প্রচ্ছদ » ধর্ম » বিস্তারিত

হজের ধর্মতাত্ত্বিক ও দার্শনিক বিশ্লেষণ-৩

২০১৫ অক্টোবর ১৬ ০২:০৪:৪৩
হজের ধর্মতাত্ত্বিক ও দার্শনিক বিশ্লেষণ-৩

ড. এম এ মতিন

[লেখাটি সামান্য বিরতি দিয়ে আবারও প্রকাশ করা হলো। সম-সাময়িকতা খানিকটা কম মনে হলেও এটি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুকনহেতু—এর প্রাসঙ্গিকতা সবসময় সমান বলে আমরা মনে করি। পাঠকের সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা দুঃখিত। বি.স]

(পূর্ব প্রকাশের পর)

তাঁর হাতেই সর্বপ্রকার কল্যাণ। তিনি সবকিছুর উপরই ক্ষমতাবান। আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো মা‘বুদ নেই। তিনি একক, তাঁর প্রতিশ্রুতি সত্য, তিনি তাঁর বান্দার সহায়ক, তিনি তাঁর সেনাদের সম্মানদাতা, তিনি সম্মিলিত দলকে ধ্বংস করেন। তিনি ছাড়া উপাস্য নেই। সত্যনিষ্ঠার সাথে তাঁর উপাসনা করা হয়, যদিও মুশরিকদের কাছে তা অপছন্দনীয়’। এ দু‘য়া পড়ার পর প্রয়োজনীয় অন্যান্য প্রার্থনা করতে হয়। অতঃপর পাহাড় থেকে নেমে মারওয়ার দিকে কিছু অগ্রসর হলেই একটি সবুজ রঙ্গের স্তম্ভ সামনে পড়ে। এটি থেকে ছ’গজ দূরে আরও একটি অনুরূপ স্তম্ভ অবস্থিত। স্তম্ভ দু’টির মধ্যবর্তী স্থান খুব দ্রুত অতিক্রম করতে হয়। তারপর আবার স্বাভাবিক গতিতে চলতে হয়। এভাবে মারওয়া পাহাড় পর্যন্ত পৌছে সাফা পাহাড়ের ন্যায় এর উপর আরোহণ করবে। তারপর সাফা পাহাড়ের দিকে মুখ করে সাফা পাহাড়ে যে দু‘য়াটি পাঠ করা হয়েছিল সে দু‘য়াটি পাঠ করতে হবে। এ পর্যন্ত এক সা‘য়ী হয়ে গেল। এর পর যখন আবার সাফাতে ফিরে যাবে, তখন দু’বার সা‘য়ী হয়ে যাবে। এভাবে সাতবার সা‘য়ী করতে হবে। ইমাম গাযালী (র.) এর মতে, তাওয়াফে যেমন পবিত্রতা অর্জন করা ওয়াজিব, সা‘য়ীতে তা ওয়াজিন নয় বরং মুস্তাহাব। ‘আরাফাতে অবস্থানের পূর্বে সা‘য়ী করা হলে রুকন হিসেবে এটি আদায় হয়ে যাবে। কেননা সা‘য়ী ‘আরাফাতে অবস্থানের পরে করা শর্ত নয়, বরং তাওয়াফে যিয়ারাতের জন্য শর্ত। অবশ্য সা‘য়ী তাওয়াফের পরে করতে হবে।’

হজের আনুষ্ঠানিকতার মৌলিক বিষয় সম্পর্কে যিলহজ মাসের সাত তারিখে বায়তুল্লাহ শরীফের ঈমাম বক্তব্য পেশ করবেন। অতঃপর যিলহজ মাসের আট তারিখে সূর্যোদয়ের পর হজ আদায়কারী ব্যক্তিদেরকে মিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে হয়। অবশ্য এর পূর্বে যাত্রা করাও বৈধ হলেও এটিই উত্তম। হজে তামা‘ত্তু আদায়কারী ব্যক্তিগণ মিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করার পূর্বে হজের ইহরাম বেঁধে নিবে। কিন্তু কিরান আদায়কারী ব্যক্তিকে নতুনভাবে ইহরাম বাঁধতে হবে না। কেউ যদি আট যিলহজ যুহরের পর মিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে তবে তাতে কোনো দোষ নেই। কেউ যদি নয় যিলহজ মক্কায় ফজরের সালাত আদায় করার পর ‘আরাফা চলে যায় এবং মিনার উপর দিয়ে যায় তবুও বৈধ হবে। তবে এতে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত তরীকার খেলাফ করার কারণে বিষয়টি অপছন্দনীয় কাজ। যদি আট যিলহজ শুক্রবার হয় তবে দুপুরের পূর্বে মক্কা থেকে মিনায় গমন করা বৈধ হবে। মিনা অভিমুখে যাত্রা করার সময় এবং সেখানে অবস্থানকালে হাজিগণকে অধিক তালবিয়া পাঠ করতে হয়। মিনায় পৌঁছে সেখানে রাত যাপন ও ফজর পর্যন্ত অবস্থান করতে হবে। এ দিনের ফজরের সালাত ‘ইসফার’ তথা আকাশ কিছুটা পরিষ্কার হওয়ার পর আদায় করা মুস্তাহাব। সুতরাং আট যিলহজ দিবাগত রাতে মিনায় অবস্থান করা সুন্নাত।

নয় যিলহজ সূর্যোদয়ের পর মিনা থেকে ‘আরাফার উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে হয়। যাব পাহাড়ের পথে ‘আরাফাতের ময়দানে গমন করা মুস্তাহাব। ‘আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা হজের অন্যতম একটি ফরয কাজ। যদি কোনো ব্যক্তি ‘আরাফাতের দিন অর্থাৎ জিলহজ মাসের নবম তারিখে ‘আরাফাতে পৌঁছে তবে, ‘আরাফাতে অবস্থানের পূর্বে মক্কায় প্রবেশ এবং তাওয়াফে কুদুম করবে না; বরং প্রথম ‘আরাফাতে অবস্থান করবে। আর যদি ‘আরাফাতে অবস্থানের তারিখের কয়েকদিন পূর্বে মক্কায় পৌঁছে, তাহলে মক্কায় প্রবেশ করে তাওয়াফে কুদুম করবে এবং ইহরাম অবস্থায় মক্কায় অবস্থান করবে। ইমাম গাযালী (র.) বলেন, ‘নবম তারিখ দ্বিপ্রহরের পর হতে দশই তারিখ সুবহিসাদিক পর্যন্ত ‘আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের সময়।’ ‘আরাফাতে অবস্থানের জন্য গোসল করবে। সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়লে ইমাম সংক্ষিপ্ত আকারে প্রথম খুৎবাহ পাঠ করে বসে যাবেন। তারপর ইমাম দ্বিতীয় খুৎবাহ শুরু করবেন। খুৎবার মধ্যেই মুয়াযযিন আযান দিবে। এক আযানে দু’তাকবীরে যোহর ও ‘আসরের সালাত একই সাথে কসর আদায় করবে। ইমাম গাযালী (র.) বলেন, ‘সালাত আদায় করে ‘আরাফাতের অবস্থান স্থলে গিয়ে আরাম করবে। ‘আরনা উপত্যকায় অবস্থান করবে না। মসজিদে ইবরাহীম (আ.)-এর সম্মুখের স্থান ‘আরনার শামিল, আর পিছনের দিকটি ‘আরাফাতের শামিল। কতগুলি বড় বড় পাথর দ্বারা ‘আরাফাত এবং ‘আরনাকে পৃথক করা হয়েছে।’ নয় যিলহজ সূর্যাস্তের পর ‘আরাফাতের ময়দান থেকে মুযদালিফার উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে হয়। ইমামের সাথে যাত্রা করা উত্তম কিন্তু সূর্যাস্তের পর ইমাম যদি যাত্রা করতে বিলম্ব করে, তাহলে ইমামের যাত্রা করার অপেক্ষা না করে যাত্রা করতে হবে। যদি ভিড়ের কারণে সূর্যাস্ত এবং ইমামের যাত্রা করার পরও কেউ ‘আরাফাতের ময়দানে বিলম্ব করে তবে এতে কোনো ক্ষতি নেই। পায়ে হেঁটে মুযদালিফায় প্রবেশ করা মুস্তাহাব।

মাগরিব ও ‘এশা মুযদালিফায় পৌঁছে ‘এশার ওয়াক্তে একত্রে ‘আদায় করতে হয়। মুযদালিফায় পৌঁছার পূর্বেই ফজরের ওয়াক্ত হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকলে রাস্তায় মাগরিব ও ‘এশার সালাত আদায় করে নেয়া বৈধ হবে। মুযদালিফায় মাগরিব ও এশা একত্রে আদায় করার জন্য জামা‘য়াত শর্ত নয়। তবে একাকির চেয়ে জামা‘য়াত উত্তম। এক ই’কামাতে এ দুই ওয়াক্ত সালাত আদায় করতে হয় এবং সালাতদ্বয়ের মধ্যে কোনো নফল সালাত আদায় করা বৈধ নয় কিন্ত কেহ যদি পড়েই ফেলে তবে তাকে ইকামত পুনরায় বলতে হবে। মুযদালিফায় অবস্থান করা ওয়াজিব এবং সালাতদ্বয় আদায়ের পর এখানে সুবহি সাদিক পর্যন্ত অবস্থান করা সুন্নাত। মুযাহ পাহাড়ের নিকটে অবস্থান করা উত্তম এবং ওয়াদীয়ে মুহাসসারে উকূফ করা জায়িজ নয়। যদি কেউ সুবহি সাদিকের পূর্বে মুযদালিফার সীমা অতিক্রম করে চলে যায় তবে তার উপর দম ওয়াজিব হবে। অবশ্য যদি অসুস্থ ও দুর্বল ব্যক্তি ভিড়ের আশংকায় সুবহি সাদিকের পূর্বেই সেখান থেকে যাত্রা করে তবে তার উপর কোনো প্রকার দম ওয়াজিব হবে না। যদি অতিরিক্ত ভিড়ের আশংকায় কোনো মহিলা রাতেই মুযদালিফা থেকে যাত্রা করে তবে তার উপরও দম ওয়াজিব হবে না। দশ যিলহজ সুর্যদয়ের কিছুক্ষণ পূর্বে মুযদালিফা হতে মিনার অভিমুখে যাত্রা করে মিনায় পৌঁছে প্রথমে জামারায়ে ‘আকাবাতে কংকর নিক্ষেপ করতে হয়। অতঃপর কুরবানি করে মাথার চুল কামাতে বা ছোট করতে হয়। এরপর তাওয়াফে যিয়ারত আদায় করে মিনায় এসে ১২ যিলহজ পর্যন্ত অবস্থান করে প্রত্যহ জামরাত্রয়ের উপর কংকর নিক্ষেপ করতে হয়। কংকর নিক্ষেপ করা ওয়াজিব। সুতরাং ইহা তরক করলে দম ওয়াজিব হবে।

কংকর নিক্ষেপ, কুরবানি এবং হলক বা কসর সমাপ্ত করার পর বায়তুল্লাহ শরীফের তাওয়াফ করতে হবে। এ তাওয়াফ হজের রুকন বা ফরয। একে ‘তাওয়াফে যিয়ারত’ বলা হয়। দশই যিলহজের সুবহে সাদিক হতে তাওয়াফের সময় শুরু হয়। দশ যিলহজ থেকে ১২ যিলহজের সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এ তাওয়াফ সম্পন্ন করা ওয়াজিব। এরপর ‘তাওয়াফে যিয়ারত’ আদায় করা মাকরুহ তাহরিমা। সুতরাং ১২ যিলহজের পর এ তাওয়াফ আদায় করলে দম ওয়াজিব হবে। কোনো মহিলা যদি হায়িয বা নিফাসের কারণে যথাসময়ে ‘তাওয়াফে যিয়ারত’ সম্পন্ন করতে সক্ষম না হলে পবিত্র হওয়ার পর তাকে তাওয়াফ করতে হবে এবং তার উপর কোনো দম ওয়াজিব হবে না।

হজ ও ‘উমরাহ আদায়ের ক্ষেত্রে ইহরাম অবস্থায় ছয়টি নিষিদ্ধ বিষয় রয়েছে। যথা ঃ

১. জামা, পায়জামা, মোজা ও পাগড়ি পরিধান করা। তবে সিলাই না করা লুঙ্গি, চাদর এবং কাঠের পাদুকা পরিধানে বাধা নেই। লুঙ্গির অভাবে পায়জামা পরা যায়। মাথা আবৃত করে রাখা যাবে না। এমনকি টুপিও ব্যবহার করা যাবে না। কেননা পুরুষের ইহরামে মাথাও অন্তর্ভুক্ত। নারীদের জন্য সিলাই করা কাপড় পরার বৈধতা আছে কিন্তু মুখ খোলা রাখতে হবে। কেননা নারীদের ইহরামে তাদের মুখমন্ডল অন্তুর্ভুক্ত হয়।

২. সুগন্ধী দ্রব্য ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। সুগন্ধি দ্রব্য ব্যবহার করলে এবং কালো পোশাক পরলে একটি বকরি কুরবানি করতে হয়।

৩. চুল মুণ্ডন করা, কর্তন করা ও নখ কর্তন করা নিষিদ্ধ। এগুলি করলেও একটি বকরি কুরবানি করতে হবে। অবশ্য সুর্মা ব্যবহার করা, চুলে চিরুণী করা বা সিঙ্গা লওয়াতে কোনো বাধা নেই।

৪. স্বামী-স্ত্রী সহবাস করা নিষিদ্ধ। এটি মাথা মুণ্ডন এবং কুরবানির পূর্বে করলে হজ বাতিল হয়ে যাবে এবং উষ্ট্র, গরু অথবা সাতটি বকরি যবেহ করা অত্যাবশ্যক হবে। তবে কুরবানি ও মাথা মুণ্ডনের পর করলে হজ বাতিল হবে না কিন্তু কুরবানি ওয়াজিব হবে।

৫. স্বামী-স্ত্রী চুম্বন, আলিঙ্গন এবং এমনভাবে স্পর্শ করা যে, মজি নির্গত হয়ে যায়, তা নিষিদ্ধ। এতে একটি বকরি কুরবানি করা আবশ্যক হবে।

৬. যে কোনো স্থলচর হালাল জন্তু, যার গোশত খাওয়া যায়, তা শিকার করা নিষিদ্ধ। তা শিকার করলে অনুরূপ কোনো চতুষ্পদ জন্তু কুরবানি করা ওয়াজিব হবে। তবে জলচর কোনো জন্তু শিকার করলে কুরবানি করা প্রয়োজন হবে না।

হজের এ রীতি হযরত ইবরাহীম (আ.) থেকে শুরু করে যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। হযরত ইবরাহীম (আ.) আল্লাহ তা‘য়ালার আদেশে কা‘বা ঘরের সন্নিকটে হযরত হাজেরা ও হযরত ইসমা‘ঈল (আ.) কে রেখে তার দেশ সুদূর ফিলিস্তিনে চলে যান। তখন পৃথিবীর প্রাচীনতম ভূখণ্ড ও কেন্দ্রবিন্দু মক্কার প্রাকৃতিক পরিবেশ মোটেও বসবাসের উপযোগী ছিল না। এখানে পানির কোনো উৎস না থাকায় কোনো প্রকার ফসল জন্মাত না। হযরত হাজেরা সন্তানের জন্য একটু পানির সন্ধান করতে সাফা-মারওয়া পাহাড়ের উপর সাতবার দৌঁড় দিয়েছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন কোনো বণিকের দল খুঁজে পাওয়া গেলে একটু খাদ্য বা পানীয় সংগ্রহ করবেন। কিন্তু তিনি নিরাশ হয়ে ফিরলেন। এ ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখার নিমিত্তে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য সাফা মারওয়া সা‘য়ী করার বিধান করে দেন। হযরত হাজেরার উভয় পাহাড়ে আরোহণ করে কোনো জনবসতি বা লোক দেখতে না পাওয়ার বিষয়টি, ঐ সময়ে কা‘বার আশেপাশে জনবসতি গড়ে না উঠার প্রমাণ বহন করে। আল্লাহ তা‘য়ালা তাঁর প্রিয় বন্ধু, মানবশ্রেষ্ঠ মহাপুরুষ হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্য পৃথিবীর প্রথম ঘর কা‘বার প্রান্তর নির্বাচন করে রেখেছিলেন। এ জন্যই তিনি তাঁর প্রিয় বন্ধু হযরত ইবরাহীম (আ.) কে তাঁর স্ত্রী ও পুত্রকে কা‘বার পার্শে নির্বাসন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আর তাঁদের মাধ্যমেই মক্কার সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশের সূচনা হয়। মরুময় রুক্ষভুমিতে ফল-মূল জন্ম নেয়, যমযম কূপের রহমতের পানিতে সিক্ত হয় মরুভুমির উত্তপ্ত বালিরাশি, বর্ষিত হতে থাকে আল্লাহর রহমতের অঝর ধারা। হযরত ইবরাহীম (আ.) যখন দেখলেন মক্কার প্রাকৃতিক পরিবেশ মানুষের বাসযোগ্য নয় তখন তিনি আল্লাহর কাছে দু‘য়া করলেন,

‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমি আমার বংশধরদের কতককে বসবাস করালাম অনুর্বর উপত্যকায় তোমার পবিত্র গৃহের নিকট, হে আমাদের প্রতিপালক! এ জন্য যে, ওরা যেন সালাত কায়েম করে। অতএব তুমি কিছু লোকের অন্তর ওদের প্রতি অনুরাগী করে দাও এবং ফলাদি দ্বারা ওদের রিযিকের ব্যবস্থা করো, যাতে ওরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে’। প্রশ্ন হতে পারে, আয়াতে (عند بيتك المحرَّم) বাক্য দ্বারা কা‘বা শরীফের কথা বোঝানো হয়েছে কীভাবে? হযরত ইবরাহীম (আ.) তখনও কা‘বার নির্মাণ কাজ শুরুই করেন নি। এর উত্তরে ইবনুল জাওযী (১১১৬-১২০১ খ্রি.) বলেন এ ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় হতে পারে, প্রথমত, আল্লাহ তা‘য়ালা কা‘বার স্থানটিকে পৃথিবী সৃষ্টির শুরু থেকেই সম্মানিত করে রেখেছিলেন। দ্বিতীয়ত, তোমার ঐ ঘরের নিকটে যা নূহ (আ.)-এর তুফানে ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। তৃতীয়ত, তোমার ঐ ঘরের পার্শে যে ঘর পূর্বে ছিল, আর সে ঘরের অবস্থান ও অস্তিত্ব সম্পর্কে তুমিই ভালো জান। কেউ কেউ বলেন, ‘হযরত ইবরাহীম (আ.)- ভবিষ্যতে এ স্থানে কা‘বা পুনঃনির্মাণ ও এখানে শহর প্রতিষ্ঠার জন্য এ দু‘য়া করেছিলেন।’ ذكرهما ابن جرير . وكان أبو سليمان الدمشقي يقول :

অতঃপর হযরত ইসমা‘ঈল (আ.) যখন বড় হয়ে উঠলেন, হযরত ইবরাহীম (আ.) তাঁকে সঙ্গে নিয়ে কা‘বা ঘর পুনঃনির্মাণ করলেন। হযরত আদম (আ.) কতৃক নির্মিত প্রথম ঘরের চিহ্নের উপর ভিত্তি করেই এ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়। হযরত ইবরাহীম (আ.) কে সে প্রথম ঘরের চিহ্ন স্বয়ং আল্লাহ তা‘য়ালাই দেখিয়ে দিয়েছিলেন।

(চলবে) 


লেখক : সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজ।

(দ্য রিপোর্ট/একেএমএম/আসা/অক্টোবর ১৬, ২০১৫)