প্রচ্ছদ » জেলার খবর » বিস্তারিত

ছেউড়িয়ায় ৫ দিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসব শুরু

২০১৫ অক্টোবর ১৬ ১০:২১:৫৮
ছেউড়িয়ায় ৫ দিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসব শুরু

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : লালন সঙ্গীত, আলোচনা সভা ও লালন মেলাসহ বর্ণাঢ্য নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেউড়িয়ায় শুক্রবার শুরু হয়েছে বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের ১২৫তম তিরোধান উপলক্ষে পাঁচ দিনব্যাপী স্মরণোৎসব।

সন্ধ্যায় এ স্মরণোৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মাহবুব-উল আলম হানিফ। অনুষ্ঠানকে নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ছেউড়িয়ার লালন একাডেমির আয়োজনে শুরু হওয়া এ স্মরণোৎসব চলবে মঙ্গলবার পর্যন্ত।

মরমী সাধক লালনের জীবন-কর্ম, জাতহীন মানব দর্শন ও চিন্তা-চেতনার আদর্শিক বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে শুরু হতে যাওয়া এই স্মরণোৎসবে যোগ দিতে কুষ্টিয়ার কোলঘেঁষা কুমারখালী উপজেলার ছেউড়িয়ার লালন আখড়ায় এরই মধ্যে এসেছেন দেশ-বিদেশের অসংখ্য বাউল, ভক্ত ও অনুসারী। বাংলা ১২৯৭ সালের পয়লা কার্তিক মানব ধর্মের অন্যতম প্রবর্তক আধ্যাত্মিক সাধক লালন ফকিরের তিরোধানের পর থেকেই কালীনদীর তীরে পালিত হয়ে আসছে লালন স্মরণোৎসব।লালন স্মরণোৎসবে যোগ দিতে আসা লালন গবেষক ফকির হৃদয় সাঁই বলেন, সাঁইজির যে দর্শন, দর্শনের যে গভীরতা, সাঁইজিকে লালন করার যে মনবাসনা তা শুধু বাংলা ভাষাভাষী নয়, সারাবিশ্বের মধ্যে আজ ব্যাপক একটি বিষয়। এ তৃষ্ণা এমনই এক তৃষ্ণা- লালন সাঁইজির দর্শনের গভীরতা জানার তৃষ্ণা, আত্মোপলব্ধির তৃষ্ণা, আত্মসুদ্ধির তৃষ্ণা।তিনি বলেন, ‘সাধু পরশেরে মন’-এ সাধুর পরশে পরশিত হওয়ার জন্য এ মিলনমেলায় আমরা সবাই এসেছি। হয়তো এক সময় সাধুদের ভেদ ব্যাখ্যা জেনে নিজেকে পরিবর্তন করতে পারব, পরিবর্তন নিয়ে আসব নিজ স্বভাবকে।

যোগ দিতে আসা লালন অনুসারী এনাম সাঁই বলেন, ‘আত্মতৃপ্তির প্রয়াস নিয়েই প্রতি বছর আমরা সাঁইজির ধামে আসি। আত্মতৃপ্তি নিয়েই আবার ফিরে যাই নিজ গন্তব্যে।’

কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার প্রলয় চিসিম জানান, এখানে আসা দেশ-বিদেশের লালন ভক্ত-অনুসারীদের নিরাপত্তায় পোশাকি ও সাদা পোশাকের বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত রাখা হয়েছে।

কুষ্টিয়া লালন একাডেমির সভাপতি ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন জানান, এখানে আসা দেশ-বিদেশের লালনপ্রেমী অনুসারীদের থাকা-খাওয়াসহ তাদের নিরাপত্তায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কালীনদীর তীরের বিশাল মাঠে বসানো হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী লালন মেলা। এখানে বিনোদন ও বিভিন্ন উপকরণ কিনতে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন নারী, পুরুষ ও শিশুরা।

(দ্য রিপোর্ট/এমএইচও/এইচএইচ/এজেড/অক্টোবর ১৬, ২০১৫)