প্রচ্ছদ » শিক্ষা » বিস্তারিত

ঢাবির ‘গ’ ইউনিটের পরীক্ষায় জালিয়াতি, কারাদণ্ড

২০১৫ অক্টোবর ১৬ ১৭:১৭:১৪
ঢাবির ‘গ’ ইউনিটের পরীক্ষায় জালিয়াতি, কারাদণ্ড

ঢাবি প্রতিবেদক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির দায়ে সঞ্জয় কুমার সাহানী নামের এক পরীক্ষার্থীকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ঘটনার সঙ্গে জড়িত মো. মেহেদী নামে তার এক বন্ধুর বিরুদ্ধে মামলা করে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করেছে প্রশাসন।

পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (অপরাধ) আইন ১৯৮০ এর ৩ এর (খ) ধারায় শুক্রবার দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত এই শাস্তি প্রদান করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কার্যালয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শারমিন সুলতানা এই রায় দেন।

শারমিন সুলতানা সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় নকল প্রবেশপত্র নিয়ে অংশগ্রহণ করায় সঞ্জয়কে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় মেহেদীকে নিয়মিত মামলার আসামি করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ এম আমজাদ সাংবাদিকদের বলেন, ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে সঞ্জয় এবং মো. মেহেদী হাসান নামের দুই শিক্ষার্থীর ভর্তি পরীক্ষায় একই রোল নম্বর দেখে দায়িত্বরত শিক্ষক তাদের দুইজনকে আলাদা আলাদা আসনে বসিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেন। পরীক্ষা শেষে দুজনকেই আটক করা হয়। সঞ্জয়ের প্রবেশপত্রে তার মায়ের নাম ভুল ছিল। তাছাড়া সঞ্জয়ের প্রবেশপত্র জব্দ করে দেখা যায় অন্যান্য প্রবেশপত্র থেকে এটি ভিন্ন।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটি সঞ্জয়ের প্রবেশপত্র জাল বলে উল্লেখ করে। ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য সঞ্জয়ের সম্পূর্ণ আবেদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিল তার বন্ধু মেহেদী (ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি)। মেহেদী নিজেই এই কথা স্বীকার করেছে। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত সঞ্জয়কে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে ও ঘটনার মঙ্গে জড়িত থাকায় মেহেদীকে (ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি) নিয়মিত মামলার আসামি করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে পরামর্শ দেয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের শাহবাগ থানায় সোপর্দ করে।

উল্লেখ্য, সঞ্জয়, মেহেদী (ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি) এবং মো. মেহেদী হাসান তিনজনই বন্ধু। এবং তিনজনেই একই স্কুল এবং কলেজে পড়াশুনা করেছে।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় সঞ্জয় জানান, বিশ্ববিদ্যালয়য়ে ভর্তি ফরম খুলনায় এক কম্পিউটার সেন্টার থেকে পুরণ করে আমার প্রবেশপত্র সংগ্রহ করে দেয় মেহেদী (ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি)। পরীক্ষা শুরুর আগে আমরা বুঝতে পারি আমাদের একই রোল।

জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে মো. মেহেদী ফোন করে মেহেদীকে (ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি) কলা ভবনের সামনে আসার জন্য বলে এবং তাকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসা হয়।

মেহেদী (ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি) সঞ্জয়ের কথার সঙ্গে একমত পোষণ করে।

জালিয়াতির সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা না থাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত মো. মেহেদীকে মুক্তি দেওয়ার এবং তার উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে পরামর্শ দেয়।

এদিকে, ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি চেষ্টার অভিযোগে কিছু ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসসহ(এগুলো দিয়ে পরীক্ষায় জালিয়াতি করা হয় সাধারণত) শুক্রবার রাতে ঢাবি প্রশাসনের সহায়তায় তিনজনকে আটক করেছে গেয়েন্দা পুলিশ বলে এ এম আমজাদ এসময় সাংবাদিকদের জানান।

তিনি বলেন, তিনজনের একজন বিজয় ঢাবি আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। অপর দুজন ভর্তি পরীক্ষার্থী। বিজয়ের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল। ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি চেষ্টার অভিযোগে ডিভাইসসহ শুক্রবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে পশ্চিম রাজাবাজার থেকে বিজয় নামের ওই শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়।

পরে বিজয়ে জবাববন্দীর মাধ্যমে সকাল সোয়া ৮টার দিকে আরও দুইজন ভর্তি পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়।

(দ্য রিপোর্ট/কেএইচ/একেএস/এনআই/অক্টোবর ১৬, ২০১৫)