প্রচ্ছদ » বিশেষ সংবাদ » বিস্তারিত

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপিতে ‘তিন ধারা’

২০১৫ অক্টোবর ১৫ ২০:৩৮:২৩
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপিতে ‘তিন ধারা’

আব্দুর রাজ্জাক, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : বিএনপির রাজনীতি দীর্ঘদিন যাবত তিন ধারায় বিভক্ত হয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। এই জেলায় ১২টি উপজেলা ও ১০টি পৌরসভা ইউনিট রয়েছে। ১২ উপজেলায় রয়েছে মোট ১১০টি ইউনিয়ন। অথচ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেই কোনো চাঞ্চল্য।

মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, যে-যার অনুসারী, সে-তার পেছনেই ঘুরছে। পরিস্থিতি এমন আকার ধারণ করেছে যে, সংগঠনের নেতাকর্মীদের কাছেও কমিটির ব্যাপারে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য। কেউ কেউ আবার আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করে বিভিন্ন সময় টেন্ডার ভাগাভাগী, জমি দখল ও চাঁদাবাজীর মতো কাজে জড়িয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের আরও অভিযোগ, বিএনপির স্থানীয় অনেক বড় নেতা আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নেতাদের সাথে মিলে ব্যবসাপাতি করছেন। কেউ কেউ বিএনপির আমলে সুবিধা নিয়ে এখন যোগ দিয়েছে আওয়ামী লীগে। এদের মধ্যে অন্যতম সদর উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি ও টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৬নং ওয়ার্ডের কমিশনার হাফিজুর রহমান স্বপন। এই নেতা কয়েক শ’ নেতাকর্মীসহ আওয়ামী যুবলীগে যোগ দিয়েছেন। অবশ্য তার আপন ভাই ফয়সাল আহমেদ শামীম বর্তমানে জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির এক নেতা বলেন, ‘এই নেতা (হাফিজুর রহমান) বরাবরই সরকারি দল করতে ভালবাসে।’

আজম-তোফা-মাহমুদুলের তিন গ্রুপ : এদিকে জেলা বিএনপির বর্তমান কমিটির মেয়াদ ৫ বছরের বেশী। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে এ কমিটির সভাপতি বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা আহমেদ আজম খান ও সাধারণ সম্পাদক সামছুল আলম তোফা সাংগঠনিকভাবে তেমন কোনো সফলতাও দেখাতে পারেননি। এই দুই নেতার রয়েছে নিজ নিজ গ্রুপ।

এ ছাড়া সাবেক সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান অন্য আরেকটি গ্রুপের নেতৃত্ব দেন। ফলে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, শ্রমিকদল, তাঁতীদল ও কৃষক দলের নেতাকর্মীরা নিজ নিজ পছন্দের নেতাদের সাথেই এলাকায় রাজনীতি করেন।

এদিকে জেলার বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের কমিটি এই তিন নেতার বিরোধের কারণে দীর্ঘদিনেও পূরণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও পৌর কমিটি পূরণ না হওয়ায় বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সম্মেলন ছাড়াই গঠন করা হয়েছে নতুন আহ্বায়ক কমিটি।’

এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান খান দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘আমরা একেকজন একেক নেতার নিজস্ব লোক। তাই আমাদের নেতারা যখন যে কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকেন, তখন আমরা নেতাদের অনুসরণ করি। এটা দলের জন্য ক্ষতিকর। এভাবে দল চলতে থাকলে আমরা ধ্বংস হয়ে যাব। জেলার একটি কমিটিও সচল নেই বললেই চলে। দলে রাজনীতি ও গণতন্ত্র চর্চা না থাকলে যা হয়।’

জেলা বিএনপির কমিটি সম্পর্কে সহ-সভাপতি এ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘বর্ধিত সভার মাধ্যমে জেলা কমিটিতে ১৫১ সদস্য পূরণ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীকালে কমিটির অনেক নেতাই নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ায় একটু এলোমেলোভাবে চলছে সবকিছু। এ ছাড়া দফতর সম্পাদকের নিষ্ক্রিয়তা ও দলের নিজস্ব কোনো অফিস না থাকায় জেলার সব কমিটিই এলোমেলোভাবে আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ১২ সেপ্টেম্বর জেলা বিএনপির সম্মেলন হবে। সেখান থেকে সকল কমিটি নতুন করে সাজানো হবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে।’

এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সভাপতি ও খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আহমেদ আজম খান দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘বিএনপি সব সময় গণতন্ত্রের পথেই চলে আসছে। আমি নিজেও দলীয় গণতন্ত্রের ভিত্তিতে গোপন ভোটের মাধ্যমে ২০১০ সালে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছি। রাজপথের আন্দোলনে আমরা সকলেই এক আছি, ভবিষ্যতেও একসাথে আন্দোলন করব। এখন কেউ যদি আলাদাভাবে রাজনীতি করতে চায় তাহলে আমার কী করার আছে।’

জেলার সকল অঙ্গ-সংগঠন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সরকারের জেল, জুলুম ও নির্যাতন থেকে বাঁচতে অনেক ইউনিটের নেতা বর্তমানে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এ সব নেতাকে বাদ দিয়ে নতুন কমিটি করা হচ্ছে।’

(দ্য রিপোর্ট/এআর/এএসটি/আইজেকে/সা/সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৫)