Airtel & Robi User Only

প্রচ্ছদ » অর্থ ও বাণিজ্য » বিস্তারিত

চট্টগ্রাম বন্দরে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল উদ্বোধন

২০১৫ অক্টোবর ১৭ ১৮:২৬:১২
চট্টগ্রাম বন্দরে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল উদ্বোধন

চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রাম বন্দরের বহুল আলোচিত নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) অবশেষে চালু হয়েছে। শনিবার বিকেলে টার্মিনালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। বহু আন্দোলন-সংগ্রাম, বাধা-বিপত্তি শেষে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার প্রায় আট বছর পর এর উদ্বোধন হল।

বন্দরের এনসিটির ২ নম্বর জেটিতে উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, শুধু যুদ্ধাপরাধী খুনীদের বিচার নয়, বিএনপি-জামায়াত জোট আন্দোলনের নামে যে শত শত মানুষ খুন করেছে, সেগুলো বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে। তিনি বলেন, বিশ্ব যখন অবাক বিস্ময়ে দেখছে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, সে মুহূর্তে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াত জোট হত্যা রাজনীতি শুরু করেছিল। বাংলাদেশের মানুষ সম্মিলিতভাবে তাদের প্রতিহত করেছে।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের সহায়তায় চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যসক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার এ্যাডমিরাল নিজাম উদ্দিন আহমেদ সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন— চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, স্থানীয় সংসদ সদস্য এম এ লতিফ, শামসুল হক চৌধুরী, টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়া সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার রুহুল আমীন। এ ছাড়া বন্দর ব্যবহারকারী ও সিএ্যান্ডএফ এজেন্টস নেতা ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, এনসিটি টার্মিনালের পাঁচটি জেটির মধ্যে একটি বন্দরের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। বাকি চারটি জেটি পরিচালনার জন্য দায়িত্ব পেয়েছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বহুল আলোচিত এই টার্মিনালে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ শুরু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা প্রায় দ্বিগুণ হবে। এতে বন্দরে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ গতিশীল হওয়ার পাশাপাশি বাড়বে প্রবৃদ্ধি।

এনসিটি নির্মাণ শুরু হয় ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হয়। এতে চট্টগ্রাম বন্দরের খরচ হয় ৪৬৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। পরে দু’টি জেটির পেছনের কনটেইনার রাখার চত্বর তৈরিতে ব্যয় হয় প্রায় ৯৮ লাখ টাকা।

বেসরকারি অপারেটর যন্ত্রপাতি কিনে টার্মিনাল পরিচালনা করবে এবং নির্দিষ্ট সময় পর বন্দরকে হস্তান্তর করবে (এসওটি) এই নীতিতে টার্মিনালটি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ২০০৭ সালে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সব কাজ গুছিয়ে আনা হয়।

২০০৯ সালে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিশ্বখ্যাত চারটি প্রতিষ্ঠানকে (হাচিসন পোর্ট ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, ডিপি ওয়ার্ল্ড, এপিএম টার্মিনালস এবং ইন্টারন্যাশনাল কনটেইনার সার্ভিসেস) দরপত্রে অংশ নেওয়ার যোগ্য নির্বাচিত করা হয়।

২০০৯ সালের নভেম্বরে দরপত্র জমা দেওয়ার সময়ও নির্ধারণ করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে তৎকালীন সংসদীয় কমিটি এই প্রক্রিয়ায় বাধা দেয়। ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক সভায় দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দিতে এই দরপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বন্দর কর্তৃপক্ষ দরপত্র বাতিল করে। এরপর দেশীয় সাইফ পাওয়ারটেক ও বিদেশী পিএসএ ইউরোপ নামে আরও দু’টি প্রতিষ্ঠানকে দরপত্রে অংশ নেওয়ার যোগ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়।

মামলা পাল্টা মামলায় দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার পর দুইভাগে চারটি জেটি পরিচালনায় অপারেটর নিয়োগের দরপত্র আহ্বান করা হয়। এর মধ্যে দু’টি যৌথভাবে ও দু’টি এককভাবে পরিচালনার জন্য যোগ্য বিবেচিত হয় সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড।

এদিকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব সাইফ পাওয়ার টেককে না দিতে চট্টগ্রামজুড়ে তীব্র আন্দোলন শুরু করেছিলেন চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে বন্দর সংশ্লিষ্ট শ্রমিকলীগ। বেশ কয়েক মাস ঘেরাও, অনশন সভা-সমাবেশ করে ব্যাপক তোড়জোর ফেলে দিলেও মহিউদ্দিন চৌধুরী সে আন্দোলন পরবর্তী সময়ে ধাপে টিকেনি।

সাইফ পওয়ারটেক অবশেষে চট্টগ্রামের বর্তমান মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাসির উদ্দিন এবং ফেনীর নিজাম হাজারীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সাথে নিয়ে যৌথভাবে এনসিটির কাজ পরিচালনা করছেন।

(দ্য রিপোর্ট/এমডি/সা/অক্টোবর ১৭, ২০১৫)