প্রচ্ছদ » ফুটবল » বিস্তারিত

‘জার্সির ভার’ই ভরসা মোহামেডানের

২০১৫ অক্টোবর ১৭ ২০:০৩:১৮
‘জার্সির ভার’ই ভরসা মোহামেডানের

খাদেমুল ইসলাম, দ্য রিপোর্ট : প্রতিপক্ষ দলগুলো সম্পর্কে ধারণা নেই। তবে নিজ নিজ দেশে যে দলগুলো সেরাদের তারাই হচ্ছে প্রতিপক্ষ। সেই কঠিন লড়াইয়ের জন্য খেলোয়াড় সংগ্রহ বা প্রস্তুতির সন্তোষজনক অগ্রগতি নেই। ঠিক এ অবস্থায় শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ চ্যাম্পিয়নশিপে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডের ভরসা এখন একটাই- ‘জার্সির ভার’। ধারে না কাটলেও ভারে কাটার আশায় জাল বুনছেন দলটির খেলোয়াড়-কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রামে শেখ কামাল টুর্নামেন্ট শুরু হবে আগামী ২০ অক্টোবর। দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে দেশীয় ৩টিসহ মোট ৮টি ক্লাব পর্যায়ের দল টুর্নামেন্টের প্রথম আসরে অংশ নিচ্ছে। প্রতিযোগিতার সূচি চূড়ান্ত হয়ে গেছে। ঢাকা মোহামেডান খেলছে ‘এ’ গ্রুপে। যেখানে তাদের ৩ প্রতিপক্ষই বিদেশী। বাকি দলগুলো হল কলকাতা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, আফগানিস্তানের বাজান এফসি এবং শ্রীলঙ্কার সলিড এসসি। ঢাকা মোহামেডানের গ্রুপপর্যায়ে ম্যাচ ৩টি ২১, ২৩ ও ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। তাদের প্রতিপক্ষ যথাক্রমে বাজান এফসি, সলিড এসসি ও কলকাতা মোহামেডান।

কলকাতা ফুটবল লিগে ১১ বারের চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান। গত বছর আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে বাংলাদেশের লিগ চ্যাম্পিয়ন শেখ জামালকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল দলটি। আর শ্রীলঙ্কান ফুটবল লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন সলিড এসসি। প্রতিষ্ঠার বয়স মাত্র ৪ বছর হলেও বাজান এফসি আফগান ফুটবলের উন্নয়নের ধব্জা হাতে নিয়ে ছুটছে, তারা লিগে বর্তমান শিরোপাধারী দল।

দেশের বাইরের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কতটা প্রস্তুত মোহামেডান? এই নিয়ে দলটির খেলোয়াড়-কর্মকর্তারাও সন্দিহান। যদিও মুখে নিজেদের দুর্বলতার কথা স্বীকার করছেন না তারা। চলতি মৌসুমে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে মোহামেডান তৃতীয় হয়েছে। সেখানে সবচেয়ে সফল ফুটবলার ছিলেন গিনির স্ট্রাইকার ইসমাইল বাঙ্গুরা। যিনি লিগে করেছেন ১৭ গোল। অথচ তাকেই পাচ্ছে না শেখ কামাল টুর্নামেন্টে। বিদেশী ফুটবলারদের মধ্যে আপাতত মাইকেলইসহ ৪ জন।আশার দিক হচ্ছে জাতীয় দলের ৩ ফুটবলার থাকছে মোহামেডানের এই টুর্নামেন্টে। স্ট্রাইকার নাবিব নেওয়াজ জীবন ও ডিফেন্ডার ফয়সাল মাহমুদকে নিয়েছে ধারে। জাতীয় দলের আরেক ফরোয়ার্ড জুয়েল রানা খেলেন মোহামেডানেই। স্বল্প সময়ের মধ্যে জাতীয় দলে ডাক পেয়েই বেশ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন জুয়েল। জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকায় ফিটনেস ভাল তার। কিন্তু দুই পায়ে ব্যথা রয়েছে তার। ব্যথা নিয়েই গত ১৩ অক্টোবর কিরগিজস্তানের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচ খেলেছেন। মিডফিল্ডার মাশুক মিয়া জনি ও উইঙ্গার মো. ইব্রাহিম খেলেছেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলে। ক্যাম্পে থাকায় ফিটনেস নিয়ে তাদেরও খুব বেশি সমস্যা হবে না। তবে তরুণ এই দুই ফুটবলারের মধ্যে ইব্রাহিমের এ্যালার্জিজনিত কারণে শরীর ফুলে গেছে।

তারপরও এ টুর্নামেন্ট নিয়ে আশাবাদী দলের খেলোয়াড়রা। ফরোয়ার্ড তৌহিদুল আলম সবুজ বলেছেন, ‘চলতি মাসের শুরু থেকে ক্যাম্প চলছে। সকালে বাফুফে টার্ফে আমরা অনুশীলন করছি। মোহামেডান ঐতিহ্যবাহী ক্লাব। এই দলের জার্সি পরলে আলাদা একটা স্পিরিট কাজ করে। আশা করছি ভাল কিছু করতে পারব আমরা।’ অনূর্ধ্ব-১৯ দলে অধিনায়কত্ব করেছেন মাশুক মিয়া জনি। তিনিও আশাবাদী দল নিয়ে। বলেছেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি ভাল। আশা করছি ভাল কিছু করে দেখাতে পারব।’ ফরোয়ার্ড জুয়েল রানা অবশ্য পায়ের ব্যথা নিয়ে কিছুটা চিন্তিত। তিনি বলেছেন, ‘ব্যথা নিয়েই তো কিরগিজস্তানের বিপক্ষে খেলেছি। এখানেও হয়তো খেলতে হবে।’

দলের অধিনায়ক অরূপ কুমার বৈদ্য আশা করছেন তারা সেমিফাইনালে খেলতে পারবেন। তিনি বলেছেন, ‘সারা দেশে মোহামেডানের কোটি কোটি সমর্থক আছে। তাদের মুখ উজ্জ্বল করার স্বপ্ন অবশ্যই থাকবে আমাদের। তাই আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য থাকবে সেমিফাইনালে খেলা। পরবর্তী লক্ষ্য নিয়ে এরপর ভাবব।’

মোহামেডান দলের সহকারী ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ নকীবেরও প্রাথমিক লক্ষ্য সেমিফাইনাল। যদিও ইসমাইল বাঙ্গুরার না আসায় কিছুটা চিন্তিত তিনি। এরপরও দেশের ভিতর থেকে কিছু খেলোয়াড়র সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন সাবেক এই তারকা ফুটবলার। যদিও শুক্রবার রাত পর্যন্ত নতুন করে খেলোয়াড় পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতি হয়নি। রাতে মোহামেডানের ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবু এমনটিই জানিয়েছেন।

কোচ জসিমউদ্দিন জোসি দলের প্রস্তুতি নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন। তিনি বলেছেন, ‘আমি তো চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য ফাইট দেব। তবে বাস্তবতাও মানতে হবে। কারণ আমাদের দলে মাত্র জাতীয় দলের ৩ ফুটবলার জুয়েল, জীবন ও ফয়সাল আছে। তাদের হয়তো ফিটনেসের ঘাটতি হবে না। অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলা জনি ও ইব্রাহিমের ক্ষেত্রেও তাই। কিন্তু বাকিরা তো লিগ শেষ হওয়ার পর বসে ছিল। অনুশীলনে এখনো পুরো দলকে পাইনি। এমন দল নিয়ে ভাল কিছু করা কঠিন।’

ক্লাবের অন্যতম পরিচালক সারোয়ার হোসেন বলেছেন, ‘আমাদের টার্গেট সেমিফাইনাল। দল সেভাবে শক্তিশালী না হলেও আমরা নিজের দেশে খেলছি। এটাই আমাদের অনুপ্রাণিত করবে। আমাদের প্রতিপক্ষ ৩ দলই বিদেশী। প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারলে আমরা আমাদের টার্গেট পূরণ করতে পারব। ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে শেস মুহূ্র্তে বাঙ্গুরাকে পাওয়া যায়নি। এলিটাকেও ছেড়ে দিতে হয়েছে। তবে মোহামেডানের জার্সি গায়ে শেষ পর্যন্ত ৪ বিদেশীকে দেখা যাবে।’

আশা-হতাশার এই দোলাচলে দুলতে দুলতেই রবিবার চট্টগ্রামের পথ ধরার কথা রয়েছে মোহামেডান দলের। সেখানে ৩ দিনের প্রস্তুতি শেষে অজানা প্রতিপক্ষের বিপক্ষে শুরু হবে লড়াই। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সেই লড়াইয়ে কতটা ভাল ফুটবল উপহার দিতে পারে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি-তাই এখন দেখার বিষয়।

(দ্য রিপোর্ট/কেআই/এএস/এনআই/অক্টোবর ১৭, ২০১৫)