প্রচ্ছদ » এই দিনে » বিস্তারিত

এপিজে আব্দুল কালাম

২০১৫ অক্টোবর ১৪ ২৩:৫৫:৫২
এপিজে আব্দুল কালাম

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক : বিজ্ঞানী ও ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজে আব্দুল কালাম ১৯৩১ সালের এ দিনে (১৫ অক্টোবর) তামিলনাড়ু রাজ্যের রামেশ্বরমে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কর্মজীবন শুরু করেছিলেন বিজ্ঞানী হিসেবে, পরে ঘটনাচক্রে রাজনীতিবিদে পরিণত হন।

তার পুরো নাম আবুল পাকির জয়নুল-আবেদিন আব্দুল কালাম। তার বাবা জয়নুল আবেদিন ছিলেন নৌকার মালিক ও মায়ের নাম অশিয়াম্মা। তার বাবা রামেশ্বরম ও অধুনাবিলুপ্ত ধনুষ্কোডির মধ্যে হিন্দু তীর্থযাত্রীদের নৌকায় পারাপার করতেন। অল্প বয়সেই পরিবারের ভরণপোষণের জন্য আব্দুল কালামকে কাজ করতে হয়। সে সময় তিনি সংবাদপত্রে লেখালিখি শুরু করেন। আবার সাধারণ মানের ছাত্র হলেও ছিলেন বুদ্ধিদীপ্ত ও কঠোর পরিশ্রমী। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন ও অঙ্ক কষতেন। রামনাথপুরম স্কোয়ার্টজ ম্যাট্রিকুলেশন স্কুল থেকে তিনি মাধ্যমিক পড়াশোনা শেষ করেন। তিরুচিরাপল্লির সেন্ট জোসেফস কলেজ থেকে ১৯৫৪ সালে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক হন।

পাঠক্রমের শেষের দিকে তিনি পদার্থবিদ্যায় উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন। ১৯৫৫ সালে আব্দুল কালাম চেন্নাই চলে আসেন। এখানকার মাদ্রাজ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে বিমান প্রযুক্তি নিয়ে পড়েন। তবে অল্পের জন্য যোদ্ধা পাইলট হওয়ার সুযোগ হারান। ওই সময়ে ভারতীয় বিমানবাহিনীর আটজন কর্মীর দরকার ছিল। আব্দুল কালাম পরীক্ষায় নবম হয়েছিলেন।

এরপর চল্লিশ বছর তিনি প্রধানত ডিফেন্স রিসার্চ এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও) ও ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশনে (ইসরো) বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞান প্রশাসক হিসেবে কাজ করেন। ভারতের অসামরিক মহাকাশ কর্মসূচি ও সামরিক সুসংহত নিয়ন্ত্রিত ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচির সঙ্গে তিনি অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত ছিলেন। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও মহাকাশযানবাহী রকেট উন্নয়নে অবদানের জন্য তাকে ‘মিশাইল ম্যান অব ইন্ডিয়া’ বলা হয়। ১৯৯৮ সালে ‘পোখরান-দুই’ পরমাণু বোমা পরীক্ষায় তিনি প্রধান সাংগঠনিক, প্রযুক্তিগত ও রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করেন। এটি ছিল ১৯৭৪ সালে ‘স্মাইলিং বুদ্ধ’ নামে পরিচিত প্রথম পরমাণু বোমা পরীক্ষার পর দ্বিতীয় পরমাণু বোমা পরীক্ষা।

২০০২ সালে আব্দুল কালাম তৎকালীন শাসকদল ভারতীয় জনতা পার্টি ও বিরোধী দল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সমর্থনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। পাঁচ বছর তিনি ওই পদে আসীন ছিলেন। ভারতের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ভারতরত্নসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সম্মান ও পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি।

২০১৫ সালের ২৭ জুলাই মেঘালয়ের শিলংয়ে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট নামক প্রতিষ্ঠানে বসবাসযোগ্য পৃথিবী বিষয়ে বক্তব্য রাখার সময় তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন। পরে হাসপাতালে মারা যান।

উইকিপিডিয়া অবলম্বনে।

(দ্য রিপোর্ট/ডব্লিউএস/সিজি/এনআই/অক্টোবর ১৫, ২০১৫)