প্রচ্ছদ » সাহিত্য » বিস্তারিত

সৈকত ধারা’র তিনটি কবিতা

২০১৫ অক্টোবর ১৬ ০১:৪৫:১৭
সৈকত ধারা’র তিনটি কবিতা

অতিক্রম

একদিন সিনামোন-পোস্তদানার দেশে যাবো,
ভিজে যাবো তিল আর তিসিদের জলে।
আধেক চুম্ববনে ঘেরা সেই পথে
আধেক সঙ্কটে ক্রীড়ারত নর-মাছ।
মেরুতে আমরা উড়াবো পাথর।
কিছু পাথর আবার উড়বে না।

তখন নামবে জর্দাপরীর দল;
তাদের জর্দার ঘোরে
ঘুরে যাবে ফাঁপা কোলাহল।
শাপের পেয়ালাগুলো মীন বাঁশিতে ভরে যাবে।
কিংবা থাকবে না পেয়ালাই কোনো।

হয়তো মধ্য পৃথিবীতে
আমরা এখন, পেছনের দেশ ভুলে
কাচ ভাঙা শব্দের দেশে যাবো।
সিনামোন-পোস্তদানার দেশে...

পারাবত

ইশারায় মেঘালাপ হয়ে ঘুরে যায় পারাবত।
পুব থেকে আরো পুবে শ্বাস-বাড়িটির কার্নিশের
ধমনিতে গিয়ে থামে। বসে থেকে কিছু অলিগলি
চোখে পড়ে আর কিছু বিষ-থলি, মোটামুটি ফাঁকা।
কোনোকালে তারা ছিল গাঁজার আসরে জটাধারী
সাধুটির সুনীরব চিবুকের নিচে দ্বার টেনে।
স্বেদ ও ধোঁয়ায় ঢাকা বাড়িটির কারুকার্যময়
রেখাদেশে থলিগুলো কানায় কানায় নীল ছিল।

কিন্তু বাতাসের স্থির-অস্থিরতায় কি কোনো দোষ
আছে বলো? তারা গিয়ে চুমু খায় দ্বার ঘেঁষে বসা
সময়ের পাটাতনে। নীল চাটে, চেটেপুটে মুছে
ফেলে রেখাদেশ, যেন ঢিল-তরঙ্গের দূতি ক্রমে
লীন হয় স্থির জলে, যেন ভিজে যাওয়া কাগজের
নাও থেকে তুলে আনা ডায়েরির পাতার বিলুপ্ত
রেখাগুলো এতোদিন মেঘালাপে ভেসে ভেসে ছিল;
আজ তারা ইশারায় উজ্জীবিত-পারাবত হয়ে
নেমে এসে বাড়িটির স্বেদ পান করে অতঃপর
দীর্ঘ ভ্রমণের এক মোহময় কাহিনী শোনায়।


মরীচিকা

মরীচিকা। কিন্তু ফাঁকি নয় পুরোপুরি। জল নয়,
বিপরীতে ঢেউ বহে। সেথা অন্ধকার ঘুম-রাতে
সমুদয় দীপাবলী বেগে ধায়...‘সরিষায় ভূত’
পাহারায় কেউ থাকে না তো তবু থেকে যায় ভূত।
কানায় কানায় শূন্য হলে ভূমি, বেদিশায় চাষ
জমে ভালো, কমে যায় চাষা সব আশা ও তিয়াসা
তখন তো একা একা বয়ে নিতে হয়। কিসে ফল
ভালো দেবে, কে তা দেবে বলে; এই নিয়ে মরীচিকা
প্রতাপ নিয়মে কথা কয়, পুরোপুরি ফাঁকি বলা
যাবে নাকি? এসে যায় যখন মাঠের আবাহন।
এই বেলা দ্রাঘিমায় বিষাদ লুকিয়ে মৃত মাঠ
জনপদে ভেসে আসে, নীরবতা মেনে তার চোখ
বাতাসের জলরাশি ভেদ করে বেদিশা ফলায়
এবং অদূরে, ছায়া-কারুকার্যে মিশে থাকে ঝরা
পাতাদের আয়ুশিরা। এই দৃশ্য দেখে হলাহলে
ভরা পাত্রখানি হাল্কা অন্ধকার জাড়ানো আবেশে
সামান্য তফাতে যায়। প্রার্থিত মাতাল কারুজল
পানের তিয়াস নিয়ে কদাচিৎ সেই পথে হাঁটে...