প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয় » বিস্তারিত

ফিলিস্তিনী ইন্তেফাদা আসন্ন?

২০১৫ অক্টোবর ১৬ ০০:৩৬:৪৭

যখন জাতিসংঘের সদর দফতরে ফিলিস্তিনী পতাকা উড়তে শুরু করেছে সেই সময়ে জেরুজালেমের রাজপথ একের পর এক রঞ্জিত হচ্ছে ফিলিস্তিনীদের রক্তে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার ইসরায়েলী পুলিশের গুলিতে আরও দু’জন ফিলিস্তিনী নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে গত ১৪ দিন ধরে চলা সহিংসতায় কমপক্ষে ৩২ জন ফিলিস্তিনী নিহত হয়েছেন। চলমান সহিংসতায় এ পর্যন্ত ৭ ইসরায়েলীর নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এখানে ইন্তেফাদা বা ফিলিস্তিনী অভ্যুত্থানের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

১৯৮৭-১৯৯৩ সাল ও ২০০০-২০০৫ সালে সহিংসতায় কয়েকশ’ ফিলিস্তিনী প্রাণ হারান। জেরুজালেমে দখলদার ইসরায়েলীদের বসতি স্থাপনকে কেন্দ্র করেই এবারের সহিংসতার জন্ম। এবারের সহিংসতায় ফিলিস্তিনীরা ক্ষেত্রবিশেষে যেখানে ছুরি-চাকু নিয়ে ইসরায়েলী পুলিশকে মোকাবেলা করার চেষ্টা করছে, সেখানে ইসরায়েলী পুলিশ জবাব দিচ্ছে আধুনিক সমরাস্ত্রে। সে কারণেই বরাবরের মতো অকাতরে ফিলিস্তিনীদের জীবনহানি ঘটে চলেছে। এদিকে ইসরায়েলের শহরাঞ্চলে বুধবার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনী বসতির পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে বসানো হয়েছে পুলিশের তল্লাশি চৌকি। জেরুজালেমের কোনো কোনো এলাকা বন্ধ করে দেওয়ার অনুমতি অথবা কারফিউ জারির ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ফিলিস্তিনী সহিংসতা বন্ধে ইসরাইল ‘সব ধরনের’ প্রচেষ্টা চালাবে। পার্লামেন্টে বক্তৃতাকালে তিনি ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে সতর্ক করে বলেন, উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেলে এর জন্য আমরা তাকে (আব্বাস) দায়ী করব।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেন, ‘আমি শান্তি প্রতিষ্ঠায় সকল পক্ষের প্রতি ইতিবাচক সাড়া প্রদানের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি এবং আগামী দিনগুলোতে এই অঞ্চলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আমি ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখব।’

নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো ফিলিস্তিনের জনগণের উদ্দেশে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস টেলিভিশনে ভাষণ দিয়েছেন। রেকর্ড করা ওই ভাষণে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘শান্তিপূর্ণ ও জনপ্রিয়’ লড়াইয়ের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন তিনি।

গাজায় গত বছর ইসরায়েলী সেনাবাহিনীর বিমান, নৌ এবং স্থল হামলায় দুই হাজারের উপরে বেসামরিক ফিলিস্তিনী নিহত হন। আহত হন কয়েক হাজার, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ছিল নারী ও শিশু। ওই হামলায় গাজায় ফিলিস্তিনীদের হাসপাতাল, বসতবাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়। জেরুজালেমে শুরু হওয়া সহিংসতা ইন্তেফাদা বা গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিলে ইসরায়েল সরকার নিশ্চয়ই আরও কঠোর ও সহিংস হয়ে উঠবে। পরিণতিতে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে আরেকটি সংঘাত অনিবার্য হয়ে ওঠার আশঙ্কা থেকেই যায়।