Airtel & Robi User Only

প্রচ্ছদ » প্রবাস কথা » বিস্তারিত

একান্ত আলাপকালে ইঞ্জিনিয়ার বাদলুর রহমান খান

‘বিরুদ্ধাচরণ বন্ধ করুন, না হলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা

২০১৫ অক্টোবর ১৫ ০৬:১৮:১১
‘বিরুদ্ধাচরণ বন্ধ করুন, না হলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা

শামছুজ্জামান নাঈম, মালয়েশিয়া : বিএনপির মালয়েশিয়া শাখার নবগঠিত কমিটির নেতৃত্বের বিরুদ্ধাচরণকারীদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দলের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার বাদলুর রহমান খান বাদল।

তিনি বলেন, ‘নবগঠিত কমিটির নেতাদের বিরুদ্ধে তাদের মিথ্যা অভিযোগের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তাদের এসব অবশ্যই প্রত্যাহার করতে হবে। নির্দিষ্ট একটা সময়ের মধ্যে এসব বন্ধ করে দলে না ফিরলে এবং দলের বিরুদ্ধে কাজ করলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বুধবার কুয়ালালামপুরের কোতারায়ার নিজ কার্যালয়ে ‘দ্য রিপোর্ট’র সঙ্গে একান্ত আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যক্তিগত আক্রোশেই তারা এমন বলছে অভিযোগ করে ইঞ্জিনিয়ার বাদলুর রহমান খান বলেন, ‘তারাই এখানে বিতর্কিত সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত। এরাই ১/১১ সময়ে ফখরুদ্দিন মালয়েশিয়ায় এলে তার গলায় ফুলের মালা দিয়েছিল। তাদের বিচ্ছিন্ন কথায় কিছু যায় আসে না। ১২১ জন সদস্যের মধ্যে ৩/৪ জন বিরোধিতা করতেই পারে।’

দলে ফেরার পথ সবসময় খোলা আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দলে ফিরিয়ে আনতে তাদের সঙ্গে কথা বলাসহ সব ধরনের চেষ্টা করা হচ্ছে। শীর্ষ নেতাদের নির্দেশ মেনে থাকলে অবশ্যই তারা দলে ফিরে আসবেন। যদি না এসে দল এবং দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধাচরণ অব্যাহত রাখে তাহলে বুঝতে হবে তারা সরকারি এজেণ্ডা বাস্তবায়ন করছেন।’

ভিন্ন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা প্রসঙ্গে বাদল বলেন, ‘২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৪ আসন থেকে আমি বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলাম। সে জন্য নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করি। নেত্রীর নির্দেশে বহির্বিশ্বে বিএনপির পক্ষে জনমত তৈরি করেছি। এ ছাড়া বিএনপির অনলাইন আন্দোলনের মূল ১০/১৫ জনের মধ্যে আমিও একজন।’

রাজনীতি থেকে দূরে থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কমিটি ভেঙ্গে দেওয়ার পর মালয়েশিয়া বিএনপির নেতাকর্মীরা চারটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ায় কিছুদিন রাজনীতি থেকে দূরে থাকি। সে সময় সবাই আলাদাভাবে আমার সঙ্গে দেখা করলে আমি কারো সঙ্গে না গিয়ে সবাইকে দলের জন্য এক হয়ে কাজ করার অনুরোধ করি। তাহলেই আমি আপনাদের সঙ্গে আছি গ্রুপিং হলে আমি কারো সঙ্গেই নেই। শহীদ জিয়ার নিজ হাতে গড়া দল এক ছিল এক আছে এক থাকবে।’

প্রস্তাবিত কমিটি বলতে কিছু নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত মানে কি তারা আসলে বুঝে না। কমিটির একটা লিস্ট কেন্দ্র রিসিভ করা মানে সেটা যে প্রস্তাবিত হবে এটা তাদের ভুল ধারণা। আপনি একটা লিস্ট দিয়ে এলেও কেন্দ্র তা রিসিভ করবে। এর মানে এপ্রুভ করা নয়।’

দলের জন্য কাজ করা প্রসঙ্গে ইঞ্জিনিয়ার বাদল বলেন, ‘১/১১ পর বিএনপির অনেক নেতা দেশ ছাড়েন আবার অনেকে দেশে থাকলেও গ্রেফতার আতংকে পালিয়ে বেড়ান। সে সময়ে আমরা প্রবাস থেকে অঘোষিতভাবে অন্তরীণ দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে বহির্বিশ্বে প্রচার করি। এছাড়াও তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতাদের দিকনির্দেশনায় আন্দোলনকে একটা পর্যায়ে নিয়ে যাই। সে সময় আমি এশিয়া মহাদেশের দায়িত্ব পালন করি।’

পরে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাহায্যে বহির্বিশ্বে আন্দোলনের নতুন একটি ধারা তৈরি করি। যার ফল পরবর্তী সময়ে আমরা পেয়েছি সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক চাপের মাধ্যমে।’

বিগত সময়ে সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিএনপির ব্যর্থতা স্বীকার করে মালয়েশিয়া বিএনপির এ নতুন কাণ্ডারি বলেন, ‘আগে আন্দোলন দমাতে নেতাকর্মীদের পুলিশ আটক করত, মিছিলে টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়ত। কিন্তু এখন মিছিলে সরাসরি গুলি করা হচ্ছে। নয়তো সকলের সামনে থেকে ধরে নিয়ে গুম করে ফেলে। মাঝে কারো লাশ পাওয়া গেলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই গুম হওয়া ব্যক্তির ভাগ্যে কি ঘটেছে জানা যায়নি। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে রাজধানীকে কারাগারে পরিণত করেছিল। এ অবস্থায় অহিংস আন্দোলন করা মোটেই সম্ভব ছিল না বলেই আন্দোলন সফল হয়নি।

এ ছাড়া দলের দুর্দিনে দলের পাশে থাকা নেতারা পরবর্তী সময়ে এমপি-মন্ত্রী হয়ে সম্পদের মালিক হয়ে যান। এ সম্পদ রক্ষা কিংবা বয়সের ভারে ন্যুব্জ নেতাদের অনেকেই আন্দোলনে অংশ নেয়নি। তারুণ্যের সময় তারা যে আন্দোলন করেছেন পরে তারা বয়সের ভারে নীরব হয়ে যান।

নব্বই দশকের একঝাঁক তরুণ রাজনীতিবিদ সুযোগের অভাবে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেননি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রবাস থেকে আমরা যা বুঝেছি বয়সের ভারে ন্যুব্জ ব্যক্তিরাই যুগের পর যুগ একই পদ আঁকড়ে ধরে আছেন। ফলে দলে তরুণ নেতৃত্বের অংশগ্রহণে কিছুটা ভাটা পড়ে যাওয়ায় আন্দোলন ততটা বেগবান হয়নি। তবে আমার ধারণা এটা খুব তাড়াতাড়ি ঠিক হয়ে যাবে।’

কোন জেলায় মূল কমিটি না থাকলে সেখানকার শাখা কমিটির বৈধতা থাকে না জানিয়ে ইঞ্জিনিয়ার বাদল বলেন, তাদের কিভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। যারা বিরোধিতা করছেন তাদের নাম তো কমিটিতে আছে। এ ছাড়া অন্য কেউ যদি মূল্যায়িত না হয় তাহলে কেন্দ্রে কিংবা মূল কমিটির নেতাদের জানাতে হবে।’

আওয়ামী লীগের কেউ এ কমিটিতে নেই দাবি করে তিনি বলেন, ‘যদি এমন কেউ থেকেই থাকে তাহলে তাদের নাম দিতে পারে। এ ছাড়া কেউ যদি জিয়ার আদর্শ গ্রহণ করে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করতে চায় তাহলে তাদের আমরা ফিরিয়ে দিতে পারি না।’

(দ্য রিপোর্ট/সিজি/এনআই/অক্টোবর ১৫, ২০১৫)