প্রচ্ছদ » জাতীয় » বিস্তারিত

সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার দাবি শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের

২০১৫ অক্টোবর ১৬ ২২:০৯:২৩
সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার দাবি শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের

লুৎফর রহমান সোহাগ, দ্য রিপোর্ট : ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন তারা এবার চান্স না পেলে দ্বিতীয়বার আর ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন না প্রতিষ্ঠান দুটিতে। আর চান্স পেলে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দেওয়ার প্রয়োজনও পড়বে না। এরপরও এসব শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা ‘পরীক্ষা ভ্রমণের’ ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত পরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন।

শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুটি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা হয় শুক্রবার বিকেলে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সন্তানের পরীক্ষা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন আফজাল হোসেন। চট্টগ্রাম থেকে ছেলেকে সাথে নিয়ে আসা এ অভিভাবক দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বেশকিছুদিন ধরেই সমন্বিত পরীক্ষার আলোচনা শুনছি। কিন্তু তা তো বাস্তবায়ন হল না। দ্রুত এ পদ্ধতি চালু হলে সবাই সুফল পাবে।

তিনি বলেন, ছেলে-মেয়েদের ভর্তি পরীক্ষার জন্য যাতায়াতের ভোগান্তি আছে। ঢাকায় এসে থাকার সমস্যা, বাড়তি টাকা গোনাসহ নানারকম সমস্যা আছে বর্তমান পরীক্ষা পদ্ধতির। সমন্বিত পরীক্ষা হলে এসব কেটে যেত।

ঘটনাস্থলে থাকা আরেক অভিভাবক উজ্জল আহমেদ দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় এসেছি। আবার চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেটে দৌড়াদৌড়ি করতে হবে। একসাথে পরীক্ষা নিলে তো এ ঝামেলায় পড়তে হত না। পরীক্ষার্থী-অভিভাবকদের ভোগান্তি কমত।

পুরান ঢাকার বাংলাবাজার স্কুলে পরীক্ষা দেওয়া সানবীন আহমেদ দ্য রিপোর্টকে বলেন, ঢাবিতে সকালে পরীক্ষা দিয়ে জবিতে পরীক্ষা দিলাম। আশা করছি চান্স পাব।

তিনি বলেন, আমি চান্স পাই আর না পাই, প্রতিবছর তো পরীক্ষা হবেই। দেখা যায়, একজন পরীক্ষার্থী একটি নতুন জায়গায় গিয়ে নানা ঝামেলায় পড়েন। ফলে তার যে প্রস্তুতি তাও সে কাজে লাগাতে পারেন না। একসাথে পরীক্ষা নিলে পরীক্ষার্থীদের টেনশন কমবে।

বেশ কয়েকবছর ধরেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সমস্ত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে একই পরীক্ষার আওতায় আনতে সমন্বিত পরীক্ষা পদ্ধতি চালুর চেষ্টা করলেও ‘বড়’ বিশ্ববিদ্যালগুলোর অনীহার কারণে তা আলোর মুখ দেখেনি।

এর আগে ২০১৩ সালেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সব উপাচার্যকে নিয়ে বৈঠক করে ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) ভর্তিতে এক পরীক্ষার মাধ্যমে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের সুযোগ দিতে এ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এরপর ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি পরীক্ষায় মাত্র দুইজন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হওয়ার পর এ ধরনের ভর্তি প্রক্রিয়াকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ মন্তব্য করে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ থেকেই গুচ্ছ পদ্ধতি চালুর ঘোষণা দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী।

এ সময় তিনি সমালোচনা করে বলেছিলেন, ‘ভর্তি বাণিজ্য, কোচিং-গাইড বাণিজ্যের জন্যই অনেকে এ পদ্ধতির বিরোধিতা করছে।’

তবে অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের উদ্যোগে ২০১৪ সালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এ পদ্ধতির ভর্তি কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে আঞ্চলিক অগ্রাধিকারের দাবিতে সিলেটের স্থানীয়দের আন্দোলনের পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ পদ্ধতির ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।

বর্তমানে মেডিকেল কলেজগুলোতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মাধ্যমে সমন্বিত পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে। এ ছাড়া এইচএসসি ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রেও অনেকটা এ ধরনের পদ্ধতি চালু হয়েছে সম্প্রতি।

(দ্য রিপোর্ট/এলআরএস/একেএস/এনআই/অক্টোবর ১৬, ২০১৫)