Airtel & Robi User Only

প্রচ্ছদ » জাতীয় » বিস্তারিত

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত : টিআইবি

২০১৫ অক্টোবর ১৫ ১২:৪১:৩৪
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত : টিআইবি

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : আসন্ন কপ-২১ প্যারিস সম্মেলনে সরকারি প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণের আগেই রামপাল-মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

রাজধানীর ধানমণ্ডির মাইডাস সেন্টারে বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়।

আসন্ন কপ-২১ প্যারিস সম্মেলন উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে টিআইবি।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘প্যারিস সম্মেলনে যাওয়ার আগেই সুন্দরবনে কয়লাভিত্তিক রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়ে একটা ঘোষণা আসা উচিত। সর্বসম্মতিক্রমে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। যারা আন্তর্জাতিক এক্সপার্ট তাদের দিয়ে এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা ও ক্ষতিকারণ প্রভাব পর্যালোচনা করা যেতে পারে।’

ড. জামান বলেন, ‘রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রেকে নিয়ে প্যারিসে আলোচনা হবে, এটা অবধারিত। আমাদের সরকারের প্রতিনিধি দল সেখানে অপমান হোক, সেটা আমরা চাই না। তাই সম্মেলনে যোগদানের আগেই সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন মোবাবেলা অন্যন্য গুরুত্বপূর্ণ। যারা জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী তারা আন্তর্জাতিকভাবে অঙ্গীকার করেছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে তারা ক্ষতিপূরণ দেবে। তবে সে অঙ্গীকার অনুসারে উন্নত দেশগুলো অর্থ ছাড় করছেন না। আবার যতটুকু ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে তা আবার কোনো কোনো মহল থেকে ঋণ হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে আমাদের মতো ক্ষতিগ্রস্ত দেশ উভয় দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবি জানানো হয়। টিআইবির উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো— বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় শিল্পোন্নত ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশসমূহ প্রাক-শিল্পায়ন সময়ের তুলনায় বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির গড় হার সর্বোচ্চ ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখতে আইনী বাধ্যতামূলক চুক্তি বাস্তবায়ন করা; প্যারিস চুক্তিতে আইনী বাধ্যতার আওতায় ‘দূষণকারী কর্তৃক ক্ষতিপূরণ’ নীতি মেনে কোনো অবস্থাতেই ঋণ নয়, উন্নয়ন সহায়তার ‘অতিরিক্ত’ ও ‘নতুন’ শুধুমাত্র অনুদানকে স্বীকৃতি দিয়ে জলবায়ু অর্থায়নের সর্বসম্মত সংজ্ঞা নির্ধারণ এবং শিল্পোন্নত দেশসমূহ কর্তৃক ২০১৬ থেকে ২০৩০ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহকে দীর্ঘমেয়াদে যথার্থ এবং চাহিদা ভিত্তিক অর্থায়নের পথনকশা প্রণয়ন করা।

এ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে দারিদ্র্য বিমোচনে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন তহবিলের বরাদ্দ অব্যাহত রাখা এবং প্রতিশ্রুত জলবায়ু তহবিল প্রদানের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার প্রদান ও তা বাস্তবায়নে দিকনির্দেশনা প্যারিস চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা; জিসিএফ ও অন্যান্য উৎস থেকে ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহকে তহবিল প্রদানে অভিযোজনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবিও জানায় টিআইবি।

টিআইবির উপ-নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের ও সি‌নিয়র প্রোগ্রাম ম্যা‌নেজার হোসেন খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

(দ্য রিপোর্ট/এইচবিএস/এসবি/এনডিএস/এইচ/অক্টোবর ১৫, ২০১৫)