প্রচ্ছদ » শিল্প ও সংস্কৃতি » বিস্তারিত

গণগ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে দেয়ালিকা উৎসব

২০১৫ অক্টোবর ১৫ ২০:০০:৩০
গণগ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে দেয়ালিকা উৎসব

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : চারদিকে বিজ্ঞানের জয়-জয়কার। রাত পোহালেই নতুন সংবাদ নিয়ে আবির্ভাব হয় সময়। বিজ্ঞানের সাহচর্যে পুরাতনের পাটাতনে দাঁড়িয়ে জয়গান করছে নতুন সময়। এই সময়ে দেয়াল পত্রিকার লেখা ও প্রদর্শন আপাতদৃষ্টিতে নিছক সময় ব্যয়ের বিষয় হতে পারে। কিন্তু যেখানে শিশুর কোমল হাতের সৃজন জড়িত তা কখনও পুরান নয়, হারানোর নয়, বরঞ্চ হতে পারে নতুন ভাবনার উদয়স্থল। এমন ভাবনা নিয়ে সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে ‘মুক্ত প্রকাশ, মুক্ত বিকাশ’ স্লোগানে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে জাতীয় দেয়াল পত্রিকা উৎসব ও প্রতিযোগিতার অষ্টম আসর।

ঢাক-ঢোলের বাদ্য সহযোগে দেয়াল পত্রিকার সম্পাদক আর লেখিয়েদের হর্ষধ্বনির মাধ্যমে উৎসবের উদ্বোধন করেন রবীন্দ্রসঙ্গীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। আয়োজক সংগঠন বাংলাদেশ দেয়াল পত্রিকা পরিষদের সভাপতি শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক এ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল এবং গণগ্রন্থাগারের মহাপরিচালক আশিষ কুমার সরকার। স্বাগত বক্তব্য দেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার আখন্দ।

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘এ উৎসব আনন্দের। এর মধ্য দিয়ে প্রকাশ পাচ্ছে সৃষ্টিশীলতা। তার সঙ্গে রয়েছে সৃজনশীলতা, প্রতিবাদ ও স্বপ্ন। এ উৎসব প্রতিবাদ করছে যে এখনো দেয়াল পত্রিকা উঠে যায়নি। ঘরের ভেতরের প্রযুক্তি ছোট ছোট আয়োজন আবদ্ধ হয়েও দেয়াল পত্রিকা টিকে আছে।’

তিনি বলেন, ‘দেয়াল পত্রিকার মাধ্যমে আমরা দেয়াল ভাঙতে চাই। বাইরের দেয়াল ও মনের ভেতরের দেয়ালটা ভেঙে ফেলতে হবে। কারণ, যতদিন যাচ্ছে বড় পৃথিবী ছোট হয়ে আসছে। আর সেই ছোট দেয়ালে আমাদের কিশোরদের আটকে রাখছি। কিন্তু কিশোরদের সজীব ও সতেজ রাখতে হবে। কারণ, এরাই ভবিষ্যত প্রজন্ম।’

উদ্বোধক রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা বলেন, ‘আমাকে উদ্বোধক হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোটা আমার জন্য ছিল চমক। কারণ, আমি ভেবেছিলাম, দেয়াল পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেছে। ফেসবুকের এ যুগে এ সব সৃজনশীল কাজ আর হয় না। কিন্তু এখানে এসে আমার ভুল ভেঙেছে। আমি নিজের স্কুল জীবনে দেয়াল পত্রিকায় লিখেছি। কিন্তু স্কুলের পর দেয়াল পত্রিকা আমার জীবন থেকে হারিয়ে যায়, যা আবার ফিরে পাই শান্তিনিকেতনে, তবে তা ভিন্নরূপে। দেয়াল পত্রিকা পাঠ্যাভাস, রুচিবোধ, সাংস্কৃতিকবোধ ও সহনশীলতাবোধ তৈরিতে সাহায্য করে। প্রযুক্তির এ সময়ে এখন আর কারো সহনশীলতা নেই। সেই সহনশীলতা তৈরিতে এ ধরনের আয়োজন বাড়াতে হবে।’

গণগ্রন্থাগারের পুরো প্রাঙ্গণজুড়ে ৩৩টি জেলার শতাধিক স্কুলের শিক্ষার্থীরা এ উৎসবে অংশ নিচ্ছে। উৎসব প্রাঙ্গণ ঘুরতে ঘুরতে একটি দেয়াল পত্রিকায় চোখ আটকে গেল। নাম ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য’। তৈরি করেছে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল এ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। বিশাল পত্রিকার ঠিক মধ্যখানে একটি বই। ‘বাংলার স্বাক্ষর’ শিরোনামের এ বইটিতে প্রাচীন যুগ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাস বর্ণিত হয়েছে। দেখা মিলল বাংলাদেশের পরিচিতিমূলক নানা অনুষঙ্গ। যার মধ্যে রয়েছে— জামদানি শাড়ি, রিকশা, রিকশাচিত্র, চাল, মুড়ি, মুদ্রা, বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান, পয়লা বৈশাখ, নবান্ন ও পয়লা ফাল্গুনের আয়োজন, অমর একুশে গ্রন্থমেলাসহ প্রায় সবকিছুই, যা বাংলাদেশকে পরিচয় করিয়ে দিতে যথেষ্ট।

পত্রিকাটির সম্পাদক ফাহিয়া শাহিন বলেন, ‘সবার মাঝে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতিকে তুলে ধরতেই আমাদের এই প্রয়াস। এর ফলে অনেকে ইতিহাসের ঘটনাবলী সম্পর্কে জানতে পারবেন।’

এ ছাড়াও গণগ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে ঠাঁই হয়েছে স্বপ্নপ্রদীপ, কুষ্টিয়ার ঐতিহ্য, পনের ষোল, গ্যালারি, ছেঁড়াপাতার ইচ্ছেঘুড়ি, দেশ ও তার কথা, ক্রান্তি, প্রতিবাদ, আত্মমগ্ন, সাম্যের ছড়া, মানবতার আর্তনাদসহ নানা নামের দেয়াল পত্রিকা।

চার দিনের এ আয়োজন চলবে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। ১৬ ও ১৭ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং ১৮ অক্টোবর সমাপনী দিনে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। সমাপনী দিনে প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে প্রদান করা হবে পুরস্কার।

(দ্য রিপোর্ট/এমএ/এপি/সা/অক্টোবর ১৫, ২০১৫)