প্রচ্ছদ » জেলার খবর » বিস্তারিত

রাজন হত্যা

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ, যুক্তি উপস্থাপন ২৫ অক্টোবর

২০১৫ অক্টোবর ১৮ ২০:২৫:৪৪
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ, যুক্তি উপস্থাপন ২৫ অক্টোবর

সিলেট অফিস : সিলেটে শিশু সামিউল আলম রাজন (১৩) হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। আগামী ২০ অক্টোবর আসামি পরীক্ষা ও ২৫ অক্টোবর এই মামলার যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে।

মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আকবর হোসেন মৃধার আদালতে রবিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক সুরঞ্জিত তালুকদার সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে চাঞ্চল্যকর এই মামলা সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।

রবিবার দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা সোয়া ৬টা পর্যন্ত তার সাক্ষ্য নেওয়া হয়। এ নিয়ে মামলাটির ৩৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হল।

শেষ দিনের সাক্ষ্যগ্রহণের সময় সৌদি আরব থেকে ফেরত আনা মামলার প্রধান আসামি কামরুল ইসলামসহ ১১ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী কৌঁসুলি (এপিপি) এ্যাডভোকেট মাসুক আহমদ দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমকে এ সব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিট পর্যন্ত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুরঞ্জিত তালুকদারের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। এর আগে এ মামলায় ৯ কার্যদিবসে ৩৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে।

এ্যাডভোকেট মাসুক আহমদ আরও জানান, ২০ অক্টোবর ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামি পরীক্ষা করা হবে। এরপর ২৫ অক্টোবর এই মামলার যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে।

প্রসঙ্গত, গত ৮ জুলাই সিলেট নগরীর কুমারগাঁওয়ে চোর অপবাদ দিয়ে শিশু রাজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। রাজনকে নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে ঘাতকরা ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায় দেশে-বিদেশে তোলপাড় শুরু হয়।

শিশু রাজনকে হত্যার পর দুপুরে লাশ গুম করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে আটক হন মুহিত। স্থানীয়দের দাবি, একই সময় তারা সৌদি প্রবাসী কামরুল ইসলামকে ধাওয়া করেন। কিন্তু পরে সে সৌদি আরবে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় কামরুলসহ অভিযুক্তদের নামে মামলা করতে গেলে জালালাবাদ থানা পুলিশ রাজনের বাবার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। এমন অভিযোগে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এস এম রোকন উদ্দিনকে প্রধান করে গত ১৪ জুলাই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বর্ধিত সময়ে গত ২৪ জুলাই ৪২৪ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্ত কমিটি।

দায়িত্বে অবহেলার কারণে ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) আলমগীর হোসেন, মামলার বাদী উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম, উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেনকে বরখাস্ত করা হয়। আলমগীরকে ২৭ জুলাই ও দুই এসআইকে ২৪ জুলাই জালালাবাদ থানা থেকে বরখাস্ত করা হয়।

সূত্র জানায়, গত ৮ জুলাই স্থানীয়দের হাতে ধাওয়া খেয়ে ৯ জুলাই ঢাকা থেকে সৌদির উদ্দেশে যাত্রা করেন কামরুল। ১০ জুলাই সেখানে পৌঁছে আত্মগোপন করেন। এর মধ্যে রাজন হত্যার নির্মম ভিডিও চিত্রে দেশে-বিদেশে তোলপাড় শুরু হয়। রাজনকে পৈশাচিক কায়দায় নির্যাতনকারী কামরুল সৌদিতে পালিয়ে গেছে এমন খবরে ক্ষোভ বাড়ে সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে। পরে ১৩ জুলাই প্রবাসীরা কামরুলকে আটক করে সৌদি পুলিশের হেফাজতে দেন। ইন্টারপোলের মাধ্যমে পুলিশ তাকে ১৫ অক্টোবর কামরুলকে দেশে নিয়ে আসে।

চাঞ্চল্যকর এ মামলায় ১৬ আগস্ট ডিবি পুলিশের পরিদর্শক সুরঞ্জিত তালুকদার ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন— সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদের কুমারগাঁও এলাকার শেখপাড়া গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে কামরুল ইসলাম, তার সহোদর মুহিত আলম (৩২), আলী হায়দার ওরফে আলী (৩৪), শামীম আহমেদ (২০), সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ঘাগটিয়া গ্রামের অলিউর রহমান ওরফে অলি উল্লাহর ছেলে মো. জাকির হোসেন পাভেল ওরফে রাজু (১৮), জালালাবাদ থানার পীরপুর গ্রামের মৃত মব উল্লাহর ছেলে সাদিক আহমদ ময়না ওরফে বড় ময়না (৪৫), পূর্ব জাঙ্গাইল গ্রামের মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিনের ছেলে ভিডিওচিত্র ধারণকারী নূর আহমদ ওরফে নুর মিয়া (২০), শেখপাড়া গ্রামের আলাউদ্দিন আহমদের ছেলে দুলাল আহমদ (৩০), সুনামগঞ্জের দোয়ারা উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরগাঁওয়ের মোস্তফা আলীর ছেলে আয়াজ আলী (৪৫), শেখপাড়া গ্রামের সুলতান মিয়ার ছেলে তাজউদ্দিন আহমদ ওরফে বাদল (২৮), সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের দক্ষিণ কুর্শি ইসলামপুর গ্রামের মজিদ উল্লাহর ছেলে মো. ফিরোজ আলী (৫০), কুমারগাঁওয়ের সেলিম উল্লাহর ছেলে আজমত উল্লাহ (৪২) ও হায়দরপুর গ্রামের সাহাব উদ্দিনের ছেলে রুহুল আমিন রুহেল (২৫)।

এদের মধ্যে কামরুল ইসলাম, শামীম আহমেদ ও পাভেলকে পলাতক দেখানো হয়। পরে কামরুল ইসলামকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

শিশু রাজন হত্যার এ মামলায় আদালতে আটজনের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী নেওয়া হয়।

(দ্য রিপোর্ট/একেএস/সা/অক্টোবর ১৮, ২০১৫)