প্রচ্ছদ » অর্থ ও বাণিজ্য » বিস্তারিত

‘মার্কিন নীতি বাংলাদেশের জন্য স্বস্তিদায়ক ছিল না’

২০১৫ অক্টোবর ১৮ ১৪:০৬:২৭
‘মার্কিন নীতি বাংলাদেশের জন্য স্বস্তিদায়ক ছিল না’

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি বাংলাদেশের জন্য স্বস্তিদায়ক নয় বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন এবং বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ-এর বার্ষিক সাধারণ সভায় যোগদান শেষে দেশে ফিরে রবিবার সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিং-এ তিনি এ মন্তব্য করেন।

দেশে বিদেশী নাগরিক হত্যা এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন সতর্ক বার্তার বিষয়ে একাধিক প্রশ্নের জবাবে মুহিত বলেন, ‘গত সাত বছর ধরে ইউএসএ একই পলিসি কনটিনিউ করছে। ইউএস পলিসি ওয়াজ নট কমফোর্টেবল ফর আস। ইটস নট ম্যাটার ইন দ্য কান্ট্রি।’

তিনি বলেন, ‘এটা তাদের (যুক্তরাষ্ট্র) পলিসি, এর খুব বেশি পরিবর্তন হবে বলে মনে হয় না। তবে এতে আমরা খুব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি না। আমাদের অর্থনীতিও এতে তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। এটা নিয়ে হৈ চৈ করারও কিছু দেখি না। বাংলাদেশ ও রাশিয়া দুটি দেশের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এ পলিসি নিয়েছে।’

‘বাংলাদেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কেন এই নীতি নিয়েছে’ জানতে চাইলে মুহিত বলেন, ‘এটা তাদের নীতি, এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।’

সম্প্রতি বাংলাদেশে দুই বিদেশী খুনের ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নিউইয়র্কে প্রতিদিন কতজন বাঙালী মারা যায় সেটা হিসাব করেন। মানুষ হত্যা, বিশেষ করে সিটিতে হত্যার রেকর্ড-হোল্ডার হল ইউনাইটেড স্টেট। এভরি হোয়ার ইট হ্যাপেন্ড, ল এ্যান্ড অর্ডারে প্রবলেম থাকে। বাংলাদেশের ল এ্যান্ড অর্ডার ইজ ওয়ানডারফুল।’

প্রেস ব্রিফিং-এ সফরের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৮ শতাংশ হবে বলে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ পূর্বাভাস ব্যক্ত করেছে। তবে আমি মনে করি, প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশই অর্জিত হবে।’

এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘এখন দেশে কোনো হরতাল নেই। দেশের অর্থনীতির স্বার্থে জনগণ এখন এ ধরনের কর্মসূচি মেনে নেবে না। এটা আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। দুষ্টু পলিটিক্স যারা করেন তাদের জন্য এটা বড় একটি সতর্ক বার্তা।’

অন্যান্য বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ-এর বৈঠকে বিদ্যুৎ, অবকাঠামো ও কানেক্টিভিটি খাতে আইডিএ ঋণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্বব্যাংকের কাছে বাজেট সহায়তা বাবদ যে ৫০ কোটি ডলার চাওয়া হয়েছে সেটা একটা চলমান প্রক্রিয়া ’

‘টাকা বন্ড আগামী ৬ মাসের মধ্যে ছাড়া হবে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, পদ্মা সেতুতে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।’

প্রসঙ্গ : পে-স্কেল, টাইম স্কেল-সিলেকশন গ্রেড ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আন্দোলন

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অলরেডি শিক্ষামন্ত্রী এ নিয়ে কথাবার্তা বলেছেন। শিক্ষকরা একটা বিশেষ অবস্থানে পৌঁছেছেন, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’

তিনি বলেন, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিল করে সরকার বছরের একই দিন একই সঙ্গে সব সরকারি চাকুরের চক্রবৃদ্ধিহারে বেতন বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা অনেকেই বুঝতে পারছেন না। টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিল করে যে ব্যবস্থা করা হয়েছে একটা নির্দিষ্ট স্তরে পৌঁছার পরে পরবর্তী স্কেলে ঢুকে যাবে। এটাই বাস্তবায়ন হবে।’

তিনি বলেন, যারা এটা নিয়ে কথা বলছে তারা বুঝতে পারছেন না, অর্ডার (অষ্টম বেতন কাঠানোর প্রজ্ঞাপন) বের হলে তখন বুঝতে পারবে।

অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রটি চলতি মাসেই কিংবা নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে জারি করা হবে।

(দ্য রিপোর্ট/এনটি/এসআর/এপি/আরকে/অক্টোবর ১৮, ২০১৫)