্রই গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি খুব শীগ্রই তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।’

বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার রায় থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় ৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৩ জনকে যাবজ্জীবন প্রদান করেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪। এদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২ জন এবং যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত ১১ জন পলাতক।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— রফিকুল ওরফে শাকিল, রাজন তালুকদার (পলাতক), মাহফুজুর রহমান ওরফে নাহিদ, ইমদাদুল হক ওরফে এমদাদ, জি এম রাশেদুজ্জামান ওরফে শাওন, মীর মোহাম্মদ নূরে আলম ওরফে লিমন (পলাতক), সাইফুল ইসলাম ওরফে সাইফুল, কাইয়ূম মিয়া ওরফে টিপু।

যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— খন্দকার মো. ইউনুস আলী ওরফে ইউনুস (পলাতক), তারিক বিন জহুর ওরফে তমাল (পলাতক), গোলাম মোস্তফা ওরফে মোস্তফা, মো আলাউদ্দিন (পলাতক), মো ওবায়দুল কাদের ওরফে তাহসিন (পলাতক), ইমরান হোসেন ওরফে ইমরান (পলাতক) আজিজুর রহমান ওরফে আজিজ (পলাতক), আল-আমিন শেখ (পলাতক), রফিকুল ইসলাম (পলাতক), এ এইচ এম কিবরিয়া, মনিরুল হক ওরফে পাভেল (পলাতক), মোহম্মদ কামরুল হাসান (পলাতক) ও মোশাররফ হোসেন ওরফে মোশারফ (পলাতক)।

২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর বিরোধী দলের অবরোধ-কর্মসূচি চলাকালে বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে পথচারী বিশ্বজিৎ দাসকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কর্মীরা নির্মমভাবে কুপিয়ে জখম করলে তাকে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। হত্যার ঘটনায় ওই রাতে সূত্রাপুর থানায় মামলা করে পুলিশ।

জুবায়ের হত্যা মামলার রায় থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জুবায়ের হত্যা মামলায় ৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৬ জনের যাবজ্জীবন প্রদান করেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪। এদের মধ্যে ৪ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত ১ আসামি পলাতক রয়েছে।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— খন্দকার আশিকুল ইসলাম (পলাতক), খান মোহাম্মদ রইস (পলাতক), রাশেদুল ইসলাম রাজু, মাহবুব আকরাম (পলাতক) ও জাহিদ হাসান (পলাতক)।

যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— শফিউল আলম সেতু, অভিনন্দন কুণ্ডু অভি, নাজমুস সাকিব তপু, ইসতিয়াক মেহবুব অরূপ (পলাতক), মাজহারুল ইসলাম ও কামরুজ্জামান সোহাগ।

২০১২ সালের ৮ জানুয়ারি বিকেলে জুবায়েরকে প্রতিপক্ষ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কুপিয়ে জখম করে। পরদিন ভোরে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদী হয়ে ঘটনার পরদিন আশুলিয়া থানায় ১৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

জুবায়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আবাসিক হলের ছাত্র ছিলেন। তার বাড়ি পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়ায়।

নিহত জুবায়েরের ভাই এ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘পুলিশ দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের ধরার বিষয় তৎপর না। পুলিশ ইচ্ছা করলে তাদের ধরতে পারে। রায় হওয়ার পর পলাতক আসামিদের না ধরায় আমাদের পরিবার হতাশ। আমাদের পরিবারের পক্ষে থেকে সরকারের কাছে দাবি, পলাতক আসামিদের ধরে দ্রুত জুবায়ের হত্যা মামলার রায়টি বাস্তবায়ন করা।’

(দ্য রিপোর্ট/জেএ/এএসটি/আইজেকে/সা/অক্টোবর ১৩, ২০১৫)