প্রচ্ছদ » শিক্ষা » বিস্তারিত

নাইজেরিয়ার শিক্ষার্থীর চোখে বাংলাদেশ

২০১৫ অক্টোবর ১৭ ২১:৫৯:৪৩
নাইজেরিয়ার শিক্ষার্থীর চোখে বাংলাদেশ

লুৎফর রহমান সোহাগ, দ্য রিপোর্ট : যুক্তরাজ্যে আইনে পড়াশোনা করে এখন বাংলাদেশের ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে একই বিষয়ে পড়াশোনা করছেন নাইজেরিয়ার আদু সালেহ খলিল। এমন আরও অনেক নাইজেরিয়ান শিক্ষার্থীর দেখা মেলে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে। সম্প্রতি বাংলাদেশসহ অন্যান্য বিষয়ে তাদের সাথে কথা হয়েছে দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফের ডটকমের।

ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া আদু সালেহ খলিল, আব্দুল্লাহ, আয়শা ও সীমাসহ বেশ কয়েকজন নাইজেরিয়ান শিক্ষার্থীর সম্পর্ক বন্ধুত্বের। বাংলাদেশ নিয়ে তাদের অনুভূতিও প্রায় একইরকম। তারা জানালেন, আদু সালেহ খলিলই তাদের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারবেন।

খলিল ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে আইনে উচ্চতর ডিগ্রি নিতে বাংলাদেশে আসেন। বাংলাদেশে আসার বিষয়ে দ্য রিপোর্টকে তিনি বলেন, আগে আমি যুক্তরাজ্যে আইন নিয়ে পড়াশোনা করেছি। পরে জানতে পারি আমার দেশের অনেক বন্ধু ড্যাফোডিলে পড়াশোনা করছেন। তাই বিদেশী শিক্ষাবিষয়ক একটি এজেন্সির মাধ্যমে এখানে পড়তে এসেছি।

বেশ কয়েকবছর ধরেই তেলসমৃদ্ধ দেশ নাইজেরিয়ায় অস্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করছে। ২০০১ সালে দেশটিতে সশস্ত্র সংগঠন বোকো হারামের প্রকাশ ঘটে। সংগঠনটি দেশটির প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা, গণতন্ত্র ও পশ্চিমা শিক্ষাব্যবস্থাকে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে ভাবে।

তবে বাংলাদেশ ও নাইজেরিয়ার আইনী কাঠামো প্রায় অভিন্ন হওয়ায় দেশটির অনেক শিক্ষার্থী বাংলাদেশে আইন নিয়ে পড়তে আসে।

১০৬৬ সালে নরম্যানদের ইংল্যান্ড বিজয়ের পর রাজতন্ত্রের যাত্রার পর থেকেই ‘কমন ল’ ব্যবস্থার উৎপত্তি হয়। এ আইনী ব্যবস্থা বিচারকরা উন্নত করেছে তাদের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে, যাকে বলা হয় স্টেয়ার ডেসাইসিস।

আধুনিক বিশ্বে বিদ্যমান আইনী ব্যবস্থাগুলোর অন্যতম উৎস ‘কমন ল’। বাংলাদেশ, নাইজেরিয়াসহ ৮০টির মতো দেশে এ ব্যবস্থা প্রচলিত। এর প্রতিটি দেশেই ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিল।

বাংলাদেশে আইন নিয়ে পড়ার বিষয়ে আদু সালেহ খলিল বলেন, বাংলাদেশ ও নাইজেরিয়ার আইনী ব্যবস্থা ‘কমল ল’-এর মাধ্যমে পরিচালিত। দু’টি দেশের বিচারব্যবস্থা একই, দেশীয় আইনের কিছুটা ভিন্নতা থাকলেও দেশ দু’টির আইনের মূল স্ট্রাকচার একই রকম।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে পড়া শেষ করে দেশে ফিরে যাব। সেখানে প্র্যাকটিস করব, পাশাপাশি দেশীয় আইন নিয়ে আরও পড়াশোনা করব। তবে এখানকার সার্টিফিকেট ওখানে খুব কাজে লাগবে আমার।

বাংলাদেশের ভাল-মন্দ দিক নিয়েও কথা হয়েছে এ শিক্ষার্থীর সঙ্গে। তিনি বলেন, এ দেশের মানুষের আন্তরিকতা ও অাতিথেয়তা আমাদের মুগ্ধ করেছে।

তবে মুগ্ধতার বিপরীতে কিছুটা তিক্ত অভিজ্ঞতাও আছে এ নাইজেরিয়ানের। বাংলাদেশে আসার পর দীর্ঘদিন বাংলাদেশী বন্ধুদের নিয়েও বাসা খুঁজে পাননি তিনি। কোন কোন বাসা থেকে থাকার বিনিময়ে বাংলাদেশী বন্ধুদের জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দেওয়ার শর্তও আরোপ করা হয়েছে। শেষমেশ তার ঠাঁই হয় ধানমণ্ডির একটি বাসায়, বাসার অপ্রাপ্যতার কারণে এ বাসাতেই বেশ কয়েকজন নাইজেরিয়ান বসবাস করছেন।

বাংলাদেশে নাইজেরিয়ানদের বিশ্বস্ততার এ সংকটের তিক্ততা তুলে ধরে তিনি বলেন, এখানে যানজট অনেক বেশি। আর বাসা ভাড়া দিতে চায় না কেউ। তারা আমাদের বিশ্বাস করে না। আরেকটি সমস্যা হচ্ছে এখানকার সবাই ইংরেজি বোঝে না। ফলে চলাফেরায় কিছুটা সমস্যা হয়।

বাংলাদেশে নাইজেরিয়া অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যাপারে তিনি বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি নাইজেরিয়া, সোমালিয়া ও কাজাখস্তানের অনেক শিক্ষার্থী দেখেছি। তারা ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল, সায়েন্স, ইংরেজি, আইন ইত্যাদি বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করছে।

(দ্য রিপোর্ট/এলআরএস/এপি/এমডি/সা/অক্টোবর ১৭, ২০১৫)