প্রচ্ছদ » জাতীয় » বিস্তারিত

হিজরী বর্ষ ১৪৩৭ শুরু

২০১৫ অক্টোবর ১৫ ০১:৩৫:০১
হিজরী বর্ষ ১৪৩৭ শুরু

এ.কে. এম মহিউদ্দীন, দ্য রিপোর্ট : পহেলা মহররম বৃহস্পতিবার, হিজরী বর্ষ ১৪৩৭ শুরু হলো। আহলান ওয়া সাহ্‌লান সানায়ুল জাদিদ।

চন্দ্রের হিসাব-নিকাশে এই সন গণনা করা হয়। মুসলিম উম্মাহ্‌র অস্তিত্বের সাথে এ সনের গভীর সম্পর্ক। যেদিনটাতে ইসলামের নবী মানবতার কাণ্ডারী রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করেছিলেন সেই দিনটিকে স্মরণযোগ্যতায় হিজরী সনের প্রবর্তন। এই সনের প্রচলন শুরু হয় দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর ইবনুল খাত্তাব(রা.)-এর সময়ে। তবে এর সাথে জড়িয়ে আছে ইসলামের চতুর্থ খলিফা হজরত আলী ইবন আবু তালিব (রা.)-এর নামটিও। মুসলমানদের সকল ধর্মীয় উৎসব, আনুষ্ঠানিক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতসমূহ হিজরী সনের অনুসরণে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

ইসলামী হিজরী বর্ষ গণনার প্রেক্ষাপট :এই সন প্রচলনের প্রকৃত তথ্যটি অনেকেরই জানার বাইরে। এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সূত্র হিসাবে আল্লামা আবুল হাসান আলী হাসান নাদভীর ‘আলী মুর্তাজা’ আকরগ্রন্থটি আমরা বেছে নিয়েছি। এখানে লেখক বলছেন, ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহ্‌র অস্তিত্ব যতদিন পৃথিবীর বুকে বিদ্যমান থাকবে ততদিন হজরত আলী (রা.)-এর একটি কীর্তি ও স্মৃতি অমর হয়ে থাকবে। হজরত উমর (রা.)-এর জমানায় দিন তারিখ ও বর্ষ গণনার বিষয়ে মানুষের মাঝে মতভেদ দেখা দিলো। একদল পারসিকের রাজ পরিবারকেন্দ্রিক বর্ষ গণনার অনুরূপ কিংবা রোমকদের বর্ষ গণনার অনুরূপ বর্ষ গণনা শুরু করতে চাইলো। অন্যদল বললো, রাসূল (সা.)-এর জন্মলাভ বা নবুয়াতপ্রাপ্তিকে কেন্দ্র করে বর্ষ গণনা শুরু করো। কিন্তু আলী (রা.) পরামর্শ দিলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মক্কা থেকে মদীনায় হিজরতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্ষ গণনা করা হোক। হজরত উমর (রা.) ও অন্যান্য সাহাবা কেরাম এ মতামত পছন্দ করলেন এবং হিজরতের ঘটনা থেকে বর্ষ গণনার আদেশ জারি করলেন।(আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৭ম খণ্ড, পৃ.৭৪)।

এ ছাড়া বলা হয়েছে, এভাবে ইসলামী বর্ষপঞ্জিকে কোনো ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিবর্তে হোক না তা স্বয়ং নবী (সা.)-এর সুমহান ব্যক্তিত্ব, যা আল্লাহ্ ও আল্লাহ্‌র বান্দাদের নিকট মানব সমাজের মাঝে প্রিয়তম ব্যক্তিত্ব-এবং যুদ্ধ ও বিজয়ের কোনো ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার পরিবর্তে এমন একটি বড় ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে যার রয়েছে নিজস্ব ভাব ও মর্মবাণী এবং নিজস্ব চেতনা ও দিকনির্দেশনা।

বস্তুত, হিজরতের সঙ্গে ইসলামী বর্ষপঞ্জির সংযোগের নিগুঢ় তত্ত্ব ও মর্ম এই যে, এর ফলে ইসলামী বর্ষপঞ্জি দাওয়াত ও রিসালাতের এক সুস্পষ্ট ও স্থায়ী ছাপ গ্রহণ করেছে। ফলে মুসলমানদের নিকট এবং সকল চিন্তাশীল মানুষের নিকট এ সত্য দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট হয়ে যাবে যে, ঈমান, আকীদা ও বিশ্বাসই হলো ইজ্জত ও মর্যাদার উৎস এবং উন্নতি ও অগ্রগতির সূচক। এবং স্বদেশের ও স্বজনদের সকল প্রীতি বন্ধন এবং অভ্যস্ত জীবনের সকল আকর্ষণ হতে ঈমান ও আকিদার দাবি অনেক বড়। তাছাড়া তাতে গোটা বিশ্ব মানবতার জন্য নিহিত ছিল একটি শুভ ইঙ্গিত। কেননা হিজরতের মহান ঘটনা ছিল মানব জাতির ইতিহাসে এবং মানব সভ্যতার যাত্রা পথে এক নব যুগের সূচনা। বিশ্বাস ও আদর্শের প্রতি অবিচল থাকার এবং বিপদসংকুল ও সংগ্রামমুখর জীবনে সর্বোচ্চ ত্যাগ ও কুরবানি পেশ করার অনুপ্রেরণা লাভের এক অফুরন্ত উৎস।

প্রসঙ্গত, পহেলা মহররম মুসলিম উম্মাহ্‌র জন্য একটি ট্রাজিক দিবসও বটে! এদিন অর্থাৎ ২৪ হিজরীর ১ মহররম শনিবার ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর ইবনুল খাত্তাবকে (রা.) সমাধিস্থ করা হয়। সৈয়দ আমীর আলী তার আরব জাতির ইতিহাস গ্রন্থে এ সম্পর্কে বলেন, ইসলামের জন্য হজরত উমর (রা.)-এর মৃত্যু ছিল এক বিরাট শোকাবহ ঘটনা ও অপূরণীয় ক্ষতি।

(দ্য রিপোর্ট/একেএমএম/সিজি/এনআই/অক্টোবর ১৫, ২০১৫)