প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয় » বিস্তারিত

বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে কমিশন

২০১৫ অক্টোবর ১৫ ০০:১৫:০৮

বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগে সরকার নতুন নিয়োগ কমিশন গঠন করতে চলেছে। এই কমিশন হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়োগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা পরিষদ তাদের ক্ষমতা হারাবে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম দূর করতে এবং শিক্ষক নিয়োগে জাতীয় নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্যই এই কমিশন গঠন করা হচ্ছে বলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানিয়েছেন। এই কমিশন গঠন হলে বর্তমান বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ বাতিল হয়ে যাবে। মন্ত্রীর দাবি, নতুন কমিশন গঠন করতে সরকার বেশি সময় নেবে না।

চলমান পদ্ধতিতে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে যে সব অভিযোগ রয়েছে মন্ত্রী তা মেনে নিয়েছেন। মন্ত্রী বলতে দ্বিধা করেননি যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় বর্তমান কমিটিগুলোতে ক্ষমতাসীনদের দাপট রয়েছে। তারা শিক্ষক নিয়োগে আর্থিক লেনদেন করছে। সরকারে থেকে একজন মন্ত্রীর এ ধরনের স্বীকারোক্তি সাধুবাদ পাওয়ার দাবি রাখে এবং যে কারণ দেখিয়ে সরকার বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ কমিশন করতে যাচ্ছে তা যদি আংশিকও অর্জিত হয় তাহলে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির রাশ অনেকখানি টেনে ধরা যাবে বলে আমরা আশা করতে পারি।

মাননীয় মন্ত্রী বাহাদুর যেহেতু জানেন এবং সরলভাবে স্বীকারও করেছেন যে, শিক্ষক নিয়োগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পরিষদগুলো দুর্নীতি করে থাকে, সে কারণে আমরা মনে করি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার পর তাদের এমপিওভুক্ত করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যে ধরনের দুর্নীতি হয় মাননীয় মন্ত্রী সে ব্যাপারেও ওয়াকিবহাল। মন্ত্রী নিশ্চয়ই জানেন যে, শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অন্যতম কারণ শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করার জন্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতিগ্রস্ততা। নতুন কমিশন গঠন হলে এই দুর্নীতি থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে মুক্ত রাখা যাবে কি-না সে প্রশ্ন থেকেই যাবে। তা ছাড়া শেষ পর্যন্ত যদি নিয়োগের ব্যাপারে উপজেলা পর্যায়ে কারও হাতে ক্ষমতা থাকে তা হলেও দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যাই হোক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতে শিক্ষাদানে উপযুক্ত প্রকৃত মেধাবীরা নিয়োগ পেতে পারে সেটাই জাতি দেখতে চায়।